চরমপন্থা বা উগ্রবাদের প্রাথমিক লক্ষণ কী? ভয় ধরিয়ে দেবে নয়া সমীক্ষা!

চরমপন্থা বা উগ্রবাদের প্রাথমিক লক্ষণ কী? ভয় ধরিয়ে দেবে নয়া সমীক্ষা!

photo source collected

ফিলোজফিকাল ট্রানজ্যাকশনস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় ভয় লেগে যাবে।

  • Share this:

যাঁরা এক্সট্রিমিস্ট বা চরমপন্থী স্বভাবের হন, তাঁদের স্মৃতিশক্তি খুব কম হয় এবং তাঁদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যায় অত্যন্ত বেশি। সম্প্রতি কেমব্রিজের একজন গবেষক এই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে একজন এক্সট্রিমিস্ট বা চরমপন্থীর মনে ঢুকলে এই রকম কিছু বিশেষ সিগনেচার বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে। অর্থাৎ এই ধরনের মানুষদের সবার মনেই এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে।

ফিলোজফিকাল ট্রানজ্যাকশনস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় মস্তিষ্কের কাজকর্ম এবং চরমপন্থীদের মনোভাবকে এক সূত্রে গাঁথা হয়েছে। ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য এবং অচেতন জ্ঞানের একটি বিশেষ মিশ্রণ অর্থাৎ আমাদের মস্তিস্ক যে ভাবে মৌলিক তথ্য গ্রহণ করে, তার উপরে চরমপন্থী মনোভাব অনেকটাই নির্ভর করে। কারণ এর সঙ্গে নানা রকমের বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় উদ্দীপনা সমস্ত কিছু জড়িত থাকে। গবেষণা বলছে যে কগনিটিভ বা জ্ঞান এবং মানসিক গুণাবলীর এই সমন্বয় একজন ব্যক্তির মতাদর্শগত দলের সমর্থনে হিংসাত্মক কোনও কাজ করার অনুমোদন দিয়ে থাকে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার মূল সূত্রধার লিওর মিগ্রোড বলেছেন যে সমগ্র বিষয়টিকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একদিকে রয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ আবেগতাড়িত জ্ঞান। আর অপর দিকে রয়েছে অবচেতন জ্ঞান যা শুধুই কিছু তথ্য মস্তিষ্কে গ্রহণ করে। যাঁরা প্রথম দলে পড়েন অর্থাৎ যাঁরা উত্তেজনাপূর্ণ আবেগতাড়িত জ্ঞান গ্রহণ করেন, তাঁরা কোনও একটি আদর্শ দ্বারা চালিত হন এবং যে কোনও ধরনের চরমপন্থা অবলম্বন করতে পিছ-পা হন না। এটাই তাঁদের একপ্রকার সাইকোলজিক্যাল সিগনেচার বা তাঁদের চিনে নেওয়ার সহজতম পন্থা বলে জানিয়েছেন মিগ্রোড।

বিষয়টি আরও ভালো করে বোঝার জন্য মিগ্রোড ও তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক ট্রেভর রোবিন্স ২০১৮ সালে ৩৩৪ জনকে নিয়ে একটি সমীক্ষা করেন। ১৬টি সমীক্ষা করে তাঁরা বোঝার চেষ্টা করেন যে বিশেষ কোনও আদর্শের প্রতি কার মনোভাব কী রকম বা এই আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা কত দূর যেতে পারেন!

তাঁরা বলছেন যে একটি চরমপন্থী মন জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে খুব সচেতন থাকে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কোনও তথ্য তাঁরা বিশ্লেষণ করেন খুব ধীরে, কারণ এঁদের স্মৃতি খুব দুর্বল। আর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এঁদের স্বভাবকে অস্থির করে তোলে!

Published by:Piya Banerjee
First published:

লেটেস্ট খবর