ভেজা চুলে কখনও ঘুমোবেন না! ব্রন থেকে ইনফেকশন, হতে পারে একাধিক সমস্যা

প্রতীকী ছবি

সাবধান! চুল না শুকিয়ে অর্থাৎ ভেজা চুলে দীর্ঘক্ষণ ঘুমোনো মানে হাজার সমস্যা কাছে ডেকে আনা।

  • Share this:

এই অভ্যেসটা অনেকেরই আছে। অনেকে অবশ্য রোজকার কাজের ভিড়ে ঠিকঠাক সময় পান না। দিনে সময় হয় না বলে রাতে চুল ধুয়ে নেন। আর সেই ভেজা চুলেই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার অনেকে দুপুর বেলাতেই এই কাজ করেন। তবে সাবধান! চুল না শুকিয়ে অর্থাৎ ভেজা চুলে দীর্ঘক্ষণ ঘুমোনো মানে হাজার সমস্যা কাছে ডেকে আনা। কিন্তু ঠিক কী কী সমস্যা হয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

চুল ভেঙে যাওয়া- চুল ভেজা থাকা মানে চুলের ফলিকলগুলি দুর্বল থাকে। এক্ষেত্রে ভেজা চুলে দী র্ঘক্ষণ একই ভাবে থাকার অর্থ চুলকে আরও দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দেওয়া। এতে চুল ঝরে পড়ার পরিমাণও বেড়ে যায়।

ফাঙ্গাল ইনফেকশন-ভেজা চুলে শোওয়া মানে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল সংক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। শরীরের উষ্ণতা ও মাথার আর্দ্রভাব এই সমস্ত ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

খুশকি- ভেজা চুলে দীর্ঘক্ষণ শোওয়ার ফলে চুলের স্বভাবজাত অয়েল প্রোডিউসিং ক্ষমতা কমে যায়। আর একটা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে আরও বেশি করে বংশবিস্তার করে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও খুশকিরা। এতে চুল ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খুশকির বাড়াবাড়িও লক্ষ্য করা যায়।

ব্রন হওয়ার সম্ভাবনা- চুলে খুশকি হওয়া মানে নানা ধরনের ব্রন হতে পারে। চুলের মধ্যে ছোট ছোট ফোঁড়াও বেরোতে পারে। এবার যদি কেউ ভেজা চুলে বালিশের উপরে মাথা রেখে ঘুমান, তাহলে বালিশে মুখের অংশটিও থাকে। এবার সেই ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করতে শুরু করে। এক্ষেত্রে মুখে বা মাথার আশপাশে নানা ধরনের ব্রন বেরোতে পারে।

ঠাণ্ডা লাগার প্রবল সম্ভাবনা- ভেজা চুলে দীর্ঘ ক্ষণ ঘুমোলে ঠান লাগার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। চুল শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি এই জল শরীরের নানা অংশ শোষণ করে নেয়। আর আর্দ্রভাবের জেরে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। ফলে, কফ-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা, অল্পবিস্তর জ্বর এমনকি কোনও ভাইরাল জ্বরও হতে পারে। দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বিধ্বস্ত হয়।

এক্ষেত্রে ভেজা চুলকে রক্ষা করতে কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে-

হেয়ার কিউটিকলের বিরুদ্ধে লড়তে চুলে কন্ডিশনার লাগানো যেতে পারে। এতে চুলে জট ধরবে না। চুলের ভঙ্গুরভাব দূর হবে। চুল মজবুত থাকবে।

ভেজা চুলে ঘুমোতে হলে সিল্কের কোনও বালিশের কভার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চুলের ক্ষয়রোধে সাহায্য করতে পারে।

ভেজা চুলের ভঙ্গুরতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী নারকেল তেল। তাই বিছানায় যাওয়ার আগে চুলে ভালো করে নারকেল তেল মালিশ করা যেতে পারে। তবে যদি কারও একজিমা থাকে, তাহলে রাতে চুলে তেল না দেওয়াই ভালো। এক্ষেত্রে কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া একান্ত কাম্য।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: