মস্তিষ্ক আর ডিম্বাশয়ের আয়তন বদলে জায়গা নেয় রানির, বিশেষ প্রজাতির ভারতীয় পিঁপড়ে হুলস্থুল ফেলেছে বিশ্বে!

মস্তিষ্ক আর ডিম্বাশয়ের আয়তন বদলে জায়গা নেয় রানির, বিশেষ প্রজাতির ভারতীয় পিঁপড়ে হুলস্থুল ফেলেছে বিশ্বে!

মস্তিষ্ক আর ডিম্বাশয়ের আয়তন বদলে জায়গা নেয় রানির, বিশেষ প্রজাতির ভারতীয় পিঁপড়ে হুলস্থুল ফেলেছে বিশ্বে!

এই পর্যবেক্ষণ কেন গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো, তা বুঝতে হলে একটি পিঁপড়ের গোষ্ঠীতে রানির ভূমিকাটা দেখে নিতে হবে।

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: একেকটি প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে মাঝে মাঝে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তার শ্রেণীর অন্য সদস্যদের চেয়ে আলাদা। ওই বিশেষ গুণটির উপরে ভিত্তি করেই তখন সেই প্রজাতির নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন- উড়ুক্কু মাছ! এই মাছ জলের উপরিতল থেকে লাফ দিয়ে শূন্যে ভেসে থাকতে পারে, তাই এই নামে অভিহিত হয় তার প্রজাতি। ঠিক সেই রকমই এক ধরনের পিঁপড়ে আছে, যাদের বলা হয়ে থাকে জাম্পিং অ্যান্ট। নাম থেকে বুঝে নিতে অসুবিধা নেই যে এরা একটু লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। সম্প্রতি ইউনাইটেড স্টেটসের কেনস স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ হেন জাম্পিং অ্যান্টের ভারতীয় প্রজাতির মধ্যে এক বিশেষ ধরনের গুণাবলী আবিষ্কার করার পরে হতচকিত হয়ে পড়েছেন। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক অধ্যাপক ক্লিন্ট পেনিশ জানিয়েছেন যে ইন্ডিয়ান জাম্পিং অ্যান্টরা নিজেদের মস্তিষ্কের গড়ন বদলে এবং ডিম্বাশয়ের আয়তন বৃদ্ধি করে রানির জায়গা নিতে পারে!

এই পর্যবেক্ষণ কেন গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো, তা বুঝতে হলে একটি পিঁপড়ের গোষ্ঠীতে রানির ভূমিকাটা দেখে নিতে হবে। সাধারণত পিঁপড়েদের গোষ্ঠীতে সদস্যদের সরল দুই ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে- রানি এবং শ্রমিক। রানি পিঁপড়ের তেমন খাটুনির কাজ নেই, তার দায়িত্ব শুধু জীবনকাল ধরে অসংখ্য সদস্যের জন্ম দিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ একটি পিঁপড়ের প্রজাতি কত দিন টিঁকে থাকবে, তা নির্ভর করছে রানির প্রজনন ক্ষমতার উপরে। এই জন্য রানিকে যথেষ্ট তোয়াজে রাখতে হয়, তার যথাযথ দেখভালও করতে হয়। এই কাজটি সম্পাদন করে শ্রমিক পিঁপড়েরা। তারা খাবার জোগাড় করে, বাসা তৈরি করে, সন্তান প্রতিপালন করে, রানির সেবা করে। প্রশ্ন হল, কী ভাবে পিঁপড়ের গোষ্ঠীতে রানি নির্বাচন করা হয়ে থাকে? একেবারে লার্ভা দশাতেই বোঝা যায় যে কোন পিঁপড়ে শারীরিক ভাবে উন্নত এবং দীর্ঘ হবে, সেই মতো তাকে রানির পদ দেওয়া হয়। হিসেব সহজ- যত মজবুত হবে তার কাঠামো, সন্তানজন্মের হারও বাড়বে সেই অনুপাতে।

এই হিসেবে চলে যে পিঁপড়ের গোষ্ঠী, সেখানে রানির মৃত্যুতে একটা অচলাবস্থা তৈরি হয় স্বাভাবিক ভাবেই! অধ্যাপক পেনিশ বলছেন যে এই জায়গায় এসে প্রকৃতি বংশবিস্তারের জন্য ইন্ডিয়ান জাম্পিং অ্যান্টদের দিয়েছে এক অনন্য গুণ- রানি মারা গেলে পরবর্তী যোগ্য সদস্যের জন্ম পর্যন্ত এদের অপেক্ষা করতে হয় না। গোষ্ঠীর নারীদের মধ্যে থেকেই কেউ একজন নিজের মস্তিষ্কের আয়তন ছোট করে ফেলে এবং সেই সঙ্গে বাড়িয়ে তোলে ডিম্বাশয়ের আয়তন। যাতে সে রানির মতোই অসংখ্য সদস্যের জন্ম দিতে পারে। এই বিশেষ গুণটির জন্যই এই প্রজাতির পিঁপড়েরা তাদের অন্য গোষ্ঠার তুলনায় অনেক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক।

Keywords: Indian Jumping Ant, Queen Ant, Brain, Ovary, US

Original Story Link: https://www.news18.com/news/buzz/these-indian-jumping-ants-can-shrink-their-brains-to-take-over-as-the-queen-3643049.html

Written By: Anirban Chaudhury

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:
0