আচমকাই হাত-পা নড়াতে সমস্যা হচ্ছে? ঘরে ঘরে থাকা এই সামান্য অসুখই ডেকে আনবে মৃত্যু

আচমকাই হাত-পা নড়াতে সমস্যা হচ্ছে? ঘরে ঘরে থাকা এই সামান্য অসুখই ডেকে আনবে মৃত্যু

শরীরে অতিরিক্ত শর্করার প্রভাব ঐচ্ছিক পেশিকে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় করে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

শরীরে অতিরিক্ত শর্করার প্রভাব ঐচ্ছিক পেশিকে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় করে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

  • Share this:

#টোকিও: শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন কম শর্করা। অতিরিক্ত শর্করার পরিমাণ শরীরে তৈরি করতে পারে নানাবিধ অসুখ। ঐচ্ছিক পেশির সঞ্চালন-প্রসারণেও অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে শরীরে থাকা অতিরিক্ত শর্করার লেভেল। সম্প্রতি 'টোকিয়ো মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের' গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। ওই গবেষণায় আরও জানা গিয়েছে, ডায়াবেটিসের সমস্যাজনিত মানুষজন তাঁদের ঐচ্ছিক পেশির সঞ্চালন-প্রসারণ জনিত ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে শুরু করেন অনেক আগেই। পূর্ববর্তী 'ওটাওয়া হাসপাতালের' একটি গবেষণায় জানা গিয়েছিল, ঐচ্ছিক পেশির সক্রিয়তা মানুষের আয়ুবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়ে ওঠে। ফলত শরীরে অতিরিক্ত শর্করার প্রভাব ঐচ্ছিক পেশিকে আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় করে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

নতুন এই গবেষণা আরও জানাচ্ছে, ঐচ্ছিক পেশির মুখাপেক্ষী কোষসমূহ মূলত কম গ্লুকোজে অনেক বেশি সক্রিয়তার সঙ্গে কাজ করতে পারে। মানুষের শরীরের মাংসপেশির গঠন ও সঞ্চালনে এই মুখাপেক্ষী কোষগুলির ভূমিকা অত্যাবশ্যক। ফলত শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়লে, মুখাপেক্ষী কোষগুলির অ-সক্রিয়তা শরীরের স্বাভাবিক স্থিতিকে ব্যাহত করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ঐচ্ছিক পেশির এই মুখাপেক্ষী কোষগুলি মূলত সার্কোলেমা, বাসাল ল্যামিনা ও মাইওফিবারের কোষের আবরণের ভিতরে দু'টি স্তরে অবস্থান করে থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ যদি তাঁর অতিরিক্ত শর্করা-কেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, তবে তাঁর শরীরে অবস্থানকারী ঐচ্ছিক পেশি মুখাপেক্ষী এই কোষগুলি সুপ্তাবস্থায় চলে যেতে পারে, যা একজন মানুষের শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপের পক্ষে ক্ষতিকর।

টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাপত্র পূর্ববর্তী সকল গবেষণাপত্রগুলির চাইতে বেশ কিছুটা আলাদা। অধ্যাপক নোবুহারু এল ফুজি, সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসুকো মানাবে ও সহকারী অধ্যাপক ইয়াসুরো ফুরোলচি'র নেতৃত্বাধীন বিজ্ঞানীদের টিম জানিয়েছে গ্লুকোজের অতিরিক্ত প্রভাব শরীরে কোষের স্বাভাবিক প্রসারণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী সকল বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের বিপ্রতীপ। এত দিন পর্যন্ত মনে করা হত, গ্লুকোজ শরীরে কোষের স্বাভাবিক প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। শরীরে গ্লুকোজ মূলত অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট বা এ.টি.পি (ATP)-তে পর্যবসিত হয়।

যে এ.টি.পি মানুষের শরীরে যাবতীয় এনার্জির উৎস হিসাবে কাজ করে। বর্তমান গবেষণায় আরো বলা হয়েছে যে শরীরে অবস্থানকারী ম্যামালিয়ান কোষগুলির ক্ষেত্রেও গ্লুকোজের অতি-উপস্থিতি ক্ষতিকর। যা এর আগের সমস্ত গবেষণা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান করে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এই জায়গা থেকে কত দূর এগোতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Published by:Shubhagata Dey
First published: