• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • জলছবির জলযন্ত্রণা, অবিরাম বর্ষণে ভোগান্তি পশ্চিম বর্ধমানের

জলছবির জলযন্ত্রণা, অবিরাম বর্ষণে ভোগান্তি পশ্চিম বর্ধমানের

জলছবির জলযন্ত্রণা, অবিরাম বর্ষণে ভোগান্তি পশ্চিম বর্ধমানের।

জলছবির জলযন্ত্রণা, অবিরাম বর্ষণে ভোগান্তি পশ্চিম বর্ধমানের।

টানা বৃষ্টির জেরে দুর্ভোগের ছবি উঠে আসছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আসানসোল, দুর্গাপুর সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে দুর্ভোগে ?

  • Share this:

    #পশ্চিম বর্ধমান: ইনিংসের প্রথম থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং বর্ষার। বঙ্গে পা রাখার পর থেকেই নিজের আগমন জানান দিচ্ছে বর্ষাকাল। গোটা রাজ্যের মত, পশ্চিম বর্ধমান জেলায ভিজছে টানা বৃষ্টিতে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে আগামীকালও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে। আর টানা বৃষ্টির জেরে দুর্ভোগের ছবি উঠে আসছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আসানসোল, দুর্গাপুর সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বেহাল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে মানুষের। আবার ঘরের ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় রাত কাটাতে হচ্ছে বিনিদ্রায়।

    দুর্গাপুরের শ্রীনগরপল্লী টানা বৃষ্টির জেরে কার্যত জলের তলায়। ঘরের ভেতর জল ঢুকে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শ্রীনগরপল্লী নিচু জায়গা হওয়ার ফলে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল সেখানে এসে জমছে। তাছাড়াও সেখানে নিকাশি ব্যবস্থার হাল বেহাল। এলাকায় হাইড্রেন থাকলেও, তা সংস্কার হয় না। যার ফলে শ্রীনগরপল্লীর রাস্তা, বাড়িঘরগুলি জলের তলায় চলে গিয়েছে। বেশিরভাগ বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েছে জল। টানা বৃষ্টি সেই জল না নামারও কোনও নাম নেই। যার ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রীনগরপল্লীর বাসিন্দাদের। একইভাবে দুর্গাপুরের আরও বেশ কিছু এলাকায় জল জমে দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসছে। টানা বৃষ্টির জেরে জল ছাড়া হচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে। যে কারণে দামোদর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত। কারণ ছাড়াই পরিমাণ বাড়লে, এলাকাগুলি ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অন্যদিকে, আসানসোল সংলগ্ন গোপালনগর এলাকায় বৃষ্টির জেরে ভেঙে পড়েছে বাড়ি। মাঝরাতে হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে গোপালনগরে ওই বাড়িটি। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আওয়াজ শুনে বাড়ির মালিক বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে বাড়ির ভিতরে থাকা গবাদিপশুগুলি বেরিয়ে আসতে পারেনি। বাড়ি ভেঙে পড়ার ফলে গবাদিপশু গুলি আহত হয়েছে। অন্যদিকে বর্ষার সময় বাড়ি থেকে গৃহহীন হয়ে ওই বাড়ির মালিক চরম অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন।

    অন্যদিকে কুলটির একটি পরিত্যক্ত খনি এলাকায় ধস নেমেছে। যদিও ইসিএল কর্তৃপক্ষ জায়গাটিকে ঘিরে রেখেছে। তবে ধস্ নামার কারণে কুলটির বাসিন্দারা আতঙ্কিত রয়েছেন। এভাবে টানা বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে বাড়িতে ফাটল দেখা দিতে পারে অথবা বাড়ি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই আশঙ্কিত হচ্ছেন সেখানকার মানুষজন। অন্যদিকে, আসানসোলের কয়লাঞ্চলে রাস্তার অবস্থা বেহাল। টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে রাস্তা দিয়ে চলা আরও দুস্কর হয়ে উঠেছে। জল জমে কার্যত ড্রেনে পরিণত হয়েছে আন্ডারপাসগুলি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তা গুলিতে প্রাণ হাতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন বাইক চালকরা। চার চাকার গাড়ি যাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে রাস্তাযগুলি। এক্ষেত্রে সেখানকার মানুষ জন ভয় পাচ্ছেন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। তারা বলছেন, যদি কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে এই রাস্তাদিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আসতে বা যেতে পারবে না। তখন বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাতে হতে পারে। সব মিলিয়ে বরুনদেবের অবিরাম বর্ষণে পশ্চিম বর্ধমান ভুগছে জলযন্ত্রণায়।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: