• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • Siliguri| Bangla News|| শেষ হয়েও কাটেনি করোনার রেশ! কেমন আছেন শিল্পীরা আর তাঁদের শিল্প?

Siliguri| Bangla News|| শেষ হয়েও কাটেনি করোনার রেশ! কেমন আছেন শিল্পীরা আর তাঁদের শিল্প?

Siliguri News: যাঁদের হাত ধরে সংস্কৃতি জগতে পা রাখা, তাঁদের এখন পরিস্থিতি ঠিক কী? কেমনই বা আছেন তাঁরা?

Siliguri News: যাঁদের হাত ধরে সংস্কৃতি জগতে পা রাখা, তাঁদের এখন পরিস্থিতি ঠিক কী? কেমনই বা আছেন তাঁরা?

Siliguri News: যাঁদের হাত ধরে সংস্কৃতি জগতে পা রাখা, তাঁদের এখন পরিস্থিতি ঠিক কী? কেমনই বা আছেন তাঁরা?

  • Share this:

    #ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: শেষ হয়েও যেন কাটল না রেশ! পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই কিছু না কিছু শেখার ঝোঁক থাকে আমাদের সকলের। এই কথা কেউ হয়ত অস্বীকার করবে না। তবে যাঁদের হাত ধরে সংস্কৃতি জগতে পা রাখা, তাঁদের এখন পরিস্থিতি ঠিক কী? কেমনই বা আছেন তাঁরা?

    করোনা (coronavirus) এখনও লেজ গুটিয়ে পালায়নি, তবে কিছুটা স্বস্তিতেই রয়েছে শিলিগুড়ি (Siliguri)। কারণ গ্রাফ নামছে। তবে ফেরেনি আগের মতো দিনকাল। যেখানে ছুটির দিন এই শিল্পীদের বাড়ির সামনে ঝাঁকে ঝাঁকে জুতো, সাইকেল থাকত, সেখানে আজ শূন্য। ভরসা ওই ইন্টারনেট (Internet)! যুদ্ধ অফলাইন (offline) ও অনলাইনের (online) মধ্যে! শুরু নেশা হিসেবে করলেও বর্তমানে সংস্কৃতি চর্চা অনেকেরই পেশা। অন্যান্য পেশাগুলির মতো এই পেশায় পড়েছে টান। তবে থেমে নেই কেউ। লড়াই করেই চলেছেন। কেউ অল্প সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন। কেউ আবার অনলাইনেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তবুও থেমে নেই কেউ।

    তাঁদের লড়াই, তাঁদের সংস্কৃতি নিয়ে ভালোবাসা ও তাঁদের এই ইচ্ছেকে ক্যামেরাবন্দী করল নিউজ ১৮ লোকাল (News 18 Local)। শিলিগুড়ির অলিতে গলিতে ছুটল নিউজ ১৮ লোকালের ক্যামেরা শিল্পীদের হাল হকিকত জানতে। তাঁদের কথা শুনতে! তাঁদের গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে।

    শিলিগুড়িনিবাসী সঙ্গীতশিল্পী ও শিক্ষিকা মৌসুমি দাসগুপ্ত বলেন, 'গান আমার নেশা। তবে এটাকে আমি আমার পেশাও বানিয়েছি। যেহেতু আমি অন্য কোনও চাকরি করি না, সেখানে আমার জন্য একটু হলেও পড়িস্থিতি কষ্টকর। শুধু আমার নয়, প্রত্যেক শিক্ষাগুরুকেই এই আর্থক ধাক্কা খেতে হয়েছে। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের মেনে নিতেই হবে। তার উপর মঞ্চে বা অন্য কোথাও কোনও অনুষ্ঠান হচ্ছে না। নয়ত এই সময় প্রচুর অনুষ্ঠান থাকত। আমরাও ছাত্রছাত্রী নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। যা হচ্ছে সব অনলাইনে (online)। বলা বাহুল্য, শুধুমাত্র ভালোবাসার টানেই এই সব করা। তবে, আর্থিক একটা ধাক্কা তো লেগেছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না।' তিনি মনে আশা নিয়ে বলেন, 'আমাদের বিশ্বাস, দ্রুত এই পরিস্থিতি কেটে যাবে। আমরা আবার আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করব।'

    নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষিকা সহেলি বসু নিউজ ১৮ লোকালকে (News 18 local) কে আক্ষেপের সুরে বলেন, 'করোনাকালে সব পেশায় টান পড়েছে। সেখানে সংস্কৃতি জগৎও বাদ পড়েনি। আমাদের নেশা ও পেশা উভয়ই এই নৃত্য। বাইরের রাজ্যে বা অন্যান্য দেশে অনলাইন ক্লাস করা খুব স্বাভাবিক হলেও আমরা এখনও এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের এখানে অনেক অঞ্চলই পিছিয়ে। তেমনভাবে চলছে না অনলাইন (online) ক্লাস (class)ও। ফলে, অনেক শিল্পী আছেন যাঁরা নিজেদের পরিবার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন।' সহেলিদেবীর দৃঢ় বিশ্বাস, এই পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি কেটে যাবে। শিল্পীরা খুব লড়াকু। তাঁরা সবরকম পরিস্থিতিতে লড়াই করতে জানেন। এটাও অতিক্রম করতে পারবেন তাঁরা।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তবলাবাদক ও শিক্ষক সুবীর অধিকারী অনলাইন (online) প্রশিক্ষণ দিতে ব্যস্ত। ল্যাপটপ (laptop)-এর স্ক্রিন (screen)-এ তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রীদের তবলা বাজানো দেখছেন। তাঁর কথায়, 'যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমাদের বিকল্প পথ রাখা উচিত। এই কোভিড পরিস্থিতির কথা তো আমাদের অজানা ছিল। তাই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছি। শিক্ষা কখনও আটকাবে না। টেকনোলজি (technology)-র সাহায্য নিয়ে চলতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সামনে বসে গুরুর বাদনশৈলীকে অনুসরণ করা আরও বেশি কার্যকরী। অনলাইনে সেটা শোনা গেলেও সামনে বসে শেখার মর্ম আলাদাই।'

    শিলিগুড়িতেই রয়েছে আবৃত্তির পাঠশালা স্পন্দন আবৃতি শিক্ষায়তন। সেখানকার কর্ণধার তথা শিক্ষিকা পারমিতা বিশ্বাস ভট্টাচার্য্য বলেন, 'আমার কাছে আড়াই বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের প্রবীণা আসেন আবৃত্তি শিখতে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। শিশুদের আবার খেলার মাধ্যমে আবৃত্তি শেখা বেশি পছন্দের। সেটা আর অনলাইন (online) মাধ্যমে হয় কি? না! ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা তো রয়েছে। তবে আমি ক্লাস বন্ধ করিনি। ইদানিং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ৬ জন মিলে ক্লাস করাচ্ছি। সবাই চাইছি যাতে আবার সব আগের মতো হয়ে যাক। কারণ ওঁরাও অফলাইন (offline) প্রশিক্ষণের দিকে বেশি আকর্ষিত।'

    শিল্পী তো বটেই, তাঁদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা ছাত্রছাত্রীদেরও ইচ্ছে আকাশছোঁয়া। তাই থেমে নেই ওঁরাও। এভাবেই শিক্ষক শিক্ষিকাদের পাশে থেকে তাঁদের সহযোগিতা করে চলেছেন ছাত্রছাত্রীরা। মনের কোণে এক আশা নিয়ে এখনও তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন ভবিষ্যতের দিকে, এক নতুন আলোর অপেক্ষায়।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: