Home /News /local-18 /
Jalpaiguri News: পথভোলা পথিক নয়, সম্বর হরিণকে জঙ্গলে ফেরাল বনকর্মীরা

Jalpaiguri News: পথভোলা পথিক নয়, সম্বর হরিণকে জঙ্গলে ফেরাল বনকর্মীরা

পথভোলা [object Object]

 ঘটনাটি ঘটেছে, গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বড়দিঘি চা বাগান এলাকায়। মস্ত বড়ো এমন হরিণ দেখে হৈচৈ পড়ে যায় বড়দিঘি চা বাগানের শ্রমিক মহল্লায়। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে

  • Share this:

    #জলপাইগুড়ি:  আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি... গানটা মনে আছে তো? আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনই এক পথভোলা 'পথিক'-কে দেখা গেল এদিন। স্থানীয় সূত্রে খবর, চা বাগানের ঝোপ থেকে উঁকি দিচ্ছিলেন আবার তিনি। তবে এই পথিক যেই-সেই পথিক নয়, খোদ সম্বর হরিণ। ঘটনাটি ঘটেছে, গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বড়দিঘি চা বাগান এলাকায়। মস্ত বড়ো এমন হরিণ দেখে হৈচৈ পড়ে যায় বড়দিঘি চা বাগানের শ্রমিক মহল্লায়। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। তড়িঘড়ি বন দফতরের কর্মীরা এসে সম্বর হরিণটিকে উদ্ধার করে। এবং 'পথভোলা' সেই সম্বর হরিণকে জঙ্গলেও ফেরায় বনকর্মীরা।

    বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বড়দিঘি চা বাগানে কাজ করতে আসেন চা শ্রমিকেরা। চা গাছের ঝোপ সাফাই করতে গিয়ে তারা দেখতে পান একটি বিশাল আকারের সম্বর হরিণ উঁকি মারছে চা বাগানের ঝোপ থেকে। এরপর তাঁরা খবর দেন বন দফতরের খুনিয়া ওয়াইল্ড  লাইফ স্কোয়াডে। খবর পেয়ে ছুটে আসে স্কোয়াডের কর্মীরা। বন দফতরের কর্মীদের অনুমান, এই পূর্ণ বয়স্ক সম্বর হরিণটি কোনও ভাবে পথ ভুল করে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বড়দিঘি চা বাগানে ঢুকে পরে। এরপর অঞ্চলের চা শ্রমিকদের সহযোগিতায় সম্বরটিকে উদ্ধার করে ফের গরুমারা জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দিল বন দফতরের খুনিয়া ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের কর্মীরা।

    ঘটনায় গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের (Gorumara National Park) এডিএফও (ADFO) জন্মেজয় পাল বলেন, "সম্বর হরিণ চা বাগানে ঢুকেছে এই খবর পেয়ে আমাদের খুনিয়া স্কোয়াডের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে যায়। এরপর হরিণটিকে উদ্ধার করে তার শারীরিক পরীক্ষার পর তাকে ফের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" আরও বলেন, "আসলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গলেই এই সম্বর প্রজাতির হরিণ পাওয়া যায়। হঠাৎই কী করে এই সম্বরটি দলচ্ছুট হয়ে পরেছিল তা বলা যাচ্ছে না। তবে সঠিক সময়ে স্থানীয়রা খবর দেওয়ায় আমরা হরিণটিকে উদ্ধার করতে পেরেছি।"

    বলা বাহুল্য, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারীদের ফলে প্রাণ দিতে হয়েছে বন্যপ্রাণীদের। কখনও পিটিয়ে মারা হয়েছে ভল্লুককে, তো কখনও উদ্ধার করা হয়েছে বাঘের চামড়া। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের অধীন বেলাকোবা রেঞ্জের তরফেও উদ্ধার করা হয় বহুমূল্যে হাতির দাঁত। সেই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

    বন্য-সভ্যের সংঘাত চিরাচরিত। মানুষ বহু সময় আত্মরক্ষায় বন্য প্রাণীর উপর আঘাত হানে। আবার কখনও চোরাকারবারীরা শিকার করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে। তবে এদিনের সম্বর হরিণকে দেখে বন দফতরকে সরাসরি খবর দেওয়া বন্য-সভ্যের সেই চিরাচরিত সম্পর্কে নয়া দিগন্ত বললে ভুল হবে না। এ প্রসঙ্গে গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের (Gorumara National Park) এডিএফও (ADFO) জন্মেজয় পালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "বন্য-সভ্যের সংঘাত রুখতে বন দফতরের তরফে বিভিন্ন সময়ে আমরা সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করে থাকি। হঠাৎ করে হাতি লোকালয়ে চলে এলে, বাঘ চলে এলে এমনকি ভল্লুক চলে এলে কী করণীয় তা নিয়ে আমরা মাঝে মধ্যেই শিবির করি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই প্রচারে সদর্থক ভূমিকা পালন করে। এদিনের সম্বর হরিণটিকে উদ্ধার করা আমাদের সকলের প্রচার শিবিরের সফলতাকে ইঙ্গিত করে।"

    Vaskar Chakraborty

    Published by:Samarpita Banerjee
    First published:

    Tags: Forest departments, Jalpaiguri

    পরবর্তী খবর