লাইফস্টাইল

corona virus btn
corona virus btn
Loading

সুখের স্বপ্ন আর আসে না, করোনাকালে অনিয়মিত ঘুমে শুধুই উৎকণ্ঠা ও দুঃস্বপ্ন জানাচ্ছে সমীক্ষা

সুখের স্বপ্ন আর আসে না, করোনাকালে অনিয়মিত ঘুমে শুধুই উৎকণ্ঠা ও দুঃস্বপ্ন জানাচ্ছে সমীক্ষা

এই স্ট্রেস বা মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হল সামাজিক দূরত্ব এবং সবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা

  • Share this:

বেঙ্গালুরুতে কর্মসূত্রে একা থাকেন জিশান খান। মার্চে যখন দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হয়, জিশান তার প্রভাব একদম বুঝতে পারেননি। কিন্তু কিছুদিন পরেই তিনি দেখেন যে তাঁর ঘুম ঠিক মতো হচ্ছে না। এমনকি তাঁর ঘুমের প্যাটার্ন ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে শুরু করে। তিনি বলেন, লকডাউনের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মাস থেকে একটা অদ্ভুত ব্যাপার শুরু হয়। তিনি লম্বা লম্বা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। আশ্চর্যের বিষয় হল এই যে স্বপ্ন দেখতে দেখতে তাঁর ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু যখন আবার ঘুমোতেন, ওই স্বপ্নের শেষটুকু দেখতে পেতেন!

লকডাউনের প্রভাবে বাড়িতে থাকার মেয়াদ বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। তাই অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় কাটাচ্ছেন। জিশানের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। জিশান নানা রকমের অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতেন। কখনও দেখতেন, তিনি কোনও রাক্ষসের সঙ্গে লড়ছেন আবার কখন বা এটা দেখতেন যে সেই রাক্ষস তাঁকে আক্রমণ করছে।

জিশান একা নন। সারা বিশ্বে এমন অনেক মানুষ এই অতিমারীর সময়ে এ রকম দীর্ঘ এবং অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছেন। একে বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্যানডেমিক ড্রিম বা অতিমারীর স্বপ্ন।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাইকিয়াট্রি বিভাগের মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক দেদ্রে বেরেট এই স্বপ্নগুলো আরও ভালো করে বিশ্লেষণ করার জন্য একটা অনলাইন সার্ভে করেন। বেরেট দেখেন যেহেতু ভাইরাস নিয়ে সবাই এত চিন্তিত, সে জন্য তাঁদের স্বপ্নগুলো অনেকটা সেই ভাইরাসেরই রূপক। যেমন কেউ দেখেছেন যে একটি জীবাণু ভর্তি পুকুরে তিনি পড়ে গিয়েছেন। আবার কেউ দেখেছেন যে জীবাণু তাঁকে তাড়া করছে। আসলে আমাদের জেগে থাকা আর ঘুমের সঙ্গে আমাদের ভাল থাকা বা না থাকা নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন যে আপনি যদি দুঃস্বপ্ন দেখেন, তার মানে আপনার মনে রয়েছে চাপা স্ট্রেসের গভীর ছায়া।

ট্রমা থেরাপিস্ট রুচিতা চন্দ্রশেখর বলছেন যে এই স্ট্রেস বা মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হল সামাজিক দূরত্ব এবং সবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা। রুচিতা পরামর্শ দিচ্ছেন যে এর হাত থেকে মুক্তি পেতে গেলে প্রতি দিন একই রকম রুটিন মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকলে এবং রুটিন অনুসরণ করলে এই উল্টোপাল্টা স্বপ্ন দেখার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। তা ছাড়া মনোবিদ্যার সাহায্যে বিভিন্ন থেরাপি করলেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যার জন্য মনোবিদের পরামর্শ নেওয়াই উচিত হবে!

Published by: Ananya Chakraborty
First published: October 19, 2020, 4:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर