• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • ফিল্টারেই স্বস্তি, এভাবেই সেলফি তুলে এক নম্বর ভারতীয়রা

ফিল্টারেই স্বস্তি, এভাবেই সেলফি তুলে এক নম্বর ভারতীয়রা

Photo-Representative

Photo-Representative

নিজেদের সুন্দর করতে দেদার ফিল্টার ব্যবহার করেন ভারতীয়রা !যা বাড়াচ্ছে সংসারখরচও, বলছে সমীক্ষা!

  • Share this:

#নয়াদিল্লি : যত দিন যাচ্ছে, ফোনের অন্যান্য সব ফিচারের মধ্যে সব চেয়ে আকর্ষনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিণত হচ্ছে ক্যামেরা কোয়ালিটি। কত মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে কোন ফোনে, বিশেষ করে ফ্রন্ট ক্যামেরা কত, তা দেখেই সাধারণত আজকাল ফোন কেনা হয়। এর কারণ সেলফি। বিয়ে বাড়ি যাওয়া হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে, পাড়ার দোকানে বা বন্ধুর বাড়িতে, এই ফ্রন্ট ক্যামেরার দৌলতে সেলফি যেন মাস্ট হ্যাভ! তার উপরে বিভিন্ন ফিল্টার দিয়ে বিউটিফিকেশন করা অর্থাৎ রোগাকে মোটা দেখানো, মোটাকে রোগা, শ্যামলা গায়ের রং পরিষ্কার দেখানো বা চোখ-নাকের শেপ পরিবর্তন করা তো আছেই! আর এই ফিল্টার ব্যবহার করে সেলফি তোলার চল সব চেয়ে বেশি রয়েছে ভারত ও আমেরিকায়। Google-এর এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সেলফি তোলা ও তা শেয়ার করা বেশির ভাগ ভারতীয় মহিলার জীবনের অন্যতম অংশ। যা তাঁদের ব্যবহারে ও আর্থিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

সমীক্ষা বলছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তোলা ছবির ৭০ শতাংশেরও বেশি সেলফি। এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতীয়রাই এগিয়ে। সেলফি তোলার পর নিজেকে সুন্দর, প্রেজেন্টেবল করে তোলার ক্ষেত্রে ফিল্টার ব্যবহারের উপরেও কাজ করেছে এই সমীক্ষা। তার পর জানিয়েছে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভারতীয় মহিলাদেরই একাধিক এডিটিং টুল বা অ্যাপ ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমীক্ষা মোতাবেকে বেশি ব্যবহার হয় পিকসআর্ট ও মেকআপ প্লাস। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৯ বছর বয়সের নিচে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা ফটো তোলার জন্য ব্যবহার করে সাধারণত স্ন্যাপচ্যাট। এই অ্যাপেও রয়েছে একাধিক ফিল্টার।

তবে, এই সব ফিল্টারে পরিবর্তন হচ্ছে লাইফস্টাইল। পরিবর্তন আসছে মানসিকতাতেও। একটি নতুন জামা পড়ে একবার ছবি উঠে গেলে সে জামা আর দ্বিতীয়বার পরা যাবে না বা গেলেও সেই ছবি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যাবে না- এমন মনোভাব আগে সেলেবদের মধ্যে দেখা গেলেও আজ এটা প্রায় ঘরে ঘরে। আর এখানেই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এই সেলফি তোলা বা ফিল্টার ব্যবহার করা ভারতীয় মহিলাদের আর্থিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। এমন অনেক মহিলাই রয়েছেন যাঁরা একবার সেলফি তোলার ক্ষেত্রে যে জামা ব্যবহার হয়ে গিয়েছে তা আর দ্বিতীয়বার পরেন না বা পরলেও ছবি দেন না। ফলে নতুন নতুন জামা-কাপড় বা অ্যাক্সেসারিজ কেনার প্রবণতা বাড়ছে, যা সংসারখরচ বাড়িয়ে তুলছে।

শুধু ভারতীয় মহিলারাই নয়, ভারতীয় পুরুষরাও সেলফি তোলার ক্ষেত্রে খুবই সক্রিয়। তবে, সমীক্ষা বলছে, এ ক্ষেত্রে নিজেকে সুন্দর করে তোলার থেকে বেশি ছবিতে বলা গল্পের চাহিদায় ফিল্টার ব্যবহার করে থাকেন তাঁরা। ভারতের মতোই আমেরিকাতেও সেলফি তোলার প্রবণতা মানুষের মধ্যে রয়েছে। ফটো এডিট করে এক মানুষের মুখ অন্য মানুষের মুখে বসিয়ে অসাধু কাজে তা ব্যবহার করার কাজও হয়ে থাকে। তাই ফিল্টার ব্যবহারের খারাপ দিকও রয়েছে।

মহিলা হোক বা পুরুষ, বেশিরভাগ ভারতীয়রাই নিজের বাচ্চাদের নিয়েও সেলফি তোলেন। এবং সে ক্ষেত্রেও বিউটিফিকেশন বা ফিল্টার ব্যবহার করেন। যেমন- কোনও বাচ্চার চোখে কাজলের ফিল্টার বা ঠোঁটে লিপস্টিকের ফিল্টার ব্যবহার করা। এই ফিল্টার ব্যবহারের প্রবণতা বাচ্চাদের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাচ্চাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে ভারতীয় অভিভাবকরা যত চিন্তিত, এই ফিল্টার ব্যবহার নিয়ে তার এক তিলও নন!

জার্মানিতে আবার বাচ্চাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটির খোঁজ রাখেন অভিভাবকরা। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সাধারণত বাচ্চারা নিজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার আগে বড়দের অনুমতি নেয়। এবং খুব কম ক্ষেত্রেই তারা ফিল্টার ব্যবহার করে। তবে, দক্ষিণ কোরিয়ায় সেলফি তোলা, বিউটিফিকেশন করা খুবই সাধারণ বিষয়। বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে চোখ বড় করা, ত্বকের রঙ পালটানো, চেহারা বদলানোয় অভ্যস্ত এখানকার মানুষ।

Published by:Debalina Datta
First published: