জয় বাংলা! কনজাঙ্কটিভাইটিসের সমস্যায় ঘরোয়া উপায়ে উপকার মিলবে এই নিয়মে!

জয় বাংলা! কনজাঙ্কটিভাইটিসের সমস্যায় ঘরোয়া উপায়ে উপকার মিলবে এই নিয়মে!

চোখের সাদা অংশ বা কনজাংটিভা (Conjunctiva)-তে সংক্রমণ অনেক সময়েই হয়ে থাকে।

চোখের সাদা অংশ বা কনজাংটিভা (Conjunctiva)-তে সংক্রমণ অনেক সময়েই হয়ে থাকে।

  • Share this:

#কলকাতা: চোখের সাদা অংশ বা কনজাংটিভা (Conjunctiva)-তে সংক্রমণ অনেক সময়েই হয়ে থাকে। একে চিকিৎসার ভাষায় কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) বা পিঙ্ক আই বলা হয়ে থাকে। আর বাঙালিরা প্রচলিত ভাষায় একে জয় বাংলা বলে থাকেন। কনজাংটিভাতে সংক্রমণের ফলে,  চোখের ওই অংশের ব্লাড ভেসেলও সংক্রমিত হয়। ফলে ওই অংশ লাল বা পিঙ্ক হয়ে যায়। পাশাপাশি চোখ সামান্য ফোলাও দেখায়। চোখ জ্বালা করে বা কাঁকড় ঢুকেছে- এমন মনে হয়। কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis)-এর ক্ষেত্রে সাধারণত কোনও এক চোখেই সংক্রমণ হয়। তবে, দু'চোখেও একসঙ্গে হতে পারে। চোখ জ্বালা করা, চুলকানো, চোখ থেকে অতিরিক্ত জল পড়ার পাশাপাশি, চোখ খুলে রাখতে সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়াও কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis) হলে তীব্র আলোয় তাকাতেও সমস্যা হয়। খুব সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সমীক্ষায় এই কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis)-র সঙ্গে করোনা সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। ফলে যদি চোখে এমন কোনও সমস্যা হয়ে থাকে এবং খুবই বেশি রকমের সংক্রমণ হয়ে থাকে, তা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis)-এর ধরন পিঙ্ক আই বা কনজাংটিভাইটিস সাধারণত সংক্রমণ থেকে হয় বা কোনও অ্যালার্জি থেকে হয়। অনেকেরই ভুল ধারণা থাকে যে এতে চোখের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলে থাকে, কনজাংটিভাইটিস হলে তা দৃষ্টিশক্তির উপরে প্রভাব ফেলে না।  তবে, এটি খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই ছড়ানোর আগেই এর চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া দরকার। ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস (Viral Conjunctivitis) সাধারণত সংক্রমণ থেকে হয়। স্কুল, কলেজ বা বাসে-ট্রামে কারও হয়ে থাকলে তার সংস্পর্শে এলে এটি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চোখ জ্বালা করা, লাল হয়ে যাওয়া ও জল পড়তে থাকার সমস্যা হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস (Bacterial Conjunctivitis)। ঠাণ্ডা লাগলে, রেসপিরেটরি ইনফেকশন হলে বা গলায় ব্যথা বা ঘা হলে চোখে এমন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, চোখ থেকে ঘন তরল বেরোনোর মতো সমস্যা হতে পারে। অনেক সময়ে কনট্যাক্ট লেন্সের জন্যও এই ধরনের কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। এই দুই ছাড়াও রয়েছে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস (Allergic Conjunctivites)। এ ক্ষেত্রে লাল বা পিঙ্ক রং হয়ে যায় চোখের সাদা অংশ। এটি সংক্রামক নয়। তবে, এটি হলেও চোখে চুলকানি, জ্বালাভাব, জল পড়ার মতো সমস্যা হয়ে থাকে। চোখের পাতা ভারী হয়ে যেতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময়ে চোখের পাতা খুলতে সমস্যাও হতে পারে। সাধারণত, ধুলো, ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া বা এই ধরনের কিছু থেকে এমন হতে পারে। কনজাংটিভাইটিস হলে বাড়িতেই কী ভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা যায়- এর চিকিৎসা বাড়িতে করা যাবে কি না, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে কি না, তা নির্ভর করে কী ধরনের কনজাংটিভাইটিস হয়েছে তার উপরে। যদি অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস (Allergic Conjunctivites) হয়ে থাকে, তা হলে কিছু দিনের মধ্যে তা বাড়িতেই সেরে যেতে পারে। যদি ভাইরাল হয়ে থাকে, তা হলে সেটা সাত দিন থেকে দশ দিন মতো সময় নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে যদি বেশি ব্যথা হয় বা চোখে দেখতে সমস্যা হয়, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর যদি তেমন কিছু না হয়, তা হলে বাড়িতেই চিকিৎসা করা যেতে পারে। তুলোয় বা কাপড়ে করে হালকা গরম তাপ দেওয়া যেতে পারে চোখে, এ ক্ষেত্রে ব্যথায় উপশম হতে পারে। Tear-Mimic Eye Drops ব্যবহার করা যেতে পারে। যে কোনও ওষুধ দোকানেই মিলতে পারে এটি। ওষুধের দোকানে কথা বলে কোনও অ্যান্টিঅ্যালার্জিক আই ড্রপ (Antiallergic Eye Drop) ব্যবহার করা যেতে পারে। তার পর ঠাণ্ডা কিছু চোখে দিলে উপশম মিলতে পারে। কনজাংটিভাইটিস হলে কনট্যাক্ট লেন্স পরা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর যদি কনজাংটিভাইটিস হয়, তা হলে সংক্রমণ যাতে অন্যের মধ্যে না ছড়ায়, তার জন্য চোখে কিছু পরে নেওয়া উচিৎ। চোখে হাত দিয়ে এদিক-ওদিক হাত না দেওয়া ভালো। পাশাপাশি সংক্রমণ এড়াতেও বার বার হাতে সাবান দিয়ে ধোয়া ভালো। অপরিষ্কার হাত চোখে না দেওয়াই উচিৎ। কনজাংটিভাইটিস থেকে দূরে থাকতে এগুলি মেনে চলা যেতে পারে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: হাত নোংরা থাকলে বা রাস্তাঘাটে চোখে হাত না দেওয়া ভালো। সুযোগ হলেই পরিষ্কার জল দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। রাস্তায় বের হলে মাঝেমধ্যেই পরিষ্কার রুমাল বা ওয়াইপস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া ও যে কোনও কিছুতে হাত দিলেই হাত ধুয়ে নেওয়া আবশ্যক। নিজস্ব জিনিস ব্যবহার করা: আইলাইনার, মাস্কারা বা কাজলের মতো কোনও জিনিস কারও থেকে না নেওয়াই ভালো। নিজের কাছে থাকলে তা ব্যবহার করলে অন্যের সংস্পর্শ থেকে অসুখ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। কনট্যাক্ট লেন্স পরিষ্কার করা: যদি একই লেন্স থেকে বার বার সমস্যা হয়ে থাকে, তা হলে তা আর ব্যবহার না করাই ভালো। পাশাপাশি লেন্স ব্যবহারের পর তা পরিষ্কার করে রাখা জরুরি।

Published by:Akash Misra
First published:

লেটেস্ট খবর