আশীর্বাদ না অভিশাপ? গবেষণা বলছে ভবিষ্যতে মানুষের মুখ থেকেও ঝরবে সাপের মতো বিষ!

আশীর্বাদ না অভিশাপ? গবেষণা বলছে ভবিষ্যতে মানুষের মুখ থেকেও ঝরবে সাপের মতো বিষ!

আশীর্বাদ না অভিশাপ? গবেষণা বলছে ভবিষ্যতে মানুষের মুখ থেকেও ঝরবে সাপের মতো বিষ!

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে যে অদূর ভবিষ্যতে মানুষের যে ভাবে বিবর্তন হবে, সেখানে সাপের মতোই বিষাক্ত লালা মানুষের মুখেও পাওয়া যাবে।

  • Share this:

সত্যজিৎরায়ের বিখ্যাত গল্প ছিল ‘খগম’। যেখানে একজন ব্যক্তি সাপে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু সে তো ছিল নেহাতই গল্প। লেখকের কল্পনাশক্তির প্রকাশ মাত্র। বাস্তবে এমন হয় না। অথচ সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে যে অদূর ভবিষ্যতে মানুষের যে ভাবে বিবর্তন হবে, সেখানে সাপের মতোই বিষাক্ত লালা মানুষের মুখেও পাওয়া যাবে। ওকিনাওয়া ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলেছেন যে সরীসৃপ প্রাণীর মধ্যে জিনগত পরিবর্তনের জন্যই তারা বিষ প্রস্তুত করতে সক্ষম। এভাবে মানুষের মধ্যেও যখন জিনগত বদল ঘটলে ভবিষ্যতে তারাও পারবে বিষ ছড়িয়ে দিতে!

বিষয়টি আরও ভালো করে বোঝার জন্য গবেষকরা পিট ভাইপার সাপ নিয়ে কাজ করেছেন। দেখা গিয়েছে যে এই সাপের যে বিষ গ্রন্থি আছে এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে যে লালা গ্রন্থি আছে তার মধ্যে রয়েছে দৃঢ় আণবিক যোগসূত্র। গবেষক অগ্নীশ বড়ুয়া জানিয়েছেন যে সরীসৃপের মধ্যে যে বিষ পাওয়া যায় সেটা কয়েকটি প্রোটিনের সমন্বয় ছাড়া আর কিছু নয়। আর এটাকেই এই প্রাণীরা নিজেদের বাঁচাতে বা শিকার করার সময় ব্যবহার করে।

মাকড়সা, বিছে, জেলিফিশ, সাপ ইত্যাদি প্রাণীদের মুখের মধ্যে বিষ লুকিয়ে থাকে। কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যেও বিষ দেখা যায়। আর এটা প্রাণীজগতের কাছে খুবই সাধারণ ব্যাপার। এর আগের গবেষণায় দেখা হচ্ছিল যে কী ভাবে প্রোটিন থেকে বিষ তৈরি হয়। পরে গবেষণা শুরু হয়েছে জিনগত পরিবর্তন নিয়ে। তাইওয়ানের হাবু সাপ নিয়ে গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে এই সরীসৃপের ৩,০০০ গ্রন্থি আছে। এই গ্রন্থিগুলি কোষের উপরে চাপ কম করে কারণ এদের ক্রমাগত প্রোটিন উৎপন্ন করতে হয়।

অগ্নীশ বলেছেন যে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এখন যেটি বিষগ্রন্থি, সেটা একসময়ে লালা গ্রন্থি ছিল। তবে অগ্নীশ এও বলেছেন যে শুধু জিনগত কারণে এটি হবে না। এর সঙ্গে চাই সঠিক পরিবেশের মেলবন্ধন। গবেষকরা আশা করছেন পরিবেশ ঠিক থাকলে এবং জিনের পরিবর্তন হলে হয় তো হাজার বছর পর ইঁদুরও সাপের মতো বিষাক্ত হয়ে যাবে। একই ভাবে মানুষের মধ্যেও এই ভাবে বিষ উৎপন্ন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

Published by:Simli Raha
First published: