Cabin Fever: আপনি কি অস্থির, ক্লান্ত? কেবিন ফিভারে ভুগছেন না তো? জানুন বিশেষজ্ঞের মত

photo source collected

ক্লান্তি হল কেবিন ফিভারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ যার মধ্যে হতাশা, উদ্বেগের অনুভূতিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

  • Share this:

প্রতি দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই কি নিজেকে শুষ্ক ও অবসন্ন অনুভব হচ্ছে? আপনার অস্থিরতা কি দিনের বেলা আপনার পক্ষে অসুবিধাজনক হয়ে পড়ছে? তাহলে আপনার কেবিন ফিভারে (Cabin Fever) আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট এবং মাইন্ড মণ্ডলের (Mind Mandala) সহ-প্রতিষ্ঠাতা হাভোভি হায়দরাবাদওয়ালা (Havovi Hyderabadwalla) বলেছেন যে, "পূর্বে সাবমেরিন, তেল রিগ এবং জাহাজে যাঁরা দীর্ঘ সময়ের জন্য ছোট, বদ্ধ স্থানগুলিতেকাজ করতেন তাঁদের মধ্যে সাধারণত এটি দেখা যেত।" কিন্তু বর্তমানে কোভিড ১৯ মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয়রা গৃহবন্দি থাকার কারণে বর্তমানে এটি অনেক বেশি সাধারণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, ক্লান্তি হল কেবিন ফিভারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ যার মধ্যে হতাশা, উদ্বেগের অনুভূতিও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। "এই ফিভারের ফলে কিছু কিছু মানুষ এমনকি সহিংস পর্যন্ত হয়ে উঠতে পারে, আবেগপ্রবণ বা অস্থির হয়ে উঠতে পারে।" এর পিছনে অন্যতম কারণ হতে পারে তথ্যের বাধ্যবাধকতা। "বর্তমানে আমরা প্রেসার কুকারের মতো এক পরিবেশে রয়েছি। যেখানে আমাদের উপর একের পর এক তথ্যের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন সব তথ্য জমতে জমতে বোমায় পরিণত হচ্ছে, যা আমাদের প্রয়োজনীয় নয়। এগুলিই ধীরে ধীরে আপনাকে ধীর এবং দুর্দশাগ্রস্ত করে তুলছে"।

হায়দরাবাদওয়ালা মন্তব্য করেন, বেশিরভাগ মানুষেরই সকালে উঠে প্রথম কাজ নিজেদের ফোন দেখা। তাঁরা সম্পূর্ণভাবে জেগে ওঠার আগেই নিজেদের মাথা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভরে ফেলেন। এই কাজগুলি সামগ্রিকভাবে আপনার মানসিক সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, "নেতিবাচকতা অত্যন্ত সহজ, এটি বেশ আরামদায়ক, কিন্তু ইতিবাচক থাকা বেশ কঠিন কাজ"।

তাই তিনি বলছেন- বর্তমানে মহামারীর কথা মাথায় রেখে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। আপনার যা করতে ভালো লাগছে না বা যা আপনি উপভোগ করছেন না, সেগুলি করবেন না। একটা সময় পরে এই সঙ্কটের কালে মেঘ কেটে যাবে, আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসব। তাই এটি স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করুন যে, কোনও একদিন বিছানা থেকে নেমে মন ভালো না-ও থাকতে পারে, আবার অন্য একদিন অত্যন্ত সৃজনশীলও হতে পারেন।

আপনি যা ভুল মনে করছেন তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কঠিনতম কোনও কিছু করার দরকার নেই। এর জন্য আপনাকে নিজেকে চরমের দিকে ঠেলে দেওয়ার দরকার নেই। তবে নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা আপনাকে আরও বেশি উৎসাহিত হতে সাহায্য করতে পারে।

বিছানায় ওঠার এক ঘন্টা আগে, আপনার সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইজগুলি নাগালের বাইরে রাখুন, জল পান করুন এবং একটি ভালো বই নিয়ে বিছানায় যান। এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের অতিরিক্ত স্টিমুলেট হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

এটি নানা তথ্য ও ওভারএক্সপোজারের যুগ। হায়দরাবাদওয়ালা তাই সোশ্যাল মিডিয়া নিরীক্ষণ করার, আপনি কাকে এবং কোন জিনিস ফলো করছেন তা বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলছেন, "একই তথ্য পাওয়ার জন্য আপনাকর ১০টি পেজ ফলো করার দরকার নেই, এটিকে কম করে দু'টিতে নামিয়ে আনুন।”

Published by:Piya Banerjee
First published: