World Wildlife Day 2021: অরণ্য এবং তার উপরে নির্ভরশীল মানবজীবনের লক্ষ্যে নিবেদিত এই দিন!

Representational image. (REUTERS/Jim Urquhart/File Photo)

বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে এই বছরের থিম হল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড: সাসটেইনিং পিপল অ্যান্ড প্ল্যানেট।

  • Share this:

#নিউইয়র্ক: সারা বিশ্ব জুড়ে বিস্তৃত যে অনির্বচনীয় বৈচিত্র্যযুক্ত উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুল, তার উদযাপনের জন্য বছরে একটা দিন স্থির করা অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের মতো বিষয়টি একদিনের নয়, বছরের প্রতিটি দিন এর সংরক্ষণে প্রাণপাত করতে হবে আমাদের!

এই কথা একদা উঠে এসেছিল ইউনাইটেড নেশনস-এর এক বিবৃতিতে। যত দিন যাচ্ছে আমরা দেখছি যে চোরাশিকারিদের আক্রমণ এবং নগরায়ণের মুখে সমান ভাবে বিপর্যস্ত বিশ্বের আনাচে-কানাচে উদ্ভিদকুল এবং প্রাণীকুল। মূলত তা প্রতিরোধের লক্ষ্যে এবং বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদ-প্রাণী বৈচিত্র্যরক্ষায় ৩ মার্চ উদযাপন করা হয় World Wildlife Day বা বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস। যার শুরুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ১৯৭৩ সালের এক সভার কথা।

জানা যায় যে ১৯৭৩ সালের ৩ মার্চ দ্য কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জার্ড স্পেসিস অফ ওয়াইল্ড ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা (The Convention on International Trade in Endangered Species of Wild Fauna and Flora) স্বাক্ষরিত হয়েছিল বিশ্বের নানা দেশের মধ্যে। যাকে সংক্ষেপে CITES-ও বলা হয়ে থাকে। এই দেশগুলির মধ্যে ভারতও অন্তর্ভুক্ত। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল একটাই- যাতে চোরাশিকারিদের আক্রমণে বন্যপ্রাণ অবলুপ্তির পথে এগিয়ে না যায় এবং সেই রকম কোনও পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যবসা না চলে। অনেক পরে, মূলত থাইল্যান্ডের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি (United Nations General Assembly) ২০১৩ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরের দিনটিকে বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে এই বছরের থিম হল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড: সাসটেইনিং পিপল অ্যান্ড প্ল্যানেট। আসলে করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কী ভাবে বিশ্বকে ভালো রাখা যায়, আপাতত সেই লক্ষ্যেই একজোট হয়ে কাজ করছে ইউনাইটেড নেশনস এবং তার দ্বারা স্বীকৃত নানা আন্তর্জাতিক দিনগুলো। কিছুটা হলেও চলতি বছরের বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবসের উদযাপনে এই দিকটায় লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কেন না, এক দিকে সারা বিশ্বেই কমে আসছে অরণ্য অঞ্চলের পরিমাণ, আর তার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতির মুখে পড়ছে সেই সব মানববসতি, যারা জঙ্গলে বা জঙ্গল সন্নিহিত এলাকায় থাকে।

এটা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে জঙ্গলের উপরে যাদের জীবনযাপন নির্ভরশীল, বনাঞ্চল কমে গেলে তাদের সমস্যায় পড়তে হবে। ইউনাইটেড নেশনস-এর পরিসংখ্যান বলছে সারা বিশ্বের স্থলভাগের মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ অঞ্চলে বনভূমি টিঁকে আছে কোনও মতে। অন্য দিকে, জঙ্গলের উপরে জীবনধারণের জন্য নির্ভরশীল প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ। ফলে এই সখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার মান কী ভাবে উন্নত করে তোলা যায়, কী ভাবে বাঁচিয়ে রাখা অরণ্যকে, সেই মর্মেই চলতি বছরে বিশেষ জোর দিয়েছে বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবস।

Published by:Debalina Datta
First published: