Home /News /local-18 /
একহাতে স্টিয়ারিং, অন্য হাতে অক্সিজেন, করোনা যুদ্ধে দশোভূজা বীরভূমের আদিবাসী যুবতী

একহাতে স্টিয়ারিং, অন্য হাতে অক্সিজেন, করোনা যুদ্ধে দশোভূজা বীরভূমের আদিবাসী যুবতী

একহাতে স্টিয়ারিং, অন্য হাতে অক্সিজেন, করোনা যুদ্ধে দশোভূজা বীরভূমের আদিবাসী যুবতী

একহাতে স্টিয়ারিং, অন্য হাতে অক্সিজেন, করোনা যুদ্ধে দশোভূজা বীরভূমের আদিবাসী যুবতী

এছাড়াও রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও সে করে চলেছে নির্দ্বিধায়

  • Share this:

    বীরভূম: দশভূজা দেবী দুর্গা অসুরকে বধ করে অসুরের অত্যাচার থেকে দেবকুলকে বাঁচিয়েছিলেন। পৌরাণিক এই কাহিনী ধরে আজও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের প্রতিবছর দেবী দুর্গার পুজো করে থাকেন। বর্তমানে যেভাবে করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে তাতে এই ভাইরাস অসুরের থেকে কম নয়। আর এই করোনা অসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হাজির বীরভূমের এক আদিবাসী যুবতী। যার পরাক্রমও দশোভূজার থেকে কম নয়। ওই যুবতী এক হাতে স্টিয়ারিং, অন্যহাতে অক্সিজেন ছুটে চলেছেন করোনা যুদ্ধে জয়লাভের জন্য।

    সমাজ এখন উন্নতির শিখরে উঠলেও এখনো আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা যেন এই উন্নত সমাজ থেকে অনেকটাই দূরে। তবে এই পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সমাজের কোন এক যুবতীই বর্তমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় করোনা আক্রান্তদের সম্বল হয়ে উঠবেন তাও হয়তো ভাবনাতীত। তবে এমনটাই করে দেখাচ্ছেন বীরভূমের এই আদিবাসী যুবতী।

    বীরভূমের শান্তিনিকেতনের পাশেই রয়েছে বাঁধ নবগ্রাম। যেখানে বাস আদিবাসী যুবতী চুড়কি হাঁসদার। বাড়িতে চুড়কি ছাড়াও রয়েছেন আরও তিন ভাই বোন এবং মা বাবা। তবে তাদের মধ্যে থেকেই সে এমন একটি কাজ বেছে নিয়েছে যা সমাজে দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

    আদিবাসী এই যুবতী চুড়কি শান্তিনিকেতনের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে কাজ করার জন্য অদম্য জেদ নিয়ে নেমে পড়েন। তারপর সেখানে কাজের সুবিধার জন্য চারচাকা গাড়ি চালানো শেখার প্রয়োজন হয়। কাজ করার তাগিদে তাও সে শিখে ফেলে। আর এর পরেই শুরু হয় একজন যোদ্ধা হিসেবে ময়দানে পা রাখার।

    বর্তমানের ভয়ঙ্কর করোনা পরিস্থিতিতে এই চুড়কি কখনো ওমনি ভ্যান, কখনো আবার অন্য কোন চারচাকা গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে দিনরাত এক করে ছুটে চলেছেন করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবায়। তার কাজ হল গাড়ি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন কত কন্সেন্টর ইত্যাদি কোভিড সরঞ্জাম রোগীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। আবার কাজ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় তাঁর দায়িত্ব করে ফিরিয়ে আনাও তার কাজ।

    এছাড়াও রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও সে করে চলেছে নির্দ্বিধায়। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোরকেই জীবনের পাথেয় করে সে এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

    গ্রাজুয়েশন পাস করা এই আদিবাসী যুবতী সমাজের জন্য এমন কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তার বাড়ি থেকেই। তার মায়ের অসুস্থতায় তাকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে। মায়ের অসুস্থতায় সে কাজ থেকে দেখে কষ্ট উপলব্ধি করেছিলেন। তখনই তার মনে জাগে তাদের মত আর্থিক অনটনে থাকা মানুষগুলিও হয়তো এই ভাবেই শারীরিক অসুস্থতার সময় অসহায় ভাবে দিন কাটান। আর তারপর থেকেই তিনি আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লাগেন।

    তবে এই আদিবাসী যুবতী এখন সমাজের প্রশংসনীয় মুখ হয়ে দাঁড়ালেও তাকে এবং তার পরিবারকে এক সময় ডাইনি অপবাদে পেতে হয়েছিল। ২০০৩ সালে এই যুবতীর পরিবারকে ইলামবাজার ব্লকের গোপাল নগর গ্রাম থেকে ডাইনি অপবাদে বের করে দেওয়া হয়। তারপর তারা শান্তিনিকেতনের পাশে বাঁধ নবগ্রামে এক চিলতে জমির উপর বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকেই আস্তে আস্তে জীবনের নতুন ধারা তারা খুঁজে পেয়েছেন। বর্তমানে সেখানেই এক চিলতে জমির উপর চলে তাদের চাষবাস। আর তাতেই চলছে তাদের সংসার। চুড়কি নিজেও পরিবারের সাথে এই চাষাবাদের কাজে হাত লাগান বলেও জানিয়েছেন।

    মাধব দাস

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Birbhum, COVID-19, Santiniketan

    পরবর্তী খবর