• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • Bangla News| Bardhaman|| অবিরাম বর্ষণে নষ্ট হচ্ছে ফুল-সবজি, সেচের জল পেয়ে চিন্তামুক্ত ধান চাষিরা

Bangla News| Bardhaman|| অবিরাম বর্ষণে নষ্ট হচ্ছে ফুল-সবজি, সেচের জল পেয়ে চিন্তামুক্ত ধান চাষিরা

বিঘের পর বিঘে জমিতে হয়েছে ধানচাষ।

বিঘের পর বিঘে জমিতে হয়েছে ধানচাষ।

Heavy Rain ruined Paddy in West Bardhaman: ক্ষতি হয়েছে বহু কৃষকের। আবার কিছু কৃষকের কাছে এই বৃষ্টি, বরুণদেবের কৃপাবর্ষণ হিসেবে ধরা দিয়েছে।

  • Share this:

    #বর্ধমান: নিম্নচাপের জেরে টানা বর্ষণ প্রভূত সমস্যার সম্মুখীন করেছে দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে। সাধারণ মানুষের যেমন বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ঠিক তেমনভাবে ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। বিশেষ করে সবজি ও ফুলচাষীদের প্রচুর পরিমান ফসল নষ্ট হওয়ার মুখে। অন্যদিকে যে সমস্ত কৃষকরা মরশুমি ধানের চাষ করেছিলেন, তাদের কিছুটা শাপে বর হয়ে ধরা দিয়েছে এই বারিধারা।

    চলতি সপ্তাহে লাগাতার তিন চারদিন ধরে বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। যে তালিকায় বাদ নেই পশ্চিম বর্ধমানও। বঙ্গোপসাগর থেকে বহুদূরে  অবস্থিত ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এই জেলাতেও পড়েছে নিম্নচাপের ছাপ। যে কারণে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ব্যতিব্যস্ত হয়েছেন জেলার মানুষ। ক্ষতি হয়েছে বহু কৃষকের। আবার কিছু কৃষকের কাছে এই বৃষ্টি বরুণদেবের কৃপাবর্ষণ হিসেবে ধরা দিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়, কাঁকসা অঞ্চলে বিঘার পর বিঘা জমিতে ধানের চাষ হয়। জেলার খাদ্য শস্যের জোগান মূলত আসে এখান থেকেই। এইসব জমিগুলিতে বিভিন্ন মরশুমে ধানের চাষ হয়। চাষযোগ্য জমিতেগুলিতে সেচের জন্য ভরসা সেচখালগুলি। ফলে জেলার চাষিদের তাকিয়ে থাকতে হয় সেচ দফতরের দিকে। নভেম্বর মাসে ধান মাঠ থেকে বাড়িতে তোলার আগে, এই সময় সেচের প্রয়োজন হয়। স্বাভাবিকভাবে নিম্নচাপের বৃষ্টিতে সেচের জন্য জল পেয়েছেন কৃষকরা। সেচ দফতরের দিকে তাকিয়ে না থেকে, কৃষি জমিতে সেচের কাজ সম্পূর্ণ করেছেন সহজে। তাই নিম্নচাপের বৃষ্টি অনেক ক্ষতি করেও হাসি ফুটিয়েছে ধান চাষ করা কৃষকদের মুখে।

    অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির ফলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় ভুগছেন সবজি চাষিরা। পুজোর মুখে ক্ষতির বহর টানাতে হবে বলে আশঙ্কায় রয়েছেন ফুলচাষিরাও। এই সময় যারা মরশুমি সবজি চাষ করেছিলেন, তার রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন মাঠের ফসল নিয়ে। কারণ, সবজি চাষের জমিতে জল জমেছে। ফলে সবজিগুলি পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি সবজি গাছের গোড়া পচে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও গুল্মজাতীয় সবজি গাছগুলি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে পুজোর মুখে টানা বৃষ্টিতে ফুল চাষিরাও চিন্তায় রয়েছেন। কারণ এই সময় গাঁদা, রজনীগন্ধা সহ একাধিক ফুলের চাষ করা হয়েছে। চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন মরযশুমি ফুলেরও। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ফুলের গাছগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রয়েছে গাছে পচন ধরার সম্ভাবনাও। স্বাভাবিক তা চিন্তা বাড়িয়েছে ফুলচাষিদের। ফুলগাছ নষ্ট হলে ফুলের উঁপাদন কম হবে। অথচ এই পুজোর মরশুমে বিভিন্ন ফুলের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। এটাই ফুলচাষিদের কাছে লাভ ঘরে তোলার আদর্শ সময়। কিন্তু উৎপাদন কমে যদি চাহিদা অনুযায়ী জোগান না দেওয়া যায়, তাহলে ক্ষতি পরিমান বাড়বে।

    সবমিলিয়ে অতিমারির সময়ে এই ব্যাপক বৃষ্টিপাত চিন্তায় ফেলেছে ফুল ও সবজি চাষিদের। অন্যদিকে টানা বৃষ্টি কিছুটা হাসি ফুটিয়েছে ধান চাষিদের। বরুণ দেবের অবিরাম বর্ষণ জেলাজুড়ে যেমন চিন্তামুক্তির পথদেখিয়েছে কিছু কৃষককে, ঠিক তেমনভাবেই চিন্তা বাড়িয়েছে আর এক শ্রেণীর কৃষকের।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: