ওজন ঝরাতে চান? সবার আগে খাই-খাই ভাব সামলে নিন সহজ এই ৬ উপায়ে!

Representational Image

Ways To Get Rid Of Food Cravings: জেনে নিন আপনার ক্রেভিং নিয়ন্ত্রণ করে কী ভাবে অনায়াসে মেদ ঝরিয়ে ফেলবেন!

  • Share this:

আপনি খাদ্যরসিক হন বা না হন, কখনও কখনও 'ফুড ক্রেভিং' বা খাই-খাই ভাব আপনার হবেই! আসলে ফুড ক্রেভিং (Food craving) বা খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হল নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার অনিয়ন্ত্রিত তাগিদ। যা সাধারণ ক্ষিদের চেয়ে আলাদা। যদিও সকলের যে এক ধরনের খাবারের প্রতি ক্রেভিং হয় তেমনটা নয়। কিন্তু বেশিরভাগেরই উচ্চ মাত্রায় সুগার রয়েছে এমন প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতিই ঝোঁক থাকে।

তবে আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে ক্রেভিং আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে। কিন্তু আমরা কি খাবারের প্রতি এই তীব্র ইচ্ছায় রাশ টানতে পারি? হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই পারি। তবে তার জন্য শুধু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে জেনে নিন আপনার ক্রেভিং নিয়ন্ত্রণ করে কী ভাবে অনায়াসে মেদ ঝরিয়ে ফেলবেন!

১. প্রচুর জল খান

আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময়ই বুঝতে পারে না যে আমাদের কি সত্যি ক্ষিদে পেয়েছে না কি আমাদের শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাই এর পর যখনই আপনি ক্ষুধার্ত বোধ করবেন তখন আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নেবেন। স্বাভাবিক ভাবেই, জল খেয়ে আপনার ক্ষিদে কমে যাবে। তাই এর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখুন যে আপনার এখনও ক্ষিদে রয়েছে কি না। তবে এক্ষেত্রে আপনার ক্রেভিং না থাকার সম্ভাবনাই প্রবল।

২. প্রোটিন বেশি খান

ভারতীয়দের মধ্যে প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস কম রয়েছে। কিন্তু শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেক দিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন খাওয়া আবশ্যিক। প্রোটিন আপনার ক্ষিদে কমিয়ে দিতে পারে কারণ প্রোটিন শরীরে হজম হতে সময় নেয়। ফলে প্রোটিন খাওয়ার পর আপনার শরীর অনেকক্ষণ তা হজম করতেই ব্যস্ত থাকে বলে আপনার আর ক্ষিদে পাবে না। তাই ডিমের সাদা অংশ, পনির, চিকেন ব্রেস্ট, ডাল এবং মাছের মতো ভালো প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখুন। প্রোটিনসমৃদ্ধ ডায়েট আপনার খাওয়ার ইচ্ছে কমানোর একটি খুবই কার্যকরী উপায়।

৩. খুব ক্ষুধার্ত হওয়া এড়িয়ে চলুন

খুব বেশি ক্ষিদে পেয়ে গেলে আমাদের অনিয়ন্ত্রিত ক্রেভিং হতে থাকে। যার ফলে আমরা ক্ষিদের চোটে খারাপ খাবারই পছন্দ করে ফেলি। ক্রেভিং সাধারাণত খিদে পেলে বেড়ে যায়। আমাদের তখন চকোলেট, পিৎজা, মিষ্টি ইত্যাদি খেতে ইচ্ছে হয়। তাই দীর্ঘক্ষণ তরতাজা থাকতে আপনার ডায়েটে ব্রাউস রাইস, মিষ্টি আলু, আদার ব্রেড, ওটস এবং গোটা শস্যের মতো কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট রাখুন। এতে আপনার অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হবে না।

৪. পরিমিত ঘুমান

দেখা গিয়েছে, যাঁরা কম ঘুমান এবং ক্লান্ত বোধ করেন তাঁদের ফুড ক্রেভিং বেশি হয়। যেহেতু তাঁদের শরীর ক্লান্ত থাকে তাই সব সময় সক্রিয় থাকতে শরীরের কিছু খাবারের প্রয়োজন হয়। তাই প্রত্যেক দিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুম শুধু ক্ষিদে নিয়ন্ত্রণই করে না, আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. দুশ্চিন্তার সময়ে খাওয়াকে জয় করুন

সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে কোনও চাপের মধ্যে থাকলে আমাদের চকোলেট অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি জন্মায়। আসলে আমরা খেতে চাই। আর সেটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হাঁটা, এক্সারসাইজ, কোনও বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আপনি আপনার চিন্তা কমানোর চেষ্টা করতে পারেন।

৬. মানসিক কারণ

আপনার ফিটনেসের লক্ষ্যে পৌঁছাতে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। আপনি যদি ছয় মাস অথবা একবছর ধরে জাঙ্ক ফুড (Junk food ) খেয়ে যান, তাহলে আপনাকে কেমন দেখতে হবে তা নিজেই কল্পনা করুন। একই সঙ্গে আপনি যদি সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাহলে আপনাকে কেমন দেখতে হবে তাও ভাবুন। এতে আপনি নিজের মধ্যেই প্রেরণা পাবেন যা আপনাকে সত্যি সাহায্য করবে।

উপরের আলোচ্য পরামর্শ মেনে চলার পরও যদি আপনার খাওয়ার প্রতি আসক্তি থাকে, তাহলে কলা, পপকর্ন, সেদ্ধ ডিম, অ্যাভোকাডো, মাখানা, ছোলা ভাজা, ফল, স্যালাড ইত্যাদির মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খান। আপনাকে সবসময় নিজের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবার মজুত রাখতে হবে। মনে রাখবেন ক্রেভিং কিন্তু দীর্ঘক্ষণ থাকে না এবং এটি অবশ্যই জয় করা যায়।

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: