কুকুরকে রোজ বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যান? পোষ্য হতে পারে সরাসরি করোনা সংক্রমণের কারণ !

  • Share this:

চিনের পথমার্জারদের নিয়ে পরিচালিত হওয়া এক সমীক্ষা, যা কি না প্রকাশিত হয়েছিল মাসখানেক আগে, দাবি করেছিল যে পশুরাও কোভিড ১৯ ভাইরাসদ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এই একই কথা বিড়ালদের মতো কুকুরদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে সেই সমীক্ষা উল্লেখ করতে ভোলেনি যে এই পশুদের মধ্যে এই রোগের কোনও উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়না। তেমনই সমীক্ষা স্পষ্ট ভাবে এই সিদ্ধান্তেও পৌঁছতে পারেনি যে পশুদের থেকে মানুষের সংক্রমিত হওয়ার কোনও আশঙ্কা রয়েছে কি না!

যদিও সম্প্রতি স্পেনের ইউনিভার্সিটি অফ গ্রানাডা এবং আন্দালুসিয়ান স্কুল অফ পাবলিক হেল্থ যৌথ ভাবে যে সমীক্ষা পরিচালনা করেছে, তার সিদ্ধান্ত আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে। এই সমীক্ষার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ক্রিস্টিনা স্যানচেজ গঞ্জালেজ জানিয়েছেন যে পশুদের থেকেও মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে কোভিড ১৯ ভাইরাস। বিশেষ করে বাড়িতে যদি কুকুর থাকে, সে ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। জানা গিয়েছে যে এই সমীক্ষাটি বাড়িতে কুকুর আছে এমন ২ হাজার ৮৬ জন স্প্যানিশ পরিবারকে নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল। যার ফলাফল বলছে যে এই পরিবারের মধ্যে ৯৮টি অর্থাৎ ৪.৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই সদস্যরা পোষ্য কুকুরটির দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন। তাঁরা যখন পোষ্যকে বাইরে হাঁটাতে নিয়ে গিয়েছেন, সেই সময়েই সে কোভিড ১৯ ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে, পরবর্তী কালে যা ছড়িয়ে গিয়েছে তার মালিকের শরীরেও।

পাশাপাশি অধ্যাপক গঞ্জালেজ আরও জানিয়েছেন যে এই করোনাকালে যাঁরা নানা রকম জিনিসপত্রের জন্য হোম ডেলিভারির উপরে নির্ভর করে আছেন, তাঁরাও রয়েছেন বিপজ্জনক অবস্থায়। কেন না, তাঁদের সমীক্ষা এটা স্পষ্ট ভাবেই তুলে ধরেছে যে দোকানে গিয়ে কেনাকাটার তুলনায় ডেলিভারি বয়ের থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা নিদেনপক্ষে ৭৪ শতাংশ বেশি। এ ব্যাপারে অধ্যাপক গঞ্জালেজ তুলে ধরতে চেয়েছেন পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত বিষয়টির কথা। অর্থাৎ প্রতি বার বাইরে থেকে ঘুরিয়ে আনার পর পোষ্যটিকে ভালো করে সাবান জলে স্নান করানো সম্ভব নয়, তা তার স্বাস্থ্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্য দিকে, ডেলিভারি বয় জিনিস নিয়ে আসার সময়ে কোভিড ১৯ ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে কি না, সেটাও বুঝে ওঠার উপায় নেই!

তবে সব শেষে অধ্যাপক গঞ্জালেজ অহেতুক আতঙ্কে ভুগতে বারণ করেছেন সবাইকে! তিনি এই দুই ঘটনাকে করোনাগ্রস্ত হওয়ার কারণ না বলে যোগসূত্র হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন। তাই তাঁর মতে পোষ্যকে বাইরে নিয়ে না গেলে বা নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হয় এমন দোকানে গেলেই সতর্ক থাকা যাবে!

Published by:Piya Banerjee
First published: