হাসপাতালের রোগী আর কর্মীদের দেদার আনন্দ দিয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে রোবট ফ্রানজি

হাসপাতালের রোগী আর কর্মীদের দেদার আনন্দ দিয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে রোবট ফ্রানজি

ছবি- এএফপি

কাজের প্রতি অত্যন্ত দায়বদ্ধ ফ্রানজি। তাই তার কথা শুনেও যদি কেউ যদি রাস্তা থেকে সরে না দাঁড়ায় সে খুব বিচলিত হয়ে পড়ে।

  • Share this:

#মিউনিখ: ফ্রানজিকে জার্মানির মিউনিখ শহরের এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল সাফাইয়ের কাজ করার জন্য। কিন্তু সেই কাজ সেরেই হাসপাতালের রোগী আর কর্মীদের দেদার আনন্দ দিয়ে বেড়াচ্ছে এই যন্ত্রমানবী। হ্যাঁ, ফ্রানজি একটি মেয়ে রোবট। দেখা যাচ্ছে যে হাসপাতাল ঝকঝকে-তকতকে করা ছাড়াও লকডাউনের সময়ে রোগী আর কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর কাজও করছে সে।

হাসপাতাল পরিষ্কার করার রাস্তায় কেউ যদি বাধা হয়ে পথ জুড়ে দাঁড়ান, খুব মুশকিলে পড়ে যাচ্ছে ফ্রানজি। চোস্ত জার্মান ভাষা আর বিনয় নিয়ে সে বলছে "আমায় এখন এই জায়গাটা পরিষ্কার করতে হবে, আপনি দয়া করে সরে দাঁড়ান।" কাজের প্রতি অত্যন্ত দায়বদ্ধ ফ্রানজি। তাই তার কথা শুনেও যদি কেউ যদি রাস্তা থেকে সরে না দাঁড়ায় সে খুব বিচলিত হয়ে পড়ে। অস্থির কণ্ঠে আবার বলে ওঠে "আপনাকে সরতেই হবে। এই জায়গাটা পরিষ্কার করা এখনই প্রয়োজন।"

আর তাতেও কাজ না হলে ভারী বিপদে পড়ে যায় সে। আর তখন তার এলইডি লাগানো যান্ত্রিক চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পড়তে থাকে। যে সংস্থা এই রোবট জার্মানির এই নিউপারল্যাখ হাসপাতালে সরবরাহ করেছে তারা জানালেন যে অতিমারীর সময় রোগীর আত্মীয়দের অনুমতি ছিল না এসে দেখা করার। আর তাই ফ্রানজি মাঝে মধ্যে তাঁদের সঙ্গে একটু মশকরা করে মন ভালো করার চেষ্টা করত।

দিনে তিনবার হাসপাতাল পরিষ্কার করে এই রোবট। তার পায়ের নিচেই ঘর মোছার ব্যবস্থা করা আছে তাই চলাফেরা করলেই মেঝে এমনিতেই সাফ হয়ে যায়। অনেক রোগীই ফ্রানজির কাজ দেখে হতবাক হয়ে যান, কেউ ছবিও তোলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে অনেক রোগী সারা দিন অপেক্ষা করেন ফ্রানজির দেখা পাওয়ার জন্য। সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি বানিয়েছে এই রোবট। জার্মানি আসার আগে ইংরেজি বলত ফ্রানজি। এখন অবশ্য জার্মানই বলে। ঘর ঝাঁট মোছা করে সব পরিষ্কার রাখা ফ্রানজির প্যাশন এটা জানিয়েছে সে।

কাজ করতে করতে মাঝে মাঝেই সে প্রথাগত জার্মান গান বা পপ সঙ্গীত গেয়ে ওঠে। তবে হাজার হলেও যন্ত্র তো, তাই ঘরের কোণগুলোকে পরিষ্কার করায় এখনও সিদ্ধহস্ত হতে পারেনি সে। আর না পারলেই কেঁদে ভাসায় ফ্রানজি!

First published:

লেটেস্ট খবর