ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ঘটে যাচ্ছে একাধিক শারীরিক সম্পর্ক? পথ দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ

ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ঘটে যাচ্ছে একাধিক শারীরিক সম্পর্ক? পথ দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ

মনের মানুষ খুঁজছেন। কিন্তু তাঁকে পাচ্ছেন না! বদলে এক রাতের শারীরিক সম্পর্ক বা ক্যাজুয়াল সেক্সের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁকে ফিরে আসতে হচ্ছে নিজের জগতে

মনের মানুষ খুঁজছেন। কিন্তু তাঁকে পাচ্ছেন না! বদলে এক রাতের শারীরিক সম্পর্ক বা ক্যাজুয়াল সেক্সের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁকে ফিরে আসতে হচ্ছে নিজের জগতে

  • Share this:

#কলকাতা: যে সময়ে মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসে শশী ডাক্তারের মুখে "শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?" সংলাপটি বসিয়েছিলেন, তার পর কেটে গিয়েছে অনেকগুলো দশক! কিন্তু এখনও শরীর আর মনের এই দ্বন্দ্ব আমাদের পিছু ছাড়েনি! তা এখনও সমান ভাবেই প্রাসঙ্গিক! যদিও দ্বন্দ্বটি যে ঠিক কোথায়, তা মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেক বছর পরে বাংলা সাহিত্যে লিখে গিয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। মনের মানুষ উপন্যাসে তিনি লালন ফকিরের জবানিতে জানিয়ে দিতে দ্বিধা বোধ করেননি যে শরীর জাগে তার নিজের নিয়মে, এক্ষেত্রে সব সময়ে মনের হাত থাকে না!

এই পর্বে বিশেষজ্ঞা পল্লবী বার্নওয়ালকে চিঠি দিয়েছেন যিনি, সেই ব্যক্তিটিও রয়েছেন ঠিক একই রকম টানাপোড়েনে। সাফ জানিয়েছেন যে তিনি মনের মানুষ খুঁজছেন। কিন্তু তাঁকে পাচ্ছেন না! বদলে এক রাতের শারীরিক সম্পর্ক বা ক্যাজুয়াল সেক্সের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁকে ফিরে আসতে হচ্ছে নিজের জগতে। যা ক্রমাগত তাঁর মনে গ্লানির জন্ম দিচ্ছে!

এক্ষেত্রে সবার প্রথমে জানিয়ে দিতে দ্বিধা করেননি পল্লবী যে ক্যাজুয়াল সেক্স খারাপ কিছু নয়। তবে যতই আধুনিক হয়ে উঠুক না কেন, আমাদের সমাজ এখনও যে ক্যাজুয়াল সেক্স ব্যাপারটাকে ক্যাজুয়ালি নিতে পারে না, সেটাও উল্লেখ করতে ভুলছেন না তিনি। আর সামাজিক এই ধারণাই কখনও কখনও আমাদের বিষাদগ্রস্ত করে তোলে, নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হয় একেক সময়ে।

কিন্তু শরীরের নিজস্ব দাবি তো থাকবেই! তাই পল্লবীর পরামর্শ- এক্ষেত্রে একটা সীমারেখা নিজেকেই ঠিক করতে হবে। নিজের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় আসতে হবে। ঠিক করতে হবে যে কোথায় গিয়ে একটা দাগ টেনে দেওয়া দরকার! এক্ষেত্রে বন্ধুদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, জানিয়েছেন পল্লবী। যেমন, ডেটে যাওয়ার আগে বন্ধুদের তা জানিয়ে রাখা যায়। বলা যায় যে সময়ে সময়ে ফোন করে বা টেক্স করে খবর নিতে! সেক্ষেত্রে গা ভাসিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না! এর পরেও যদি অন্য পক্ষ যোগাযোগ রাখায় ইচ্ছুক হয়, তখন একটা মানসিক আদানপ্রদান তৈরি হওয়ার জায়গা থাকবে। কে বলতে পারে, হয় তো এই ভাবেই খুঁজে পাওয়া যাবে মনের মানুষটিকে!

তাই পল্লবীর দাবি- ডেটিং বন্ধ করা ঠিক হবে না। চোখকান খোলা রাখলে, বিবেচনা ঠিক থাকলে ভালোবাসা নিজে থেকেই খুঁজে নেবে সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে। তাতে শরীরও যেমন শান্ত থাকবে, মনও তেমনই অস্থির হয়ে পড়বে না!

Pallavi Barnwal

Published by:Ananya Chakraborty
First published: