• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • রাত জেগে কেন কিষান মান্ডিতে নাম লেখানোর লাইনে চাষিরা?

রাত জেগে কেন কিষান মান্ডিতে নাম লেখানোর লাইনে চাষিরা?

রাত জেগে কেন কিষান মান্ডিতে নাম লেখানোর লাইনে চাষিরা?

রাত জেগে কেন কিষান মান্ডিতে নাম লেখানোর লাইনে চাষিরা?

কয়েকজন চাষী হতাহত হয়েছেন, কেউ আবার নাম নথিভুক্ত করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  • Share this:

    মাধব দাস, বীরভূম : গত ৮ নভেম্বর থেকে বীরভূমের (Birbhum) অধিকাংশ ব্লকের কিষাণ মান্ডি (Kisan Mandi) সহ বিভিন্ন ক্যাম্পে শুরু হয়েছে সরকারি ন্যায্যমূল্য ধান (Paddy) বিক্রি করার জন্য নাম রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া। নাম রেজিস্ট্রেশনের এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই লক্ষ্য করা গিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। বীরভূমের অধিকাংশ কিষান মান্ডিতে চাষীদের রাত জেগে লাইন দিতে দেখা গিয়েছে।

    শুধু রাত জেগে লাইন দেওয়াই নয়, এর পাশাপাশি সকাল হতে অর্থাৎ অফিসের কর্মচারী আসতেই নাম লেখানোর জন্য শুরু হয় তাড়াহুড়ো। নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় কে আগে নিজের নাম নথিভুক্ত করবেন। যে ঘটনাকে নিয়ে বেশ কয়েকজন চাষী হতাহত হয়েছেন, কেউ আবার নাম নথিভুক্ত করতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এইসকল ছবি দেখে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন ওঠে, নাম নথিভুক্ত করার জন্য কেন এমন বিশৃংখলা?

    কারণ খুঁজতে গিয়ে দুবরাজপুর কিষাণ মান্ডির পারচেস (PO) অফিসার তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, 'কেবলমাত্র বিভ্রান্তির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে'। কি বিভ্রান্তি? এই বিষয়ে তিনি জানান, "ধান বিক্রির জন্য নাম নথিভুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে চাষীদের মোবাইলে মেসেজ যায়। এই নাম নথিভুক্ত করার কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে, এই প্রক্রিয়া এখন চলতেই থাকবে। কিন্তু তাদের ধারণা, আগে নাম না লেখালে তারা সরকারকে ধান বিক্রি করতে পারবেন না। কিন্তু এমনটা হয় না। প্রতি বছর সিরিয়াল অনুযায়ী চাষীদের থেকে ধান কিনে নেওয়া হয়। এখন এই ভ্রান্ত ধারণার কারণেই চাষিরা রাত জেগে লাইন দিয়েছিলেন। যদিও একদিন পরেই সেই ভিড় কমে যায়।"

    এর পাশাপাশি বেশকিছু চাষীর সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ফোরেদের (দালাল) প্রসঙ্গ। চাষিরা মূলত এই ফোরেদের হাত থেকে বাঁচার জন্যই কিষাণ মান্ডি অর্থাৎ সরকারকে ধান বিক্রি করার জন্য তাড়াহুড়ো করছেন। এই বিষয়ে বাসুদেব দাস নামে দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়ণ পুরের এক চাষী জানিয়েছেন, "কিষান মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে না পারলে কুইন্টাল প্রতি আমাদের ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা ক্ষতি হয়ে থাকে। কিষান মান্ডিতে যেটুকু ধান নেওয়া হয় সেই ধান বিক্রি করার পর বাকি ধান আমাদের তাদের হাতেই তুলে দিতে হয়। ক্ষতি হলেও কোনো উপায় থাকে না।"

    মূলত প্রতিবছর কিষান মান্ডিতে এক একজন চাষীর কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান সরকারি মূল্যে ক্রয় করা হয়ে থাকে। তবে তার পরেও কিছু পরিমাণ ধান পড়ে থাকে ওই সকল চাষীদের কাছে। সেই অবশিষ্ট ধান তারা স্থানীয় দালালদের সরকারি মূল্যের তুলনায় অনেক কম মূল্যে বিক্রি করে থাকেন।

    দুবরাজপুরের হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হালসদ গ্রামের চাষী বিএন সরকার জানিয়েছেন, "সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ পুরো ধানই যেন কিনে নেয়। তাতে আমাদের লোকসান করে দালালদের ধান বিক্রি করতে হবে না। দালালদের ধান বিক্রি করে আমাদের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কারণ বর্তমানে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে সার সহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম। এছাড়াও শ্রমিক খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে।"

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকার চাষিদের থেকে ১৯৪০ টাকা কুইন্টাল দরে ধান কিনে থাকে। এর পাশাপাশি বাড়ি থেকে কিষান মান্ডিতে ধান আনার জন্য খরচ বাবদ উৎস ভাতা হিসাবে কুইন্টাল প্রতি ২০ টাকা করে দেওয়া হয়ে থাকে। অর্থাৎ চাষিরা কুইন্টাল প্রতি ধানের পেছনে সরকারের কাছ থেকে পান ১৯৬০ টাকা। কিন্তু এই ধানই তারা যদি বাইরে বিক্রি করতে যান তাহলে তারা পেয়ে থাকেন কুইন্টাল প্রতি ১৩০০ টাকার কিছু কম-বেশি।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: