লকাডাউনের ভাল ফল ! অনেক বেশি সুস্থ-চনমনে দেশবাসীর হার্ট, প্রকাশে সমীক্ষার ফল

লকডাউনে যাঁদের ৫০-এর উপর বয়স তাঁদের হার্টের স্বাস্থ্য ভাল হয়েছে

লকডাউনে যাঁদের ৫০-এর উপর বয়স তাঁদের হার্টের স্বাস্থ্য ভাল হয়েছে

  • Share this:

    হেলদিয়ান্স, নিঃসন্দেহে এ এক সংস্থার নাম যা বিভিন্ন রকমের শারীরিক পরীক্ষা করে। কিন্তু সম্প্রতি তারা যে তথ্য দিচ্ছে, তার ভিত্তিতে প্রায় সব ভারতীয়কেই অন্তত হার্টের দিক থেকে হেলদিয়ান্স বলতে হয়। কেন না, সংস্থা জানাচ্ছে যে লকডাউনে যাঁদের ৫০-এর উপর বয়স তাঁদের হার্টের স্বাস্থ্য ভাল হয়েছে। যে হেতু বাইরের প্রসেসড খাবার এই সময়ে জোটেনি বললেই চলে এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও পাল্টে গেছে, সেই জন্যই এ রকম হয়েছে বলে দাবি করছে সংস্থা।

    হেলদিয়ান্স বলছে যে লকডাউনের সময় যাঁদের উচ্চ কোলেস্টরল আছে তা ২২.৩% কমে গেছে। চলতি বছরে ৫০,০০০-এরও বেশি নারী-পুরুষের উপরে এই সমীক্ষা চালিয়ে এ হেন সিদ্ধান্তে এসেছে তারা। তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের স্বাস্থ্যের বেশি উন্নতি হয়েছে। পুরুষদের ২৫.৪ % রোগ কমেছে, কিন্তু মহিলাদের ১৭.২% রোগ কমেছে।

    এই ভাবে হার্টের অসুখ কমে যাওয়া ইঙ্গিত করে যে ভারতীয়রা এই লকডাউনে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়েছে এবং নিজেদের জীবনযাত্রা পাল্টেছে। প্রসেসড খাবার খাওয়া অনেকটাই কমেছে। তা ছাড়া বাইরে বেরনোর অনেক বিধিনিষেধ থাকার দরুন জাঙ্ক খাবার খাওয়াও অনেক কমে গেছে যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে হার্টের উপর।

    পরিসংখ্যান আরও বলছে যে ২০, ৩০ ও ৪০-এর কোঠায় যাঁদের বয়স, তাঁদের হার্ট হেল্থ-এর উন্নতির পরিমাণ খুব বেশি না হলেও ৫০-এর কোঠায় যাঁদের বয়স তাঁদের স্বাস্থ্যের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। এও দেখা গিয়েছে যে বড় বড় শহরের তুলনায় ছোট ছোট শহর যেমন জলন্ধর, অমৃতসর, জয়পুর, কানপুর ইত্যাদি জায়গায় ভারতীয়দের হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। সম্ভবত এর কারণ এটাই যে এইসব জায়গায় প্রসেসড ও জাঙ্ক খাবার খুব একটা সহজলভ্য নয়। লকডাউনে যার অপ্রতুলতা আরও বেশি হয়েছে।

    পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত জীবনযাত্রাও ভারতীয়দের এই লকডাউনে হার্ট হেল্থ-এর ইন্নতির অন্যতম কারণ হতে পারে। অনেকে আবহাওয়াকেও দায়ী করছেন। কারণ শীতকালে কিছুটা হলেও কোলেস্টরল বৃদ্ধি পায়।

    হেলদিয়ান্স চোখে আঙুল দিয়ে এই তথ্য প্রমাণ করলেও আপনি নিজেও কিন্তু বোঝেন যে জাঙ্ক ফুড শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর! প্যাকেটের খাবার, ফাস্ট ফুড এবং ঝাল মশলা দেওয়া রেস্তোরাঁর খাবারের ট্রান্স ফ্যাট আমাদের কম ক্ষতি করে না! অন্য দিকে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার সময়মতো খাওয়া যে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসের ক্ষেত্রে সাহায্য করে, তা নিয়েও কারও সন্দেহ নেই। তা হলে এ বার থেকে কি এই অভ্যেসই বজায় থাকবে?

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: