• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • IN DIVERSITY A BILLION PEOPLE BANDED TOGETHER FOR HUMANITY THEIR STORIES SHOULD INSPIRE US LIFELONG AC

কয়েক কোটি লোক একে অন্যের সঙ্গে জুড়েছেন মানবতার স্বার্থে, তাঁদের গল্প আমাদের Lifelong-এর প্রেরণা

কোনও প্রিয়জনকে বাঁচানোর জন্য যখন পরিবারের লোকেরা হন্যে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন, তখন এমন মানুষদের হাত ধরেই অনেকে মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে জিতে গিয়েছেন

কোনও প্রিয়জনকে বাঁচানোর জন্য যখন পরিবারের লোকেরা হন্যে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন, তখন এমন মানুষদের হাত ধরেই অনেকে মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে জিতে গিয়েছেন

  • Share this:

    কোভিড-১৯ এর একের পর এক ঢেউ ভারতকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এমনকী সামগ্রিক ভাবে আমাদের মতো প্রাণবন্ত জাতিও, এই মারণ রোগের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় অপরিচিতরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং এমন অনেকে বিপদের দিনে পাশে থেকেছেন, যাঁদের কখনও ঘনিষ্ঠ মহলের মধ্যে গণ্য করা হয়নি। কোনও প্রিয়জনকে বাঁচানোর জন্য যখন পরিবারের লোকেরা হন্যে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন, তখন এমন মানুষদের হাত ধরেই অনেকে মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে জিতে গিয়েছেন।

    গোটা দেশ জুড়ে, অগণিত অপরিচিত মানুষ সেই সব মানুষদের জন্য আপ্রাণ খেটেছেন যাঁদের সাথে কোনও আলাপ-পরিচয় নেই, এই রকম অচেনা মানুষদের জন্য তাঁরা ওষুধ, অক্সিজেন, হাসপাতালের বেড জোগাতে সাহায্য করেছেন, এবং এমনকী প্রিয়জনের মৃত্যুর পরে শেষকৃত্য সম্পূর্ণ করার বিশাল লাইনে অপেক্ষা করার সময়েও এঁরা পরিবারের লোকেদের পাশে থেকেছেন। এই সাহসী মানুষজনদের সৌজন্যে আমরা আরও একবার শিখেছি, কীভাবে জাত-পাত বা সামাজিক দূরত্ববিধির ঊর্ধ্বে উঠে একজন সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠা যায়।

    এখানে এমন সাধারণ ভারতীয়দের কথা বলা হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন স্থান থেকে মূলধন জোগাড় করেছেন, এবং বয়স্কদের দেখভাল করার ও সংযুক্ত থাকার জন্য সেটআপ তৈরি করেছেন, এবং অনেকে অ্যাপও তৈরি করেছেন, অনেকে সেই সমস্ত কাজের লোক ও ড্রাইভারদের সাথে নিয়ে ব্যবসা চালু করেছেন, যাঁরা আচমকা কাজ হারিয়ে আতান্তরে পড়েছিলেন।

    মিডিয়ায় অনেক বড় বড় খবর প্রকাশিত হলেও, প্রচারের আলোয় না আসা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে সেই সব মানুষদের সাহায্য করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যাঁদের এই সাহায্যের খুবই দরকার ছিল। আমরা এমন বহু মানুষের কথা শুনেছি যেমন, Air India-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, কে আর শ্রীনিবাস রাও (৭০), হায়দ্রাবাদের বাড়ি থেকে তিনি কয়েক মাইল সাইকেল চালিয়ে গিয়ে বহু কোভিড-পজিটিভ রোগী এবং সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় রেশন, ওষুধপত্র, এবং অন্যান্য জরুরি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছেন।

    এমনই আরও একটি উদাহরণ হল, কয়েক জন যুবক-যুবতীর একটি দল, যাঁরা নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে সাহায্যের কাজ শুরু করার পরে বুঝতে পারে, যে পরিমাণ লোকজন সাহায্য চেয়ে তাঁদের শরণাপন্ন হচ্ছে, তাঁদের সকলকে সাহায্য করার জন্য সেই দলকে আরও উন্নত হয়ে উঠতে হবে। ছাত্র অর্ণব প্রাণীত এবং তাঁদের প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যাডমিনিস্ট্রেটররা সমস্ত রিসোর্সের এই ডেটাবেস তৈরি করেন, যেখানে সমস্ত রিয়েল-টাইম আপডেট থাকত। তাঁর সাথেই এই উদ্যোগে পাশে থেকেছেন আয়ান খান, আদিত্য আগরওয়াল, সুদীপ্ত ঘোষ, মুদিত আগরওয়াল, হরভজন সিং পূজারী, দেবধ্বনি মিশ্র, দেবাদিত্য হালদার, বিশ্বম শ্রীবাস্তব, জয়দিত্য ঝাঁ, শিবম সোলাঙ্কি, প্রখর ভার্গব, অভি সেহগাল এবং ঈপ্সিতা চৌধুরী।

    এই পরিস্থিতিতে তাঁরা ব্যবহারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াকে, এবং এর মাধ্যমেই তাঁরা লোকজনকে জানাতে শুরু করেন যে সাহায্য পাওয়ার জন্য কোথায় যেতে হবে, অক্সিজেন কোথায় পাওয়া যাবে, জটিল কোনও কেস হলে কোথায় গেলে সুরাহা হবে এবং আরও অনেক কিছু। এই উদ্দীপ্ত, অসাধারণ মনের মানুষদের সাথে খুব শীঘ্রই কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবক যোগদান করেন এবং চরম খারাপ পরিস্থিতিতেও তাঁরা সম্মিলিত ভাবে প্রতিদিন ২০টিরও বেশি ঘটনায় সফল ভাবে সাহায্য করতে সমর্থ হয়েছেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে, তাঁরা. একটি ওয়েবসাইট এবং হেল্পলাইন বানিয়েছেন, যাতে সেই সমস্ত সাহায্যপ্রার্থীর কাছেও অনায়াসে পৌঁছনো সম্ভব হয় যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন না।

    তবে এখানেই শেষ নয়। অনেকে এর চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। পুণের বাসিন্দা অক্ষয় কোঠাওয়ালে, একজন অটো চালক, তিনি নিজের বিয়ের জন্য সরিয়ে রাখা ২ লক্ষ টাকা খরচ করে গত বছর মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৫৫০ টি পরিবারকে খাবার এবং রেশন জুগিয়েছেন। এমনকী বর্তমানেও, তিনি গোটা শহরে ছড়িয়ে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন।

    লক্ষ লক্ষ মানুষ যেখানে এই ভাইরাসের সাথে লড়ছেন, সেখানে অনেকেই সাহায্য পেয়েছেন ভীষণ অপ্রত্যাশিত কিছু জায়গা থেকে। ম্যাট্রন যামিনীবেন যোশী, গুজরাতের একজন ৭১-বছর-বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নার্স, চোখের সামনে দেখছিলেন যে কীভাবে ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করে চলেছেন। নিজের বয়স ও রোগের ঝুঁকি উপেক্ষা করে, তিনি একটি হাসপাতালে সক্রিয় ভাবে নার্সিং ডিউটিতে যোগদান করেন এবং দিনে ১২ ঘণ্টা করে ওষুধপত্র, অক্সিজেন পরিচালনা করা ও পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করার মতো কাজ করতে শুরু করেন।

    একটা সময় এমন খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন দিনে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হত। সেই সময় বহু হাসপাতালে অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছিল, এবং রোগীদের তখনই বেড দেওয়া হত যদি তাঁরা নিজেদের জন্য অক্সিজেনের বন্দোবস্ত করতে পারতেন। ঠিক এই রকম সময়ে ঈশ্বর প্রেরিত দূতের মতোই পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন গৌরব রাই, যাঁকে বিহারের 'অক্সিজেন মানব' বলা হয়। নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় ১.২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে, তিনি অসংখ্য অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করেছিলেন এবং তাঁর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর ফোনে সারা দিন ধরে সাহায্য চেয়ে কল আসতে থাকত, এবং তিনিও দৃঢ় সঙ্কল্প গ্রহণ করেছিলেন যে, যাঁদের অত্যন্ত প্রয়োজন তাঁদের কাছে তিনি সাহায্য পৌঁছে দেবেন। তাঁর এই সঙ্কল্পই অন্তত ১,৫০০ আশঙ্কাজনক রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছে, যাঁদের কাছে সেই সময় আশার কোনও আলো ছিল না।

    আমাদের প্রত্যেকেই হয়তো এই রকম আরও অনেক, অনেক মানবিকতার নিদর্শনের গল্প জানেন। Lifelong Online বিশ্বাস করে যে, এই ধরনের নিঃস্বার্থ গল্পগুলি নথিভুক্ত করা এবং উদযাপন করা উচিত, যাতে সকলে জানতে পারেন। অনলাইনে এই ধরনের সত্য ঘটনাগুলি আর্কাইভভুক্ত করে রাখাই হল এই নিঃস্বার্থ মানুষদের তাঁদের পরিষেবা ও সাহসের জন্য সম্মান এবং ধন্যবাদ জানানোর সেরা উপায়। এই সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল, একে মানবতার ইতিহাসের বর্তমান অধ্যায়ের একটি বুকমার্কে পরিণত হওয়া, যেখানে আমরা প্রত্যেকে একটি করে পৃষ্ঠা উল্টে দেখতে পারি, এবং তা পড়ে অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারি।

    যদি আপনি এমন কোনও অজানা ব্যক্তির কথা জানেন যিনি এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আপনাকে সাহায্য করেছেন, তাহলে তাঁর কথা #NeverForgetLifelong হ্যাশট্যাগ-সহ যে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করুন অথবা সেটি ইমেল করে দিন myhero@lifelongindia.com –এ।

    এই ধরনের গল্পগুলি শেয়ার করার মাধ্যমে, আমরা সেই সমস্ত অপরিচিত এবং অচেনা হাজার হাজার ব্যক্তিকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাতে পারব, যাঁরা সেই সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যখন দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

    This article has been created by Studio18 on behalf of Lifelong Online.

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: