• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • সাবধান হন! নচেৎ উৎপাত বাড়বে বন্যপ্রাণীদের

সাবধান হন! নচেৎ উৎপাত বাড়বে বন্যপ্রাণীদের

সাবধান হন! নচেৎ উৎপাত বাড়বে বন্যপ্রাণীদের।

সাবধান হন! নচেৎ উৎপাত বাড়বে বন্যপ্রাণীদের।

কিছুদিন ধরেই দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাত বেড়েছে হনুমানের। হনুমানের জ্বালায় অতিষ্ঠ হচ্ছেন বহু মানুষ। কখনো কারোর বাড়ির গা

  • Share this:

    হনুমানের আঘাতে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন দুর্গাপুরের এক বৃদ্ধা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বৃদ্ধা নিজের বাড়িতে কাজ করছিলেন। সেসময় আচমকা আসে হনুমানটি। সজোরে আঘাত করেন বৃদ্ধাকে। হনুমানের আঘাতে পড়ে যান ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা। পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় তার। সেই কারণেই বৃদ্ধাকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা সঙ্কটজনক বলে খবর। এই ঘটনায় বনদপ্তর এর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃদ্ধার ছেলে জানিয়েছেন, এলাকায় দিন কয়েক ধরেই উৎপাত বেড়েছে হনুমানের। তার ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

    প্রসঙ্গত কিছুদিন ধরেই দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাত বেড়েছে হনুমানের। হনুমানের জ্বালায় অতিষ্ঠ হচ্ছেন বহু মানুষ। কখনো কারোর বাড়ির গাছের ফল নষ্ট করছে, তো কখনো আবার মানুষকে বিব্রত করছে। হনুমানের এহেন উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ ক্ষুব্ধহচ্ছেন বনদপ্তর এর ওপর। কিন্তু পরিবেশবিদরা বলছেন, বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে হনুমান ঢুকছে মানুষের কারণেই। এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার মানুষকে হতে হচ্ছে, তাদের অসচেতনতার জন্যই। বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণেই লোকালয়ে বারবার ঢুকে পড়ছে হনুমানের দল।

    শিল্পাঞ্চলের ফাঁকা জায়গাগুলি ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে। সেই সমস্ত জায়গায় গড়ে উঠছে বড় বড় আবাসন। ধ্বংস করা হচ্ছে শহরের প্রান্তের জঙ্গলগুলিকে। সেই সমস্ত জায়গাগুলিতে বনাঞ্চল ধ্বংস করে গড়ে উঠছে আবাসন, দোকান বাজার, কারখানা। ফলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণীগুলি। গাছপালা ধ্বংসের কারণে বন্যপ্রাণীদের খাবারের অভাব দেখা দিচ্ছে। তখন জীবন অতিবাহিত করার জন্য তারা উপায় না পেয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। লোকালয় এর মধ্যে হনুমানের দল এদিক থেকে ওদিক ঘুরছে খাবার সংগ্রহের জন্য। বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় লোকালয়ের মধ্যেই নিরাপদ স্থান খুঁজছে তারা। কখনও কখনও সেখানেই তাদের ডেরা বানিয়ে তুলছে।

    এ বিষয়ে বনদপ্তর আধিকারিকরা এবং পরিবেশবিদরা বলছেন, লোকালয়ের মধ্যে কোন বন্যপ্রাণী ঢুকে এলে, তাদের অতিষ্ঠ করা উচিত নয়। সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তর এ খবর দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি তারা বলছেন, বন্যপ্রাণী গুলিকে কোন ভাবে অতিষ্ঠ করলে বা রাগান্বিত করার চেষ্টা করলে, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা ভাল। সম্ভব হলে তাদের দিকে কিছু খাবার এগিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে তারা বলছেন, বন্য প্রাণীগুলির দিকে খাবার ছুড়ে দিলে, তাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে। ফলে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে না। তাদের বিব্রত না করলে, তারাও সহজে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে না। ফলে লোকালয়ের মধ্যে কোন বন্য প্রাণী ঢুকে গেলে মানুষের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, আশপাশে কোন বন্যপ্রাণী দেখা দিলে কিছুটা সাবধান হওয়া ভালো, তাতে বিপদের আশঙ্কা কমবে।

    বনদপ্তর আধিকারিকরা আশঙ্কার সুরে বলেছেন, অনেক সময় দেখা যায়, লোকালয়ের মধ্যে কোন বন্যপ্রাণী ঢুকে অতিষ্ঠ করলে বা মানুষকে বিব্রত করলে, মানুষ তাদের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে মানুষকে সাবধান থেকে কিছুটা বিনয়ী হওয়ার অনুরোধ করেছেন তারা। বলেছেন, পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষের। কোন বন্যপ্রাণীকে আঘাত না করে, তাদের উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মানুষকে উদ্যোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে নিকটস্থ বন দফতরকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

    পরিবেশবিদরা বলছেন, যে জায়গায় যত বনাঞ্চল কমে আসবে, সেই জায়গায় তত বন্যপ্রাণীদের উৎপাত বাড়বে। ফলে মানুষের উন্নতি এবং প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি, পরিবেশের ভারসাম্য যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে। পরিবেশে গাছের সংখ্যা এবং বনাঞ্চলের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আর্টিফিশিয়াল বনাঞ্চল তৈরি করতে হবে। তাতে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন বজায় থাকবে, ঠিক তেমনভাবেই রক্ষা পাবে বন্যপ্রাণীদের প্রাণ।

    Nayan Ghosh

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: