লাইফস্টাইল

corona virus btn
corona virus btn
Loading

মকর সংক্রান্তি ২০২১: ৬ রাজ্যের ৬ বিশেষ খাবারে উদযাপিত হোক পুণ্যতিথি, রইল রেসিপি

মকর সংক্রান্তি ২০২১: ৬ রাজ্যের ৬ বিশেষ খাবারে উদযাপিত হোক পুণ্যতিথি, রইল রেসিপি

মকর সংক্রান্তি ২০২১: দিন ক্ষণ, সময় ও পূণ্য তিথি একনজরে

  • Share this:

#কলকাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে এক পার্বণ ইতিমধ্যেই হাজির। পিঠে পুলির উৎসব বা মকর সংক্রান্তি আর দু'দিন পরই। এই উৎসব শুধু বাঙালিরা পালন করে এমন নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষই এই দিনটিকে বিভিন্ন নামে পালন করে থাকে। কেউ পোঙ্গল বলে, কেউ মকর সংক্রান্তি, কেউ লোরি, কেউ বা বিহু।

একদিকে যেমন এই দিন নতুন ধান ওঠার আনন্দে পালিত হয়, তেমন অন্য দিকে, শীতকালের শেষ ও গরমের শুরু হওয়ার দিকটিও মাথায় রাখতে হয়। মকর রাশিতে সূর্যের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দিনটি মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত হয়েছে।

মকর সংক্রান্তি ২০২১: সময় ও পূণ্য তিথি- মকর সংক্রান্তিতে বিশেষ পুজো হয়ে থাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তাই তিথি, নক্ষত্র মিলিয়ে নেওয়ার ব্যাপার থাকে। এই বছর মকর সংক্রান্তি পড়েছে বৃহস্পতিবার। পুণ্য কলা শুরু হচ্ছে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে, শেষ হচ্ছে বিকেল ৫টা ৪৫মিনিটে। মহা পুণ্য কলা শুরু হচ্ছে সকাল সাড়ে ৮টায় ও শেষ হচ্ছে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্ন হচ্ছে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট।

এই সংক্রান্তির দিন বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ বিভিন্ন বিশেষ খাবার আয়োজন করে থাকে, তার মধ্যে ৬ রাজ্যের ৬টি খাবারের রেসিপি রইল এখানে-

১) পাটিসাপটা (পশ্চিমবাংলা)

বাংলায় মকর সংক্রান্তির উৎসবকে পিঠে পুলির উৎসবও বলা হয়ে থাকে। এই দিন যে সকল পিঠে বাংলার প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতে বানানো হয়ে থাকে, তার মধ্যে পাটিসাপটা অন্যতম জনপ্রিয়।

নতুন গুড়, নারকেল, সুজি, ময়দা দিয়ে তৈরি হয় এটি।

পাটিসাপটা বানাতে লাগবে (৬ জনের জন্য)-

১ কাপ ময়দা |  ১/২ কাপ সুজি | ১/৪ কাপ চালের গুঁড়ো| দেড় কাপ থেকে ২ কাপ দুধ |  তেল | ৩ কাপ নারকেল কোড়ানো বা খোয়া | খেজুর গুড় বা ২ চা চামচ চিনি | ৩ থেকে ৪টে এলাচ

পদ্ধতি

প্রথমে পাটিসাপটার ভিতরে পুরটা বানিয়ে ফেলতে হবে।

তার জন্য নারকেল কোড়া বা খোয়া গুড় বা চিনির সঙ্গে কড়াইয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে দুধ দিয়ে দিতে হবে। ভালো করে মিশিয়ে, অল্প পাক ধরলে নামিয়ে নিয়ে হবে।

তাতে এলাচ দিয়ে ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য ২০ মিনিট মতো রেখে দিতে হবে।

এবার একটি পাত্রে ময়দা, সুজি ও চালের গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে। তাতে এবার দিতে হবে দুধ। ভালো করে মেখে নিতে হবে। একটু ঘন হবে ব্যাটারটি।

এবার কড়াইয়ে তেল দিয়ে ব্যাটারটি হাতায় করে দিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে একটু। তার পর পুর দিয়ে দু'দিক ভাঁজ করে উলটে দিতে হবে। লালচে হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে।

মাথায় রাখতে হবে, এই ডিশটি ডুবো তেলে ভাজা হয় না। অয়েল ব্রাশ করে দেওয়া যেতে পারে বা সামান্য় তেল দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

২) দই-চিড়ে-গুড় (বিহার)

মকর সংক্রান্তির দিন গুড়, তিলের ব্যবহার অনেকেই করে থাকে। নতুন গুড় দিয়ে চিড়ে খাবার রীতি রয়েছে বিহারে। একে দই-চিড়ে-গুড় বলে থাকে বিহারের মানুষজন।

উপকরণ

১ কাপ চিড়ে | ১ কাপ দই | ১ চা চামচ গুড়

পদ্ধতি

চিড়ে ভালো করে ধুয়ে তাতে দই ও গুড় মিশিয়ে নিতে হবে।

৩) তিলের পাটালি বা তিলের চিক্কি (হরিয়ানা)

বাংলায় যাকে তিলের পাটালি বলা হয়, সেটাই তিলের চিক্কি। এমনি চিক্কি জনপ্রিয় দেশের প্রায় সব প্রান্তেই। কিন্তু এই বিশেষ দিনে হরিয়ানা, দিল্লি, পঞ্জাবে বিশেষ খাবার হিসেবে বানানো হয় তিলের চিক্কি।

উপকরণ

২০০ গ্রাম তিল | ৫০০ গ্রাম চিনি | ১ কাপ জল | ১ চা চামচ বেকিং সোডা | চিক্কির থালা বা বেকিং ট্রে

পদ্ধতি

প্রথমে একটি পাত্রে জল ও চিনি দিয়ে ক্যারামেল বানিয়ে নিতে হবে। ক্যারামেল হওয়ার পরে সেটাকে আরেকটু শক্ত করে তাতে তিল দিয়ে দিতে হবে। দু'মিনিট নেড়ে নামিয়ে চিক্কির থালা বা বেকিং ট্রেতে দিয়ে দিতে হবে। একটু পাতলা লেয়ার করতে হবে।

৪) পুরান-পোলি (মহারাষ্ট্র)

এটিও একটি ডেসার্ট। ময়দা, বেসন দিয়ে তৈরি হয়। মহারাষ্ট্রে মকর সংক্রান্তির দিন বিশেষ খাবার হিসেবে বানানো হয়ে থাকে।

উপকরণ

১ কাপ ছোলার ডাল | ৪ কাপ জল | ১ কাপ চিনি | ১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো | জায়ফল গুড়ো | ২ কাপ ময়দা | ১ চা চামচ নুন | ১ টেবিল চামচ ঘি

পদ্ধতি

প্রথমে একটি প্রেসার কুকারে ছোলার ডাল ও জল দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। ৩ থেকে ৪টে সিটি পড়লেই নামিয়ে নিতে হবে।

ছোলার ডাল ঠাণ্ডা হলে, তা ভালো করে মেখে নিতে হবে।

এবার প্রেসার কুকারে ওই ছোলার ডাল দিয়ে তাতে চিনি অ্যাড করতে হবে ও হালকা আঁচে রান্না করতে হবে।

এবার প্রেসার কুকারের মিশ্রণটিতে জায়ফল গুঁড়ো ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে দিতে হবে। যতক্ষণ না শুকনো হচ্ছে নেড়ে যেতে হবে। পরে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে।

এবার অন্য একটি পাত্রে ময়দা, নুন ও ঘি দিয়ে ভালো করে মেখে নিতে হবে। পর জল দিয়ে আটার মতো মেখে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার প্রেসার কুকারে বানানো পুর এই ময়দার লেচির ভিতরে দিয়ে পরোটার মতো করে বেলতে হবে ও ঘি দিয়ে ভেজে নিতে হবে।

৫) খিচুরি (হিমাচল প্রদেশ)

হিমাচলে এ দিন ঘি দিয়ে খিচুরি খাওয়া অন্যতম বিখ্যাত রীতি। এটি উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশেও খাওয়া হয়ে থাকে।

উপকরণ

১ কাপ বাসমতি চাল | ১/৪ কাপ অরহর ডাল | ১/৪ কাপ ছোলার ডাল | ১/৪ কাপ মুগ ডাল | ২ টেবিল চামচ ঘি | ১ চা চামচ জিরে | ২ টো তেজ পাতা | ১ টেবিল চামচ আদা কুচি | ১ টেবিল চামচ নুন | ১/২ চা চামচ গরম মশলা  | ১/২ চা চামচ লঙ্কা গুঁড়ো | ২-৩ টে কাঁচা লঙ্কা

পদ্ধতি

রান্নার আগে সমস্ত ডাল ও চাল একসঙ্গে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এবার একটি কড়াইয়ে ঘি দিয়ে তাতে জিরে ও তেজ পাতা দিয়ে দিতে হবে। দিতে হবে আদা ও সামান্য নুনও। এবার তাতে চাল, ডাল, ধনে গুড়ো, গরম মশলা, লঙ্কা গুঁড়ো ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিয়ে হবে। দিতে হবে জল।

সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে। প্রয়োজনে জল অ্যাড করা যেতে পারে। নামানোর পর কাঁচা লঙ্কা, ঘি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে।

৬) উন্ধিউ (গুজরাত)

শীতকালে গুজরাতের অন্যতম বিখ্যাত ডিশ এটি। উন্ধু শব্দ থেকে এসেছে এর নাম। সাধারণত উনুনে এটি রান্না করা হয় এবং এই মিক্সড সবজির উপরে চাপা দেওয়া হয় মাটির পাত্র। যার সমস্ত ফ্লেভার এই ডিশে আসে।

কী ভাবে বানাবেন উন্ধিউ?

উপকরণ

১০০ গ্রাম মিষ্টি আলু (ছাড়িয়ে রাখতে হবে) |  ১০০ গ্রাম আলু (ছাড়িয়ে রাখতে হবে) | ১০০ গ্রাম বিনস ( ছোট করে কেটে রাখা) | ১০০ গ্রাম কাচকলা (ছোট করে কাটা) | হাফ চা চামচ হিং | হাফ চা চামচ জিরে | তেল

এ ছাড়াও মুঠিয়া বানাতে লাগবে -

২ কাপ বেসন | ১ চা চামচ কসৌরি মেথি | ১ চা চামচ গুঁড়ো লঙ্কা | ১ চা চামচ সাথরি বা লেমন ফ্লাওয়ার | ১ চা চামচ চিনি | ২ চা চামচ তেল নুন | ১/৪ চা চামচ জিরে | ১/২ চা চামচ হলুদ

মশলা বানাতে লাগবে -

১ টেবিল চামচ ধনেপাতা (কুচি করে কাটা) | ১ টেবিল চামচ নারকেল | ৩ চা চামচ ধনে গুঁড়ো | ১/২ চা চামচ জিরে | তেল | গুঁড়ো লঙ্কা | ১/২ চা চামচ হলুদ | নুন

পদ্ধতি

সমস্ত সবজি হালকা তেলে ভেজে একটি পাত্রে তুলে রাখতে হবে।

এবার মুঠিয়া তৈরি করতে সমস্ত জিনিস একটি পাত্রে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার মিশ্রণটি দিয়ে ছোটো ছোটো বলের আকার গড়ে ভেজে নিতে হবে।

এবার মশলা বানাতে একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে প্রথমে হিং দিয়ে ও জিরে দিয়ে তাতে সমস্ত মশলা অ্যাড করতে হবে। ভালো করে নেড়ে তাতে মুঠিয়া ও সবজি ভাজাগুলো দিয়ে দিতে হবে। সামান্য জল দিয়ে নেড়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।

Published by: Ananya Chakraborty
First published: January 12, 2021, 4:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर