• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • দিনের পর দিন বাচ্চা খারাপ ব্যবহার করছে? নজর দিন আপনার বকার ধরনে, মত মনোবিদদের...

দিনের পর দিন বাচ্চা খারাপ ব্যবহার করছে? নজর দিন আপনার বকার ধরনে, মত মনোবিদদের...

গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের ভাল রাখতে, তাদের আসল পরিস্থিতি বোঝাতে, তাদের সঙ্গে শান্ত সুরে কথা বলতে হবে। বকার টোনে নয়, শান্ত ভাবে তাদের বোঝাতে হবে এবং এমন ভাবে কথা বলতে হবে, যাতে তারা ভয় না পায়।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের ভাল রাখতে, তাদের আসল পরিস্থিতি বোঝাতে, তাদের সঙ্গে শান্ত সুরে কথা বলতে হবে। বকার টোনে নয়, শান্ত ভাবে তাদের বোঝাতে হবে এবং এমন ভাবে কথা বলতে হবে, যাতে তারা ভয় না পায়।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের ভাল রাখতে, তাদের আসল পরিস্থিতি বোঝাতে, তাদের সঙ্গে শান্ত সুরে কথা বলতে হবে। বকার টোনে নয়, শান্ত ভাবে তাদের বোঝাতে হবে এবং এমন ভাবে কথা বলতে হবে, যাতে তারা ভয় না পায়।

  • Share this:

#কলকাতা: বাচ্চারা দুষ্টুমি করে, এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তাদের মধ্যে খারাপ বা অযাযিত আচরণ তৈরি হলে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকরা। অনেক সময়েই এর জন্য স্কুল থেকে ডেকে পাঠানোও হয়। এর ফলে মাথা গরম করে বা চিন্তায় পড়ে বাচ্চাদের বকাবকি করে ফেলেন তাঁরা। এবার এই বকাবকি করতে গিয়ে কখনও কখনও ভাষা বা বকার টোনের দিকে খেয়াল থাকে না। নতুন গবেষণা বলছে, এমন হলে কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে সেই টোনে কথা বলার প্রবণতা বাড়বে বা বাচ্চারাও সেই ভাষা শিখবে। ফলে, তাঁদের শৃঙ্খলা শেখানো বা নিয়মানুবর্তী করে তুলতে এই দিকটায় নজর দিতে হবে।

স্কুলে কারও জিনিস চুরি করে নিয়েছে, কাউকে মেরে ধরে তার টিফিন খেয়ে নিয়েছে বা খুব মারপিট করে, ঝগড়া করে, এমন ডানপিটে বাচ্চা দেখাই যায়। বাড়িতে ছোট ভাই-বোন বা বড় কেউ থাকলে, তার সঙ্গেও মারপিট করতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি সামলাতে অনেক বাবা-মায়েরাই বাচ্চাদের বকাবকি করেন। এই বকাবকির বদলেই যদি তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে, পরিস্থিতি বুঝিয়ে শান্ত করা যায় তাহলে কিন্তু তাদের মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব কমে যেতে পারে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় কিছু দিন আগে এই বিষয়টির উপরে একটি সমীক্ষা করে। আমেরিকার বেশ কিছু বাচ্চার উপর সমীক্ষাটি করা হয়। United Nations Children's Fund-এর থেকেও তথ্য নেওয়া হয়। সমীক্ষাতে দেখা হয়, বিভিন্ন ধরনের বকাবকি কী ভাবে বাচ্চাদের উপর প্রভাব ফেলছে!

এক্ষেত্রে মারধর করার প্রভাবও বাচ্চাদের উপরে কতটা পড়ে, তা দেখা হয়। যদিও আমেরিকার বেশিরভাগ এলাকায় এই বিষয়টি নিষিদ্ধ এবং শুধু আমেরিকা নয়, বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই বাচ্চাদের ফিজিক্যাল পানিশমেন্ট, গায়ে হাত তোলা, কান ধরে ওঠবস বা এই ধরনের শাস্তি নিষিদ্ধ রয়েছে, তবুও সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের ব্যবহার বা শাস্তি বাচ্চাদের আক্রমণাত্মক করে তুলছে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বাধা দিচ্ছে।

গবেষকরা এটাও দেখেন, যে সব বাচ্চাদের তাদের বাবা-মায়েরা মারধর করার পরিবর্তে বা বকাবকির পরিবর্তে বুঝিয়ে শান্ত করেন, তারা অনেক বেশি সামাজিক হয়। সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মারধর না করলেও, বকাবকির ধরন ঠিক না হলেও কিন্তু বাচ্চাদের মধ্যে তার প্রভাব পড়ে। এবং একাধিক বাচ্চা শুধু এই জন্যই ছোট থেকে আক্রমণাত্মক স্বাবের হয়ে থাকে। কারণ তাদের বাবা-মায়েরা তাদের সঙ্গে যে ভাবে কথা বলে বা যে ভাষা ব্যবহার করে বকাবকির সময়ে, তারাও সেটা শিখে যায়।

তাই গবেষকরা জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের ভাল রাখতে, তাদের আসল পরিস্থিতি বোঝাতে, তাদের সঙ্গে শান্ত সুরে কথা বলতে হবে। বকার টোনে নয়, শান্ত ভাবে তাদের বোঝাতে হবে এবং এমন ভাবে কথা বলতে হবে, যাতে তারা ভয় না পায়।

তাছাড়াও গবেষকরা আরেকটি বিষয়ের উপরে জোর দিতে বলছেন, তা হল বাচ্চাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো। তারা কী পছন্দ করে, তাদের বড় হওয়ার সঙ্গে পছন্দ-অপছন্দ কতটা পালটাচ্ছে সেটা জানা, তাদের কাছে তাদের গল্প শুনতে চাওয়া ইত্যাদি করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ একদিন বাচ্চাদের বকেও দেন, তাহলেও কিন্তু তাদের উপর সেই বকুনির প্রভাব পড়বে না বা তারা মানসিক ভাবে সেটা নিয়ে ভেঙে পড়বে না। এমনকি বকলে তাদের রাগও হবে না!

Published by:Shubhagata Dey
First published: