World Hypertension Day 2021: জেনে নিন দিনটির তাৎপর্য এবং পালনের ইতিবৃত্ত

World Hypertension Day 2021: জেনে নিন দিনটির তাৎপর্য এবং পালনের ইতিবৃত্ত!

২০০৫ সালের ১৪ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগ (World Hypertension League) নামের এক সংস্থা প্রথম এই অসুখ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সমাবেশের আয়োজন করে

  • Share this:

World Hypertension Day 2021: অসুখ এবং অসুস্থতার ধরন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাধি দিবস হিসেবে পালন করার সংস্কৃতি শতাব্দীপ্রাচীন। কিন্তু যদি হাইপারটেনশনের দিকে তাকাতে হয়, তাহলে দেখা যাবে যে ১৬ বছর আগে, ২০০৫ সালে এই অসুখ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তারিখটা কিন্তু ১৭ মে ছিল না, ছিল ১৪ মে। তাহলে প্রতি বছর ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে (World Hypertension Day) পালনের রীতি শুরু হল কেন?

ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে ইতিহাস:

হাইপারটেনশন কার্যত বেশ কিছু মাত্রায় একটি লাইফস্টাইল ডিজিজ। অর্থাৎ জীবনযাপনের ধরন যদি সুস্থ এবং সুষ্ঠু না হয়, তাহলে এই রোগ ব্যক্তিবিশেষকে গ্রাস করবে। ব্যাধির বিস্তার সংক্রান্ত নানা সমীক্ষা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বেশিরভাগ লাইফস্টাইল ডিজিজ আধুনিক সময়ের ফসল। সেই লক্ষ্যে ২০০৫ সালে হাইপারটেনশন নিয়ে পদক্ষেপ খুব একটা অবাক করার মতো কিছু নয়। বুঝে নিতে অসুবিধা নেই যে তার আগে এই অসুখ নিয়ে বিশ্বকে সচেতন করার প্রয়াস ততটাও ছিল না।

জানা যায় যে ২০০৫ সালের ১৪ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগ (World Hypertension League) নামের এক সংস্থা প্রথম এই অসুখ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সমাবেশের আয়োজন করে। এটি বস্তুত কোনও একক সংগঠন নয়, হাইপারটেনশন নিয়ে কাজ করা ৮৫টি গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান বলা যেতে পারে। পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৬ সালে এই গোষ্ঠীর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭ মে। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতি বছর ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।

হাইপারটেনশন কাকে বলে:

হাইপারটেনশন আর হাই ব্লাড প্রেশার দুই আদতে এক ব্যাপার। রক্ত যখন আমাদের শরীরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন তা একটা নির্দিষ্ট বেগে ধমনীর গায়ে ধাক্কা মারে, ব্যাপারটা নদীর স্রোতের পার্শ্ববর্তী তটে আছড়ে পড়ার মতো। এই বেগ যখন বেড়ে যায়, তখন তা ধমনীর নমনীয় কাঠামোর পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার জেরে এক সময়ে হার্ট অ্যাটাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে ব্লাড প্রেশার ১৪০/৯০ থাকলেই তা হাইপারটেনশন হিসেবে গণ্য করা হয়, ১৮০/১২০ থাকলে তা বিপদের কারণ বলে বিবেচিত হয়।

ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর হালফিলে অন্তত ১ কোটি ভারতীয়, বিশেষ করে বয়স্করা হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হন। কাজের চাপ, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, ধূমপান, শরীরচর্চার অনভ্যাস, উদ্বেগ হাইপারটেনশনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

চলতি বছরের থিম:

করোনাকালে হাইপারটেনশন নিয়ে বিশেষ করে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে। কেন না, ধূমপান বাদ দিলে এই ব্যাধির সবক'টি মূল কারণই করোনাকালের জীবনযাত্রায় অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই এই বছর ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের বক্তব্য- ব্লাড প্রেশার নিয়মিত সঠিক ভাবে মাপা হোক, তাহলেই হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ করা যাবে, পরিণামে লাভ হবে দীর্ঘায়ু।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: