লাইফস্টাইল

corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনার জেরে বেড়েছে প্যানিক অ্যাটাকের প্রবণতা! কী ভাবে থাকবেন সুস্থ, জেনে নিন

করোনার জেরে বেড়েছে প্যানিক অ্যাটাকের প্রবণতা! কী ভাবে থাকবেন সুস্থ, জেনে নিন

এই প্যানিক অ্যাটাক কী, কী ভাবে মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলে এবং এর চিকিৎসা কী, জেনে নিন

  • Share this:

Panic Attack: বছর শেষ হতে বাকি আর মাত্র তিন দিন। পুরো বছরটাই করোনাভাইরাস-এর দৌলতে একদম অন্য ভাবে কেটেছে সকলের। সারা বিশ্ব দেখেছে লকডাউন। যার ফলে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। কাছের মানুষকে হারিয়ে তাঁর শোক নিয়ে বাঁচতে শিখেছেন অনেকে। শ্রমিকদের রক্তে ভিজতে দেখে তাঁদের শোক, কষ্ট, যন্ত্রণার সঙ্গী হয়েছেন অনেকে। আর্থিক অবস্থার খারাপ দিক, সংসারে টান, খেতে না পাওয়া এবং পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিনের পর দিন কোথাও আটকে পড়া, এই সবই দেখেছে ২০২০। ফলে আনলক হলেও চাকরি না থাকায়, কাছের মানুষ না থাকায় পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়নি অনেকের। আর হলেও আতঙ্ক, ভয় মানুষের মধ্যে রয়েছে। প্রতিটা মানুষই একাধারে যেমন এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে জর্জরিত, তেমনই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যদি হয়, সেই নিয়েও আতঙ্কে। যার ফলে এই সময়ে, এই পরিস্থিতিতে অ্যাংজাইটি, প্যানিক আসাটা খুব স্বাভাবিক বিষয়।

বেশ কিছু তথ্য বলছে, কয়েকমাস আগে প্যানিক অ্যাটাক শব্দটি ছিল ইন্টারনেটে সব চেয়ে বেশি সার্চ হওয়া কিওয়ার্ড। এই প্যানিক অ্যাটাক কী, কী ভাবে মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলে এবং এর চিকিৎসা কী ভাবে করানো যেতে পারে, জেনে নেওয়া যাক-

করোনা পরিস্থিতিতে অ্যাংজাইটি বেড়ে যাওয়া

একদিকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ফলে এই বছরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা হয়নি, তার উপরে বাড়িতে আটকে পড়া, যার ফলে অ্যাংজাইটির সমস্যা বহু মানুষের মধ্যেই দেখা গিয়েছে। সঙ্গে করোনা (Coronavirus)-র ভয়ও বাদ যায়নি। এটিও অ্যাংজাইটির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জামা নেটওয়ার্ক নামের এক অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা বলছে, দু'মাস আগে ইন্টারনেটে প্যানিক অ্যাটাক ও অ্যাংজাইটি এই দু'টি শব্দ সব চেয়ে বেশি সার্চ হয়েছিল। বিশেষ করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যেদিন থেকে করোনা-র জন্য ন্যাশানাল এমারজেন্সি জারি করে দেন। অর্থাৎ এই সময়ে অ্যাংজাইটি থেকেই এই ধরনের শব্দ সার্চ করার প্রবণতা মানুষের বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্যানিক অ্যাটাক কী?

হঠাৎ কোনও নির্দিষ্ট জিনিস নিয়ে ভয় পাওয়া। এবং সেই ভয় অত্যন্ত বেশি হলে সেটাকে প্যানিক অ্যাটাক বলা হয়। এ ক্ষেত্রে এই সময়ে বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, বুকে ব্যথা, হঠাৎ ঘাম হওয়া বা খুব ঠাণ্ডা লাগা বা শরীরে অস্বস্তি হতে পারে।

অনেক সময়ে জেনেটিক কারণে প্যানিক অ্যাটাকের সমস্যা হয়ে থাকে। কিন্তু তা ছাড়াও স্ট্রেসর জন্যও প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে। এমনকি ঘুমের মধ্যেও অনেকের প্যানিক অ্যাটাক হয়। ঘুমের মধ্যে এমন হলে কিন্তু শরীর আরও খারাপ হতে পারে। কারও যদি মাঝে মাঝে প্যানিক অ্যাটাক হয়, তা হলে তার অন্য কারণ থাকতে পারে। কিন্তু যদি সব সময়ে বা বার বার এমন হতে থাকে, তা হলে তাকে প্যানিক ডিজঅর্ডার বলা হয়ে থাকে।

প্যানিক অ্যাটাকের চিকিৎসা

প্যানিক অ্যাটাক হলে বিশেষ করে বার বার হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তার কারণ, প্যানিক অ্যাটাক হলে বুঝতে হবে, এটির পিছনে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি বা মানসিক কোনও সমস্যা জড়িয়ে রয়েছে। এই প্যানিক অ্যাটাক অনেক সময় সুইসাইড করার প্রবণতাও বাড়িয়ে দেয়। বিএমসি সাইকিয়াট্রি নামের অনলাইন একটি জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেন্টাল হেল্থ এপিডেমিওলজিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারিত তথ্য বলছে, যাঁরা প্যানিক ডিজঅর্ডারে ভোগে, তাঁদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ মানুষের মধ্যে সুইসাইড করার প্রবণতা থাকে।

এই সমস্যা সাইকোথেরাপির বিভিন্ন পদ্ধতিতে সেরে উঠতে পারে। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (Cognitive Behaviour Therapy) বা অ্যাংজাইটি ও মানসিক অবসাদ সারিয়ে তুলতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যাতে এই ধরনের প্যানিক অ্যাটাকের প্রবণতাও কমতে পারে।

Published by: Ananya Chakraborty
First published: January 1, 2021, 5:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर