প্যানডেমিকে ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো, বলছেন বিশেষজ্ঞরা!

প্যানডেমিকে ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো, বলছেন বিশেষজ্ঞরা!

বেশ কিছু সমীক্ষা বলছে, এই সময় সব চেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে, সব চেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন মহিলারা। বেড়েছে মানসিক চাপ, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, শারীরিক অত্যাচার-সহ আরও অনেক কিছু।

বেশ কিছু সমীক্ষা বলছে, এই সময় সব চেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে, সব চেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন মহিলারা। বেড়েছে মানসিক চাপ, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, শারীরিক অত্যাচার-সহ আরও অনেক কিছু।

  • Share this:

করোনা (Coronavirus) পরিস্থিতি প্রতিটি মানুষের জীবনেই নানা পরিবর্তন এনেছে। কখনও সাহায্য করতে শিখিয়েছে, কখনও পাশে দাঁড়াতে। কখনও আবার মানুষের দুঃখের সঙ্গী হতে। ২০২০ মানুষকে প্রায় একই সরলরেখায় দাঁড় করিয়েছে।

এই সময়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা দেখা গিয়েছে। একের পর এক স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়া, মৃত্যু হওয়া, এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। বেশ কিছু সমীক্ষা বলছে, এই সময় সব চেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে, সব চেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন মহিলারা। বেড়েছে মানসিক চাপ, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, শারীরিক অত্যাচার-সহ আরও অনেক কিছু। এসবের মধ্যেই রয়েছে তাদের স্বাস্থ্যের দিকটিও। যা এই প্যানডেমিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই বেড়েছে একাধিক সমস্যা।

PCOS-এর সমস্যা

তথ্য বলছে, PCOS বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম ভারতে ২০ শতাংশ মহিলার মধ্যেই রয়েছে। এই সমস্যা চিকিৎসা করলেই ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে, যদি এড়িয়ে যাওয়া হয় তা হলে, ওবেসিটি, উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস, ইউটেরাইন ক্যানসারের মতো রোগও শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি PCOS মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। বাড়ায় অবসাদ, স্ট্রেসের পরিমাণ। এই PCOS-এর চিকিৎসাতেই সমস্যা হয়েছে প্যানডেমিকে। ফলে এই নিয়ে প্রচার শুরু করে. মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে ও মহিলারা যাতে এই সমস্যা বুঝতে পারে, সে বিষয়ে অবগত করতে হবে।

ওভুলেশন মনিটরিং

ওভুলেশন মনিটরিং অন্যতম সমস্যা। সব সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে বা টেস্ট করিয়ে এটির উপরে নজর রাখা সম্ভব হয় না। তাই এর জন্য বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে। যার মাধ্যমে যে কেউ অভুলেশন সাইকেল মনিটরিং করতে পারবে।

এই ধরনের অ্যাপগুলির অতিরিক্ত বেশ কিছু ফিচারও থাকে। যেমন- তাপমাত্রা নির্ণয় করা, ওজন মাপা, ক্র্যাম্পসের সময়, মুড সুইং, গা-হাত-পা ব্যথা এই সব সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা। এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করাও সহজ এবং এর ফলে নিয়মিত চেকআপে থাকা যেতে পারে।

এই সব সমস্যা ও এই ধরনের আরও কিছু সমস্যা দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করা যেতে পারে-

বিভিন্ন অ্যাপ ডিজাইন করা যেতে পারে

ওভুলেশন মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে যে অ্যাপগুলি রয়েছে, তেমনই কোনও অ্যাপ তৈরি করা যেতে পারে। যাতে কোনও মানুষের PCOS সংক্রান্ত তথ্যও জোগাড় করা যাবে। তা ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় আজকাল PCOS নিয়ে বহু ভিডিও সামনে আসে, যাতে বলা থাকে, কী করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সেই রকম ভিডিও'ও দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়াও সমস্ত তথ্য গোপন রেখে, প্রেগনেন্সি ট্র্যাকিং অ্যাপের মতো কিছুও আনা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার Monash Centre for Health Research and Implementation (MCHRI) প্রথম এমন একটি অ্যাপ বানিয়েও ফেলেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে AskPCOS। এটিই বিশ্বের প্রথম এমন অ্যাপ যা PCOS সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে মানুষকে সাহায্য করে।

এখনও বিশ্বের বহু মহিলার মধ্যে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে PCOS বা এই ধরনের কোনও শারীরিক সমস্যা নিয়ে একাধিক মিথ রয়েছে। একাধিক বিষয় অজানা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সব মানুষজনের জন্য কাজ করা প্রয়োজন। এর জন্য চিকিৎসক থেকে, স্বাস্থ্যকর্মী, অসরকারি সংগঠন থেকে মহিলা গোষ্ঠী সকলকে এক হতে হবে এবং মহিলাদের তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অবগত করতে কাজ করতে হবে।

Published by:Piya Banerjee
First published: