স্বপ্নদোষের সমাধান কি আদপেই সম্ভব? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?

স্বপ্নদোষের সমাধান কি আদপেই সম্ভব? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
আসলে সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে স্বপ্নদোষের ফলে শরীর ভেঙে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে।

আসলে সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে স্বপ্নদোষের ফলে শরীর ভেঙে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে।

  • Share this:

সবার আগে একটা গল্প ছোট করে বলে নেওয়াই যায়! বাইবেলের বেশ কিছু ভার্সনে পাওয়া যায় লিলিথ নামের এক নারীর কথা। ইভ নয়, তিনিই আদতে অ্যাডামের প্রথম স্ত্রী। ঈশ্বর একই সঙ্গে সৃষ্টি করেছিলেন এই দুই মানবী আর মানবকে। কিন্তু তাঁদের জীবন খুব একটা সুখের ছিল না। বিশেষ করে যৌনজীবন। গল্প মোতাবেকে, অ্যাডাম সব সময়েই অন্য পশুরা যেভাবে সঙ্গমে প্রবৃত্ত হয়, সেটাই অনুসরণ করতে চাইতেন! আর লিলিথ চাইতেন সঙ্গমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে, তাঁর পছন্দ ছিল বিপরীত বিহার, তিনি কখনও কখনও অ্যাডামের বুকের উপরে থাকতে চাইতেন! একদিন অ্যাডাম যখন ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলপূর্বক মিলিত হতে চান, লিলিথ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যান! বলা হয়, এই অপমানের শোধ তোলার জন্য নিশীথ রাতে স্বপ্নে তিনি এসে বসেন পুরুষদের বুকে, তাঁদের উত্তেজিত করে তোলেন! আর তখনই ঘটে যায় ওয়েট ড্রিমস বা স্বপ্নদোষের ঘটনা! যাকে লিলিথ'স রিভেঞ্জও বলা হয়!

কিন্তু গল্প আর বিজ্ঞান এক পথে চলে না। তাই এক পাঠক যখন স্বপ্নদোষের প্রতিকার চেয়ে বিশেষজ্ঞা পল্লবী বার্নওয়ালের দ্বারস্থ হলেন, তিনি সাফ জানালেন যে এই ঘটনায় বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। স্বপ্নদোষ বা ঘুমের মধ্যে আপনা-আপনি বীর্যস্খলন খুবই সাধারণ এবং স্বাভাবিক একটা ঘটনা। তাই এটা নিয়ে মনের মধ্যে ভুল ধারণা পুষে রাখা কখনই ঠিক হবে না।

আসলে সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে স্বপ্নদোষের ফলে শরীর ভেঙে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। পল্লবী জানাচ্ছেন যে এটা একেবারেই একটা ভুয়ো ধারণা, আদতে এর যুক্তিসঙ্গত কোনও ভিত্তি নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি একটি উপমার সাহায্যে বিশ্লেষণ করেছেন স্বপ্নদোষের আসল কারণ। বয়ঃসন্ধির সময়ে যখন শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটে চলে, দেখা দেয় হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, সেই সময়ে প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বপ্নদোষও দেখা দেয়। কাজেই একে স্বাভাবিক ভাবেই নেওয়া উচিৎ বলে দাবি করেছেন তিনি। ব্যাপারটা অনেকে তাঁর মতে কোনও পাত্র উপচে পড়া! যদি অস্বস্তি হয়, তা হলে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে বিছানায় একটা তোয়ালে রাখা যেতে পারে!


আরও একটা কথা অবশ্য উল্লেখ করতে ভোলেননি বিশেষজ্ঞা! তিনি জানিয়েছেন যে হস্তমৈথুন একেবারেই না করা, প্রয়োজনের তুলনায় কম করাও নিয়মিত স্বপ্নদোষের নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। অতএব প্রয়োজন মতো হস্তমৈথুন করলে শরীর শান্ত থাকবে, ঘুমের মধ্যে বীর্যস্খলন হবে না।

তবে এই সমস্যা যদি বয়ঃসন্ধির পরেও বিব্রত করে তোলে?

সেক্ষেত্রেও চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন পল্লবী। আর বলছেন, এর পাশাপাশি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে লোম দেখা দেয় বা চুল ঝরে যায়, ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে বা কমে যায়, মুখ যদি ব্রনতে ভর্তি হয়ে যায়, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা ঠিক হবে। তার আগে পর্যন্ত দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে দাবি করছেন তিনি!

Published by:Pooja Basu
First published: