লাইফস্টাইল

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রয়োজনের বেশি ঘুমোচ্ছেন ? এই কঠিন রোগে ভুগছেন না তো ?

প্রয়োজনের বেশি ঘুমোচ্ছেন ? এই কঠিন রোগে ভুগছেন না তো ?
Representative Image

শারীরিক শ্রম এবং মানসিক নানা চাপে অতিরিক্ত ঘুম পায়

  • Share this:

ব্যস্ত জীবনে শরীর সুস্থ রাখা যেন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালে কোনও রকমে নাকে-মুখে গুঁজে অফিসে যাওয়া, দিনভর কাজ আর কাজ, বাড়ি ফিরে আবার পরের দিনের যুদ্ধের প্রস্তুতি। ঘরে বসে কাজেও চাপ কম নয়, যেন জল খাওয়ারও সময় পাওয়া যায় না! ও দিকে, যে-ই লাঞ্চ হল, তার পর থেকেই চোখ বুজে আসে ঘুমে। কিন্তু আপনার যদি সারাক্ষণ ঘুম পায় এবং ঘুমিয়েও পড়েন, তা হলে সেটা বেশ চিন্তার বিষয়।

আসলে ঘুমের দু'টি অংশ থাকে। আরইএম (র্যাপিড আই মুভমেন্ট) এবং নন-আরইএম। আরইএম-র সময় আমরা সব চেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখি। দীর্ঘ দিন ঘুম বঞ্চিত থাকলে অথবা দরকারের চেয়ে বেশি সময় ঘুমোলে আরইএম-র সময় আরও দীর্ঘ হতে থাকে, ফলে দুঃস্বপ্ন দেখাও বাড়তে থাকে।

লন্ডনে বসবাসকারী পঞ্চাশোর্ধ্ব কিছু মানুষ এবং চিনে বসবাসকারী ৪৫ বছরের ওপরের মোট ২৮ হাজার ৭৫৬ জনকে নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়েছিল সম্প্রতি। তাতে দেখা গিয়েছে যাঁরা ৪ ঘণ্টা অথবা তার থেকে কম ঘুমোন, তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই বেশি চৌখস হন। অন্য দিকে যাঁরা প্রতি দিন ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমোন, তাঁদের কগনিশন ক্ষমতা কমতে থাকে। অর্থাৎ অস্বাভাবিক বেশি ঘুম এবং ঘুমহীনতা- দুই আমাদের স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশকে নষ্ট করে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, একজন সুস্থ মানুষের গড়ে দৈনিক সাত ঘণ্টা ঘুম দরকার। তার থেকে বেশি ঘুম আমাদের শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

অতিরিক্ত ঘুমের কারণ: শারীরিক শ্রম এবং মানসিক নানা চাপে অতিরিক্ত ঘুম পায়। তা ছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলি হল-

১. ঠিক সময় না ঘুমোনো

অনেকেই বেশ রাত করে ঘুমোন, তাই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। ফলে সারা দিন ঘুম পায়, শরীরে অস্বস্তি লেগেই থাকে। একেক দিন একেক সময়ে ঘুমোনোও কিন্তু শরীরের সাইকেলের জন্য ক্ষতিকারক।

২. আধুনিক লাইফস্টাইল ঘটিত অসুখ

আজকাল লাইফস্টাইলের জন্য অসুখ নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে । মহিলাদের মধ্যে যেমন দেখা দিচ্ছে থাইরয়েড, পিসিওডি, সুগার, ডায়াবেটিস। এগুলো কিন্তু শরীরে ক্লান্তি আনে এবং ফলস্বরূপ অতিরিক্ত ঘুম পায়।

৩. অবসাদ

জীবনে নানান প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হয়, সে কাজের চাপ হোক বা অন্য চিন্তা। এ সব নানা সমস্যার জন্য অনেক সময়ে অবসাদ আসে। শুধু শরীর খারাপ হলেই যে ঘুম পায়, তা কিন্তু নয়। স্ট্রেস, উদ্বেগ, মানসিক ক্লান্তিতেও আমাদের বড্ড বেশি ঘুম পায়। তাই নিজেই নিজের অবসাদগুলো চিনে সেটা কাটিয়ে তোলার ব্যবস্থা করুন।

৪. ভারি খাবার খাওয়া

দুপুরে যদি খুব বেশি ভারি খাবার খান, তা হলে কিন্তু দিনের বেলা ঘুম পেতে বাধ্য। আসলে আমাদের খাবার হজম হতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। আর বেশি তেল-মশলাযুক্ত খাবার, হাই প্রোটিন- এগুলো হজম হতে তুলনায় আরও বেশি সময় লাগে। দুপুরে যদি খুব বেশি পরিমাণে ভাত খান তা হলে কার্বোহাইড্রেট শরীরে বাড়বে, তার কারণে ঝিমুনি আর ঘুম পাবেই। তাই আপনার শরীরের যতটা প্রয়োজন, তার থেকে বেশি না খাওয়াই ভালো। রাতের খাবার খাওয়ার পর-পরই শুয়ে পড়বেন না, তাতে খাবার হজম হয় না। খাবার হজম না হলে ঘুমের ব্যাঘাত হবে। আর রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন ঘুম-ঘুম ভাব থেকে যায়।

৫. শরীরের গঠন

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে আমাদের শরীরের ৩ প্রকার দোষ হতে পারে- বাত, পিত্ত এবং কফ। বাত অর্থাৎ যাঁদের শরীরে হাওয়া বা গ্যাসের পরিমাণ বেশি, পিত্ত অর্থাৎ যাঁদের শরীর খুব বেশি মাত্রায় গরম এবং কফ অর্থাৎ যাঁদের শরীরে জলীয়ভাব বেশি থাকে। যাঁদের শরীরে জলের পরিমাণ বেশি, তাঁদের মধ্যে সব সময় একটা ঘুম ভাব রয়ে যায়, একটা ক্লান্তিবোধ লেগেই থাকে।

অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা থেকে কী হতে পারে?

১. ঘুমের আধিক্যের জন্য আপনার শরীরে থাবা বসাতে পারে ডায়াবেটিস।

২. যাঁদের বেশি সময় ধরে ঘুমের অভ্যেস, একদিন কম ঘুমোলেই তাঁদের মাথা-যন্ত্রণার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

৩. আবার দীর্ঘক্ষণ শোওয়ার ফলে হাত চলা বা কোনও রকম মুভমেন্ট হয় না, ফলে মেদ বাড়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. অন্য দিকে এই একই কারণে কোমরে, পিঠে যন্ত্রণা হতেও দেখা যায় অনেকের।

৫. মানসিক অবসাদ থাকলে মানুষ অনেক সময় বেশি ঘুমায়। কিন্তু তাতে মানসিক অবসাদ আরও বাড়ে।

আর সব শেষে যেটি না বললেই নয়, সেটি হল হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা দ্বিগুণ বাড়ায় অতিরিক্ত ঘুম। তাই এই অভ্যেস থাকলে আজই বদলান।

Published by: Ananya Chakraborty
First published: September 26, 2020, 2:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर