Home /News /local-18 /

North Bengal Tea: পাতার দাম পৌঁছেছে তলানিতে, চিন্তায় 'কপালে হাত' ক্ষুদ্র চা চাষীদের

North Bengal Tea: পাতার দাম পৌঁছেছে তলানিতে, চিন্তায় 'কপালে হাত' ক্ষুদ্র চা চাষীদের

শিলিগুড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত এক চা বাগানের ছবি

শিলিগুড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত এক চা বাগানের ছবি

গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে চাপাতার দাম। বর্তমানে তলানিতে এসে ঠেকেছে। কাঁচাপাতার ন্যায্য দাম মিলছে না ক্ষুদ্র চা চাষীদের

  • Share this:

    শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি: একই রামে রক্ষে নেই, তায় সুগ্রীব দোসর! টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি নদীতে বৃদ্ধি পেয়েছে জলস্তর। পাহাড়ি তিস্তা থেকে সমতলের তিস্তা; বিভীষিকা রূপ ধারণ করেছে সর্বত্র। এদিকে পাহাড়ে নানান জায়গায় ধস, অন্যদিকে শিলিগুড়ির বালাসন সেতুর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত। দূরপাল্লার সমস্ত যানবাহনকে চলাচল করতে হচ্ছে ঘুরপথে। এদিকে নাজেহাল হতে হচ্ছে সমস্ত যাত্রীদেরই। তবে গোদের ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে চাপাতার দাম (North Bengal Tea)। যা বর্তমানে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

    কাঁচা পাতার ন্যায্য দাম মিলছে না ক্ষুদ্র চা চাষীদের। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কাঁচা পাতা কেজি প্রতি ৬-৮টাকায় বিকিয়েছে (tea leaf prices) । আর তাতেই এখন কপালে হাত ক্ষুদ্র চা চাষীদের। অভিযোগ, এবিষয়ে আগেও সরব হতে দেখা গিয়েছিল চা চাষীদের। বারংবার নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা বলেও কোন সুরাহা মিলছে না। এমনকি অভিযোগ কোথায়, কাকে, কিভাবে করা হবে তা নিয়েও সংশয় চাষীদের একশ্রেণীর মনে। কারণ জেলা টি বোর্ডের সমস্ত আধিকারিকই বর্তমানে নাকি ছুটিতে! চাষীদের মধ্যে অনেকেই ফোন করলেও কেউ ফোন তুলছে না। এমনই অভিযোগ ক্ষুদ্র চা চাষীদের একাংশের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা চাষী বলেন, 'আমরা পড়েছি মহাবিপাকে। কেজিপ্রতি কাঁচা চা পাতা উৎপাদন খরচের থেকে আমরা চা পাতা বিক্রি করে ১২ টাকা কম পাচ্ছি (tea leaf prices)। উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এই বিপদের সময় টি বোর্ডের কোন সহায়তা পাচ্ছি না। মুখে ক্ষুদ্র চা চাষীদের সমস্যা নিয়ে সমাধানের বড় বড় কথা বলা হলেও, আদতে সবটাই ফাঁকা কলস!'

    এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গের এক চাবাগানের অধিকর্তা বলেন, 'আজ সকালেই আমার এক কর্মী আমাকে বলছিলেন যে ক্ষুদ্র চাষীরা তাদের উৎপাদিত চায়ের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সমস্ত চা পাতা রাস্তার উপর ফেলে দিয়েছেন। সেই চা পাতা মারিয়ে কত লোকই না চলে গেল, কত যানবাহনই না চলে গেল। ভাবতে পারেন কতটা সংবেদনশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে?'

    তিনি বলেন, 'চায়ের মার্কেট সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই (demand and supply) নীতির ওপর। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী যোগান। যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, উত্তরের প্রত্যেকটি চা কেন্দ্রে ডিমান্ড (demand) অর্থাৎ চাহিদা কম, কিন্তু সাপ্লাই (supply) বা যোগান যথেচ্ছ পরিমাণে বেশি। ফলত কালোবাজারি হয়েই চলেছে সবত্র। আর সেই কালোবাজারি গ্রাস করছে এই ক্ষুদ্র চা চাষীদের।'

    অন্যদিকে, তিনি আরও বলেন, 'উত্তরবঙ্গের কিছু চা কেন্দ্র বাদ দিয়ে বাকি সবই সিটিসি (CTC), অর্থোডক্স (orthodox) বা গ্রিন টি (green tea) উৎপাদনে সেই অর্থে সামর্থ্যশীল নয়। এদিকটাও যথেষ্ট পরিমাণে ভাবনার। তবে বৈদেশিক রপ্তানিতে চা পাতা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন বিপনণ কেন্দ্রে গেলে প্রতিটি জিনিসেরই ধার্য করা মূল্য দেখতে পাই। শুধু যা দেখতে পাই না তাহল চাপাতার নির্ধারিত দাম। এই মর্মে টি বোর্ডের (Tea Board) উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা ও সমাধান সূত্র বের করা। এতে শুধু ক্ষুদ্র চা চাষীরা নয়, সামগ্রিকভাবে চাপ বলয়ের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি মানুষ তথা প্রত্যেকটি ইন্ডাস্ট্রি (Tea Industry) লাভবান হবে।'

    একই সুর শোনা গেল ইন্ডিয়ান প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (Terai Indian Planter's Association) চেয়ারম্যান (Chairman) মহেন্দ্র বানসালের (Mahendra Bansal) গলায়। তিনি বলেন, 'বছরে একটা-দুটো মাস এমন হয় যখন চাপাতার যোগান চাহিদার তুলনায় বেশি হয়। সেই সময় চা পাতার দাম সাধারণ মূল্যের তুলনায় হ্রাস পায়। সেই সাময়িক সময়ের জন্য ক্ষুদ্র চা চাষীরা ধাক্কা খায়। এতে কোনও ভুল নেই। তবে আমাদের চাপাতার চাহিদা-যোগানের অনুপাত ভুললেও হবে না।'

    তবে টি বোর্ডের (tea board) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এদিন একপ্রকার ক্ষোভ উগড়ে তিনি বলেন, 'আসলে এখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘার জমির ওই লাইন মনে যায় যে এ দুনিয়ায় হায় সেই বেশি চায় যার আছে ভুরি ভুরি। সত্যি সরকারের তরফে যত প্রকল্প (scheme) আনা হয় সেগুলি যেন বড় বড় রাঘব বোয়াল সংস্থাগুলোই গিলে খাচ্ছে। ছোটো ছোটো ইন্ডাস্ট্রিগুলোর (industry) অবস্থা চাতক পাখির মতো। আকাশের দিকে হা' করে চেয়ে বসে রয়েছে।'

    তিনি আরও বলেন, 'নেপালের চা ভারতবর্ষে এলে কোনও কর (tax) দিতে হয় না। এদিকে উত্তরবঙ্গ (North Bengal) তথা ভারতবর্ষের (India) চা নেপাল (Nepal), ভুটান (Bhutan), তথা বাংলাদেশ (Bangladesh) গেলে ৪০ থেকে ৯৫ শতাংশ কর (tax) দিতে হয়। ভারতের উৎপাদিত চা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মার খাচ্ছে। গুণগত মানের দিক থেকে ভারতবর্ষের চায়ের বিকল্প নেই। সেখানে নেপালের চায়ের ভারতের বাজারে করমুক্ত ও অবাধ বিচরণ ভারতের চায়ের জন্য অশনি সংকেত।'

    এদিকে জলপাইগুড়ি টি বোর্ডের (Jalpaiguri Tea Board) ডেপুটি ডাইরেক্টরের দপ্তরের (Deputy Director) সঙ্গে বারংবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনরকম সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

    Vaskar Chakraborty

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Tea Garden

    পরবর্তী খবর