Home /News /life-style /
Monkey Pox: মাঙ্কিপক্সকে 'প্যানডেমিক' বলে ঘোষণা করল ওয়ার্ল্ড হেল্থ নেটওয়ার্ক! যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন...

Monkey Pox: মাঙ্কিপক্সকে 'প্যানডেমিক' বলে ঘোষণা করল ওয়ার্ল্ড হেল্থ নেটওয়ার্ক! যে বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন...

Monkeypox

Monkeypox

MonkeyPox: মাঙ্কিপক্স নিয়ে ভাইরোলজিস্টরা সতর্ক করেছেন কারণ এটি গুটিবসন্ত পরিবারের একটি অসুখ।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বিশ্বের ৫৮টি দেশে ছড়িয়েছে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ। মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক (WHN) ঘোষণা করেছে যে তাঁরা বর্তমান মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাবকে একটি মহামারী হিসেবে ঘোষণা করছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে যে প্রাদুর্ভাবটি একাধিক মহাদেশ জুড়ে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং একজোট হয়ে পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণের গতি থামবে না। এদিকে, মাঙ্কিপক্সকে মহামারী ঘোষণা করা হবে কি না তা ঠিক করতে ২৩ জুন বৈঠকে বসেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক বলেছে, গুটিবসন্তের তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক কম হলেও, যদি না সংক্রমণের বিস্তার বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে এবং আরও অনেকে অন্ধ ও অক্ষম হয়ে পড়বে। তারা বলেছে যে মাঙ্কিপক্সকে মহামারী ঘোষণা করার অপরিহার্য উদ্দেশ্য হল ব্যাপক ক্ষতি রোধ করার জন্য একাধিক দেশে বা বিশ্বজুড়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা শুরু করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইয়ানির বার-ইয়াম বলেছেন, “মাঙ্কিপক্স মহামারী আরও বাড়ার জন্য অপেক্ষা করার কোনও যুক্তি নেই। পদক্ষেপ নেওয়ার সেরা সময় এখন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে আমরা ন্যূনতম প্রচেষ্টায় প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং পরিণতি আরও খারাপ হওয়া থেকে বাঁচতে পারি। এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। উপসর্গগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, পরীক্ষা এবং কোয়ারান্টিনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যে কোনও বিলম্ব কেবল প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তোলে এবং পরিণতি আরও গুরুতর করে তোলে।"

আরও পড়ুন: 'ঘটিবাটি সবই যাবে...' বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ! নিশানা করলেন কাকে? তীব্র আলোড়ন

এপিডেমিওলজিস্ট এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এরিক ফেইগল-ডিং বলেছেন, “মাঙ্কিপক্সকে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন ঘোষণা করা দরকার ডব্লিউএইচও-র। ২০২০ সালের জানুয়ারির কোভিড সংক্রমণকে উদ্বেগজনক ঘোষণা না করার ফলাফল কী হয়েছে তা দেখা যাচ্ছে। এটা একটি ইতিহাসের পাঠ হিসাবে স্মরণ করা উচিত যে মহামারীতে দেরিতে কাজ শুরু করার বিশ্বের জন্য কী অর্থ হতে পারে।”

ইকোনমিক মোলিনারি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও সভাপতি সিসিল ফিলিপস বলেছেন, “কোভিড মহামারীর প্রথম ১৮ মাস আমাদের দেখিয়েছে যে ভাইরাস রোধ করা একটি সাশ্রয়ী কৌশল, যা স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক ফলাফলকে সারিবদ্ধ করে। মাঙ্কিপক্স রোধ করা অনেক সহজ।"

আরও পড়ুন: মণিপুর থেকে বাংলাদেশে হচ্ছিল পাচার, কিন্তু এ কী মিলল! বালুরঘাটে মারাত্মক কাণ্ড

ডব্লুএইচএন বলেছে, "প্রাথমিক পদক্ষেপগুলি ছোট হলেও বৃহত্তর প্রভাব ফেলবে। যদি কার্যকর পদক্ষেপ এখনই নেওয়া হয়, তাহলে বৃহত্তর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সরকারগুলির অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

মাঙ্কিপক্স নিয়ে ভাইরোলজিস্টরা সতর্ক করেছেন কারণ এটি গুটিবসন্ত পরিবারের একটি অসুখ। অন্য দিকে,ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসিএলএ-এর এপিডেমিওলজির অধ্যাপক অ্যান রিমোইনের মতে, ১৯৮০ সালে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে গুটিবসন্ত নির্মূল করা হয়েছিল এবং এটি মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দেয়। তাই এই টিকার প্রচার বন্ধের ফলে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে।

মাঙ্কিপক্স’ প্রায় ‘স্মলপক্সের’ মতোই একটি রোগ, তবে এটি একটি অতি বিরল ভাইরাস ঘটিত অসুখ। জ্বর, পেশির ব্যথা, গায়ে ব়্যাশ বের হওয়া এবং সর্দি লাগা মানবদেহে মাঙ্কিপক্সের সাধারণ লক্ষণ। মোটামুটি ভাবে সংক্রামিত হওয়ার ৬ থেকে ১৩ দিনের মধ্যেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে মত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। সাধারণত মাঙ্কিপক্স হলে রোগীর জ্বরের পাশাপাশি একটি অন্য ধরনের ফুসকুড়ি হতে দেখা যায়। সাধারণত মৃদু উপসর্গের হলেও এটির দুটি প্রধান স্ট্রেন রয়েছে। যথা কঙ্গো স্ট্রেন, যা বেশি গুরুতর। এই ধরনের মাঙ্কিপক্সে ১০% পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং পশ্চিম আফ্রিকান স্ট্রেন যেখানে মৃত্যুর হার ১% এর বেশি। মাসখানেক মতো আগে যুক্তরাজ্যে পশ্চিম আফ্রিকার স্ট্রেন দেখা গিয়েছে। এছাড়া পর্তুগালে পাঁচটি নিশ্চিত এবং স্পেনে ২৩টি সম্ভাব্য সংক্রমণের সনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখন সংক্রমণ বাড়ছে বলেই একে প্যানডেমিকের পর্যায়ভুক্ত করা হচ্ছে।

বিভিন্নভাবে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ হয়। যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক যোগাযোগ (সংক্রমিত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা, বিশেষ করে ফুসকুড়ি/ফোস্কা), দূষিত পোশাক, বিছানাপত্র এবং বস্তুর স্পর্শ, বায়ুবাহিত কণা শ্বাস নেওয়া এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বা শারীরিক মিলন। যদিও বর্তমানে সংক্রমিতদের বেশিরভাগই সমকামী, উভকামী পুরুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলেছে যে, সমকামী পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। তাই সমকামী ও উভকামী পুরুষদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে সংস্থাটি। তবে সমকামিতার সঙ্গে মাঙ্কিপক্সের সরাসরি কোনও সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি। কাজেই এবিষয়ে আরও তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Published by:Uddalak B
First published:

Tags: Monkeypox

পরবর্তী খবর