• হোম
  • »
  • খবর
  • »
  • local-18
  • »
  • HUNGRY PEOPLE REMAIN LINE FOR FREE MEAL BY SURI POLICE WITH SANDALS AND BRICK SR

লকডাউনে ঘরে ঘরে হাহাকার, দু’বেলা দু'মুঠো খাবার পেতে চটি, ইট দিয়ে লাইন সিউড়িতে

রাজ্যে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই বীরভূম জেলা পুলিশের তরফ থেকে দুঃস্থ দরিদ্র মানুষদের এইভাবে প্রতিদিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্যে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই বীরভূম জেলা পুলিশের তরফ থেকে দুঃস্থ দরিদ্র মানুষদের এইভাবে প্রতিদিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে।

  • Share this:

    Madhab Das

    #সিউড়ি: লকডাউন হোক অথবা কঠোর বিধি-নিষেধ প্রতি ক্ষেত্রেই যে সকল মানুষগুলি সবথেকে নিরুপায় অবস্থায় দিন কাটান তাঁরা হলেন ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষগুলো। অন্যান্য সাধারণ সময় তারা বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ অথবা এর ওর কাছে হাত পেতে নিজেদের অন্নসংস্থান করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে তা বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে দু'মুঠো অন্ন পেতে চটি, ইঁট দিয়ে লাইন দিতে দেখা গেল ওই সকল দুঃস্থ দরিদ্র মানুষদের।

    করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্যে কঠোর লকডাউন চালু হওয়ার পর থেকেই বীরভূম জেলা পুলিশের তরফ থেকে বীরভূমের বিভিন্ন থানা এলাকায় দুপুরের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই খাবার দেওয়া হচ্ছে সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে সিউড়ি থানার পক্ষ থেকে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে আড়াইশো জন দুঃস্থ দরিদ্র মানুষের হাতে এই খাবার তুলে দেওয়া হয়। দিনের ভিত্তিতে প্রায় প্রতিদিন নানান ধরনের পদ থাকে। আর এই খাবার প্রতি মানুষের লাইন করছে এবং লাইন দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে চটি ও ইট।

    লাইন দিতে আসা লাল্টু শেখ, সখি বাউরীদের থেকে জানা যাচ্ছে, দুপুর ১২ টা থেকে খাবার দেওয়া শুরু করা হয়। কিন্তু খাবার নেওয়ার জন্য মানুষের ভিড় এবং লাইন পড়ে সকাল আটটা থেকেই। কেউ কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন আবার কেউ কেউ চটি অথবা ইঁট পেতে লাইন দিয়ে যান। খাবার বিলির সময় এলে যারা ইট এবং চটি পেতে গিয়েছিলেন তাঁরা আসেন এবং সে গুলো সরিয়ে নিজেরা লাইনে দাঁড়ান।

    কিন্তু কেন সকাল থেকে এই লাইন? এবিষয়ে তাঁরা জানিয়েছেন, যদি খাবার না পাওয়া যায়। এই অনিশ্চয়তার কারণে সকাল আটটা থেকে লাইন দেওয়া হয় এবং লাইন দেওয়ার জন্য এমন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। এই ভাবেই গত দিন কয়েক ধরে চলে আসছে সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডের সামনে খাবারের জন্য লাইন।

    প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলা পুলিশের তরফ থেকে দুঃস্থ দরিদ্র মানুষদের এইভাবে প্রতিদিন দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের মেনুতে কোনদিন ভাত, ডাল, মাছ, কোনদিন মাংস আবার কোন দিন শুধু সবজি এবং খিচুড়ি ইত্যাদি নানান পদ থেকে থাকে।

    এই খাবার বিতরণ নিয়ে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, "আমরা চেষ্টা করব যতদিন রাজ্যে কঠোর বিধি-নিষেধ চলছে কতদিন এই খাবার বিতরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের আরও মানবিক হতে হবে এবং সবকিছু মানবিকভাবে দেখতে হবে। আর এরই উদ্যোগ হিসেবে আমাদের এই প্রচেষ্টা।"

    Published by:Simli Raha
    First published: