Home /News /local-18 /
তিন শতাব্দী প্রাচীন সুরুলের বড় বাড়ির দুর্গাপুজো আজও মিলন মেলা

তিন শতাব্দী প্রাচীন সুরুলের বড় বাড়ির দুর্গাপুজো আজও মিলন মেলা

তিন শতাব্দী প্রাচীন সুরুলের বড় বাড়ির দুর্গাপুজো আজও মিলন মেলা

তিন শতাব্দী প্রাচীন সুরুলের বড় বাড়ির দুর্গাপুজো আজও মিলন মেলা

শাক্ত মতে বলিদান, বৈষ্ণব মতে পুজো। বীরভূমের সুরুল বড় বাড়ি বা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর একাধিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম।

  • Share this:

    মাধব দাস, বীরভূম : শাক্ত মতে বলিদান, বৈষ্ণব মতে পুজো। বীরভূমের সুরুল বড় বাড়ি বা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2021) একাধিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম। তিন শতাব্দী বছর ধরে ব্রিটিশ আমলে থেকেই ধুমধামের সঙ্গে দুর্গা পুজো হয়ে আসছে এই পুজো। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে পরিবর্তন এলেও এখানে দুর্গাপূজো কোনরকম রীতি নীতির পরিবর্তন হয়নি। দুর্গাপূজার সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেখানেই থাকুন না কেন চলে আসেন এই জমিদার বাড়িতে। তারপর পুজো কয়েকটা দিন মিলন মেলার মত আনন্দের সঙ্গে কাটে তাদের।

    সুরুলের এই বড় বাড়ি বা জমিদার বাড়ির পুজো সম্পর্কে পরিবারের সদস্য শিবপ্রসাদ সরকার জানিয়েছেন, "৩০০ বছর আগে বর্ধমানের নীলপুর থেকে এই গ্রামে এসেছিলেন তাদের পূর্বপুরুষ। তারপর তারা গুরুর বাড়িতে থেকে এখানেই বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে ইংরেজদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে করতে প্রভূত সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে তাদের পূর্ব পুরুষ ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। যে কারণে তাদের উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগ অংশই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ করে এই দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2021) ব্যয় করতেন। সেই সময়ই শ্রীনিবাস সরকার ১৮ হাজার টাকা ব্যয়ে পাঁচ খিলানের ঠাকুরদালান, থামযুক্ত নাটমন্দির যুক্ত এই দুর্গা মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। আর তারপর থেকেই একই ধারাবাহিকতায় এখানে পুজো হয়ে আসছে।"

    পুজোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি আরও জানিয়েছেন, "এখানকার দুর্গাপুজোর সবথেকে বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিমার ক্ষেত্রে। প্রতিমার মূর্তির রূপ কোনদিন পরিবর্তন হয় না। একই রূপে এখানকার প্রতিমা তৈরি করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি প্রতিমার ডাকের সাজ সরকার বাড়ির সদস্যরা নিজেরাই সাজিয়ে থাকেন। এছাড়াও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুজোর চার দিন রেড়ির তেল দিয়ে ঝাড় লন্ঠন, ফানুস জ্বালানো হয়ে থাকে।"

    রীতি মেনে মহাসপ্তমীর সকালে দোলা আসার মধ্য দিয়েই পুজো শুরু হয়। থাকে শোভাযাত্রা। বিসর্জনের ক্ষেত্রেও আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে সরকারের বাড়ির এই পুজোর। এছাড়াও রীতি মেনে দশমীর দিন ঘট বিসর্জনের পর শঙ্খচিলের আহবান করে থাকেন। এই সময়ে শঙ্খচিলের দর্শন শুভ মনে করা হয়।

    সুরুল জমিদারবাড়ির এই দুর্গাপুজোকে (Durga Puja 2021) কেন্দ্র করে যেমন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থাকে আলাদা উৎসাহ-উদ্দীপনায় ঠিক তেমনই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে এই জমিদারবাড়িতে পর্যটকের আগমন হওয়ার পাশাপাশি পুজোর সময়ে অনেকেই এখানে আসেন ঐতিহ্যবাহী পুজোর দর্শন করতে।

    পরিবারের আরও এক সদস্য অরূপ সরকার জানিয়েছেন, "পুজোর চার দিন শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়েরা এখানে চলে আসেন। ছেলেরা তো রয়েছেই। আর তারপর একেবারে আনন্দ-উৎসবের সঙ্গেই চার-চারটি দিন কেটে যায়। আমাদের পরিবারের এই পুজোয় (Durga Puja 2021) আনন্দে কোনদিন ভাটা পড়েনি।"

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Birbhum, Bolpur

    পরবর্তী খবর