হার্ট ভালো রাখতে ঠিক কতটা শরীরচর্চা প্রয়োজন, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

হার্ট ভালো রাখতে ঠিক কতটা শরীরচর্চা প্রয়োজন, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

হার্ট ভালো রাখতে ঠিক কতটা শরীরচর্চা প্রয়োজন

যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের হার্টের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা যে কম থাকে অন্যদের তুলনায়, এই বিষয়টি নিয়ে প্রায় সবাই একমত পোষণ করে থাকেন।

  • Share this:

#ইংল্যান্ড:  আমাদের হার্ট বা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকার বিষয়ে বিশ্ব জুড়ে যে সব সমীক্ষা সংঘটিত হয়ে চলেছে, স্বাস্থ্যবিদরা যে সব পরামর্শ দিচ্ছেন, তার মধ্যে শরীরচর্চার বিষয়টি সব ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এর কারণ একটাই। যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের হার্টের অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা যে কম থাকে অন্যদের তুলনায়, এই বিষয়টি নিয়ে প্রায় সবাই একমত পোষণ করে থাকেন। হার্ট আর শরীরচর্চার এই সম্পর্কসূত্রটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৪০ থেকে ১৯৫০এর মাঝামাঝি ইংল্যান্ডে।

জেরেমি মরিস (Jeremy Morris) নামের এক ব্রিটিশ এপিডেমিওলজিস্ট সমীক্ষা করে দেখেছিলেন, যে সব বাসের কন্ডাক্টররা সারা দিন পরিশ্রম করছেন, ডবল ডেকার বাসের সিঁড়ি ভাঙছেন, তাঁদের হার্টের স্বাস্থ্য সারা দিন বসে কাজ করা বাসচালকদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভালো! কিন্তু এই জায়গায় এসে একটা প্রশ্ন উঠে আসে সঙ্গত ভাবেই। হার্ট ভালো রাখতে ঠিক কতটা শরীরচর্চা প্রয়োজন? আবার এই বিষয়ে পুরুষ এবং নারীদের মধ্যে পরিশ্রমের সীমার কোনও পার্থক্য আছে কি না, সেই প্রশ্নটাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে; কেননা প্রাকৃতিক নিয়মেই সাধারণত নারীদের পরিশ্রম করার ক্ষমতা পুরুষদের তুলনায় কম রক্তকণিকার প্রভেদের ভিত্তিতে।

এই সব প্রশ্নগুলির ভিত্তিতে সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজিস্ট ডক্টর টেরেন্স ডয়ার (Terence Dwyer) একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছেন। মূল উদ্দেশ্য একটাই- হার্টের স্বাস্থ্যের সঙ্গে এই শরীরচর্চার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা! জানা গিয়েছে যে ২০০৬ সাল থেকে তিনি এই সমীক্ষা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। এই ব্যাপারে তাঁর সহায়ক হয়েছে ইউকে বায়োব্যাঙ্ক। ব্রিটেনের এই বায়োব্যাঙ্কে নথিভুক্ত ৯০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যের রেকর্ড পেয়েছেন তিনি।

এর পর তাঁদের নিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর সমীক্ষা। জানা গিয়েছে যে সক্রিয় ভাবে শরীরচর্চার ভিত্তিতে এই ৯০ হাজার জনকে মুখ্যত দু'টি দলে ভাগ করা হয়েছে- যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং যাঁরা আদপেই শরীরচর্চা করেন না। ডয়ার জানিয়েছেন যে এঁরা তাঁর অনুরোধে ফিটনেস ব্যান্ডও পরে থাকতে রাজি হয়েছেন যাতে হার্টের স্বাস্থ্যের একটা সুষ্ঠু রিপোর্ট পাওয়া যায়। যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের মধ্যে ধূমপায়ী-মদ্যপায়ীরাও ছিলেন। কিন্তু সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে যে তা সত্ত্বেও যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে ৩০ গুণ কম!

অবশ্য এই প্রসঙ্গে ডয়ার একটা কথা উল্লেখ করতে ভোলেননি! ইতিপূর্বে প্রকাশিত বেশ কিছু সমীক্ষায় এটাও দেখা গিয়েছে যে যাঁরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়েছে। অর্থাৎ সেই সব ব্যক্তিদের হার্ট এই অতিরিক্ত ধকল সহ্য করতে পারেনি। এই তালিকায় মূলত অ্যাথলিটদের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন ডয়ার। পাশাপাশি জানিয়েছেন যে এই সব সমীক্ষার একটা ত্রুটিও আছে। এগুলো মূলত রোগীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট পেশ করেছে, সরাসরি তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা দীর্ঘ দিন ধরে করে দেখেনি। তাহলে দিনে ঠিক কতটা শরীরচর্চা প্রয়োজন?

ডয়ারের বক্তব্য, দিনে ২ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ১১০০ মিনিট হাঁটাহাঁটিকে একটা নির্দিষ্ট মানদণ্ড বলে ধরে নেওয়া যায়। আবার যাঁরা সক্রিয় ভাবে শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৫০ মিনিটকে পর্যাপ্ত বলা যায়। তবে বার বার উল্লেখ করতে ভোলেননি তিনি- ঠিক কী ভাবে এই শরীরচর্চা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, আদৌ সরাসরি প্রভাব ফেলে কি না, সেই সব কিছু নিয়ে এখনও বিশদে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আপাতত এই দুই বিষয়কে কেবল একটা সম্পর্কসূত্র বলে উল্লেখ করাটাই তাঁর মতে ঠিক হবে!

First published: