Home /News /life-style /
Poila Baishakh : সকালে বেগমপুরের হাজার বুটি থেকে সন্ধেয় বালুচরী, নববর্ষের গরমে অঙ্গে থাক বাংলার তাঁত!

Poila Baishakh : সকালে বেগমপুরের হাজার বুটি থেকে সন্ধেয় বালুচরী, নববর্ষের গরমে অঙ্গে থাক বাংলার তাঁত!

নববর্ষের সাজ হোক স্নিগ্ধ

নববর্ষের সাজ হোক স্নিগ্ধ

Poila Baishakh 2022 : পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানাও যেমন বজায় থাকবে, তেমনই নজর কাড়বে এদের বাহার। সব থেকে বড় কথা- গরম জব্দ হবে।

  • Share this:

#কলকাতা: অনেকেই বিরক্ত হতে পারেন! পয়লা বৈশাখের একেবারে দোরগোড়ায় এসে শাড়ির কথা তুললে!

কিন্তু যে শাড়িগুলো নিয়ে আজ কথা হবে, তার কোনওটাই হাতের বাইরে নয়, হয় তো ইতিমধ্যেই আলমারিতে তোলা হয়েও গিয়েছে। সব থেকে বড় কথা- বাংলার অতি আদরের এই পাঁচ শাড়ি চৈত্র সেলের পড়তি বেলাতেও অতি সুলভ।

তাহলে এবারের নববর্ষের দিনে অঙ্গশোভায় বাংলার সাবেকি সাদা খোলের তাঁত নয় কেন?

পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানাও যেমন বজায় থাকবে, তেমনই নজর কাড়বে এদের বাহার। সব থেকে বড় কথা- গরম জব্দ হবে।

১. সাদা কস্তা পাড় বাংলা এবং বাঙালিনীর সৌন্দর্য বললেই সবার আগে মাথায় আসে এই শাড়ির কথা। রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশকেও ঋণস্বীকার করতে হয়েছে এর কাছে- 'ধান-মাখা চুল, হাতে তার শাড়িটির কস্তা পাড়'! এবারের নববর্ষের জন্য তাই বাজার থেকে একটা কস্তা, মানে চওড়া লাল পাড়, সাদা খোলের শাড়ি তুলে আনা যেতেই পারে। যা ঢিলেঢালা হাতখোঁপা আর কপালজোড়া লাল টিপের সঙ্গতে পয়লা বৈশাখে সবার নজর কাড়বেই!

২. বেগমপুরের হাজার বুটি হাঁসের পাখার মতো ধু-ধু উড়ানের ডাক দেওয়া পুরো সাদা খোল যদি পছন্দ না হয়, তবে তা ভরিয়ে তোলা যাক রাতের আকাশের তারার মতো বুটি দিয়ে। এই জায়গায় এসে বেগমপুরের হাজার বুটি শাড়িকে কেউ মাত দিতে পারবে না। বোনা হয় একেবারে মিহি সুতোয়, ফলে পরেও আরাম। যে কোনও রঙের বুটি বেছে নেওয়া যেতে পারে, বা বহুবর্ণের বুটি ইচ্ছের সঙ্গে তাল রেখে- জমকালো অথচ আটপৌরে সাজের এ শেষ কথা! গরমের কথা মাথায় রেখে এই সাজেরও সঙ্গী হোক হাতখোঁপা।

আরও পড়ুন- পয়লা বৈশাখের সাজে লাগুক লাল-সাদার ছোঁয়া! কীভাবে সাজবেন দেখুন

৩. শান্তিপুরি ডুরে চৈত্র সেলের অতি সুলভ, অতি আদরের শাড়ি! ডুরের মহিমা বাঙালি সংসারে আলাদা করে চেনাতে হবে না। সরু বা মিহি, একরঙা বা দোরঙা- যেমন খুশি সাদা খোলের ডুরে শাড়ি বেছে নেওয়া যায়। হাতের কাছে মিললে গঙ্গা-যমুনা পাড়, নয় তো যা আছে, তা-ই সই! বিশেষ করে যাঁরা অফিসে যাবেন, মিহি সুতোর বুননে দিনমান খাটলেও গায়ে তাপ লাগবে না। সাধে কী আর লিখেছিলেন দীনবন্ধু মিত্র- 'শান্তিপুরে ডুরে শাড়ি শ্রমের অরি'! সঙ্গে ডুরের আমেজ বুঝে লম্বা একবেণী বা দুই বিনুনি আর ছোট টিপ- সবাই ঘুরে ঘুরে দেখবেন!

৪. সাদা জামদানি অনেকে বলেন, এই শাড়ির নামের মধ্যেই রয়েছে বুটির ইঙ্গিত- জাম মানে কাপড়, দানি মানে বুটি। কিন্তু এই পয়লা বৈশাখে সাদা জামদানি থেকে বুটি বাদ যাক! বরং খোল জুড়ে থাক শাপলা ফুল, কলমিলতা বা পুঁইলতা! আর পাড়ে থাক ময়ূর প্যাঁচ বা হংসবলাকা- যেমন খুশি, যা স্নিগ্ধতার পরশ ছুঁইয়ে দেবে সবার চোখে। ফুল দিয়ে সাজানো একবেণী আর ছোট টিপে যা নতুন গল্প লিখবে।

৫. তাঁত বালুচরী এতক্ষণ যে সব শাড়ি নিয়ে কথা হল, তা যে সন্ধ্যেবেলা পরা যাবে না, এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি! তবে কস্তা পাড় আর ডুরে আটপৌরে ঘরকন্নার প্রতীক, হাজার বুটি আর জামদানি কাজে ভারি হলেও নয়নসুখে স্নিগ্ধ। ওদিকে সাঁঝের সাজ একটু জমকালো না হলে চলে? তাই বেছে নেওয়া যাক সাদা খোলের বালুচরী, উঁহু, রেশম নয়, সুতির বুনন! গরমে তাহলে কষ্ট পেতে হবে না, আবার অন্যের বালুচরীর থেকেও সেটা আলাদা হবে। এই শাড়ির আঁচলে-পাড়ে বোনা থাকে মহাকাব্যের গাথা, বছরের প্রথম দিনের সাবেকি উদযাপনে যা একেবারে অনবদ্য! সঙ্গে সাদা ফুল জড়ানো হাতখোঁপা আর ছোট টিপের বাহার তো আছেই!

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Bengali New Year

পরবর্তী খবর