বিয়ে বাড়ির রকমারি স্যালাড খাচ্ছেন? ক্ষতি করছেন নাতো নিজের

আপাতভাবে সবুজ ডায়েটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষ আপনার শরীরে থাবা বসাচ্ছে আপনারই অজান্তে

আপাতভাবে সবুজ ডায়েটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষ আপনার শরীরে থাবা বসাচ্ছে আপনারই অজান্তে

  • Share this:
    #কলকাতা: বিয়েবাড়িতে ভুরিভোজ হবে না, তাও হয় নাকি?  অতিরিক্ত মাত্রায় স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে অনেক সময়ে আমরা তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে স্যালাডেই কিন্তু আস্থা রাখি। কিন্তু ঠিক এখানেই বিপদ হচ্ছে না তো? আপাতভাবে সবুজ ডায়েটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিষ আপনার শরীরে থাবা বসাচ্ছে আপনারই অজান্তে। এবার দেখে নিন কী কী ক্ষতিকারক দিক রয়েছে এইসব স্যালাড এর – ঘরে নিজে বানিয়ে খাওয়া স্যালাড হেলদি হলেও নানান পার্টি বা বিয়ে বাড়ির রকমারি স্যালাড কিন্তু আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে বিপদ। কেন? নিজেই জেনে নিন সে বিষয়ে। • র এবং লাইট কুকড ভেজিটেবল সমৃদ্ধ স্যালাড এর ডালিকে অনেকেই হেলদি ফুড ট্রেন্ডে রাখছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে বেশিরভাগ মানুষ জানেনই না তাদের শরীরে সাধারণ কাজ করার জন্য কতটা ক্যালরি প্রয়োজন! • টমেটো, বেলপেপার, শসা, বিট গাজরের স্যালাড হয়ে উঠেছে খুবই সাদামাটা। তাই ভরসা ফ্যান্সি স্যালাডে। যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নানা ক্ষতিকারক ড্রেসিং। যেমন – ক্রাউটন বা ফ্রায়েড ব্রেড, ফ্রায়েড নুডলস, চিজ ইত্যাদি। • এগুলো স্যালাডকে সুস্বাদু করলেও ক্যালরিতে করছে আপনাকে ওভারলোড। চিজ এবং মেয়োনিজ এর টপিং আপনার ক্যালোরি গেইন বাড়িয়ে দেয়। এক টেবিলচামচ মেয়োতে প্রায় নব্বই ক্যালোরি থাকে এবং সঙ্গে ফ্রায়েড চিকেন ইত্যাদি দিলে কিন্তু তার মাত্রা হাজার ক্যালোরি ছাড়িয়ে যায়। • এর জন্য আপনাকে জিমে পরে কসরত করতে হয় মেদ ঝরাতে। তাই বিয়েবাড়িতে খাবার আগে অবশ্যই ভেবেচিন্তে খান। অপরিচ্ছন্নতা: • ব্যুফেতে সাজিয়ে রাখা স্যালাড এর থালি যতই লোভনীয় হোক না কেন, মনে রাখবেন সেটা কোথায় কী পরিস্থিতিতে প্রস্তুত হচ্ছে তা আপনি চোখে দেখেননি। তাই এগুলিকে নিশ্চিন্তে অর্গানিক মনে করার কোনও কারণ নেই। • স্যালাড ভালো করে ওয়াশ হয়েছে কিনা কিংবা সেগুলিতে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ গেছে কিনা এই নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। অর্থাৎ হাইজিন গত সমস্যার ব্যাপারটা থাকে। • এগুলো কতক্ষন আগে থেকে কাটা হয়েছে তাও জানার সুযোগ থাকে না। ফলে এটি নানাভাবে জীবাণু দ্বারা দূষিত হয়েই থাকে। ডায়েরিয়া, বমি, ওরাল হার্পিস, এর মত উপসর্গ হতেও দেখা গিয়েছে। প্রোটিন এর ঘাটতি: • ফ্যান্সি স্যালাডে যে জিনিসটার ঘাটতি থাকে তা হলো প্রোটিন। স্যালাডে ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার থাকলেও তা পেশিতে প্রয়োজনীয় প্রোটিন দিতে পারেনা। • স্যালাড কখনোই ফুল মিল এর সাপ্লিমেন্ট হতে পারেনা। তাই এটি একদিক থেকে উপোস এরই সামিল। এর জন্য মাথাঘোরা, দুর্বলতা আসতে পারে। • প্রোটিন এর অনুপস্থিতি আপনার মেটাবলিজম ধীরগতি করে ফেলে। ফলে নেক্সট মিল খেলেই তা বেশি ওয়েট গেনের পথ প্রশস্ত করে তোলে। কেমিক্যাল কেলো: • অনেকেই মনে করেন যে স্যালাড পুরো মাত্রায় প্রাকৃতিক। কিন্তু আদতে চিত্রটা অনেকটাই আলাদা। • সুপারমার্কেটে পাওয়া স্যালাডগুলি হয় প্রক্রিয়াজাত। যার মধ্যে নানা প্রিজারভেটিভ ও সিন্থেটিক কালারিং ব্যবহৃত হয়। • স্যালাডে ব্যবহার হওয়া রিচ সস, অলিভ অয়েল, ফ্রায়েড অনিয়ন, পেকান, চিজ, প্রসেসড বেকন ইত্যাদি শরীরে টক্সিন ও কোলেস্টেরল এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। স্নায়ুতন্ত্র এর সক্রিয়তা হ্রাস করে। • এছাড়াও স্যালাডে মেশানো টর্তিলা স্ট্রিপ, মান্দারিন অরেঞ্জ, ওয়ান্টন নুডলস ও রোমেন আইসবার্গজাত লেটাস কৃত্রিমভাবে উৎপন্ন হচ্ছে। এগুলো খাওয়া তাই জাঙ্ক ফুড খাবারই সামিল। এতে করে আপনার শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি প্রবেশ করে। ব্যাকটেরিয়া থেকে সাবধান: • স্যালাড এর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো তা কাঁচা বা হাফ স্টিমড অবস্থায় সার্ভ করা হয়। যাতে ক্রিপ্টোপরিডিয়াম ইনফেকশন হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। • আমেরিকার টেনেসি স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছেন গ্রাউন্ড ভেজিটেবল থেকে প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য তা স্ট্রং ডিটারজেন্ট এ ধোয়া (ক্লোরিন জলে) হয়। যার মাধমে আপনার দেহে ক্ষতিকর রাসায়নিক ঢুকতে পারে। • সবজি অনেকক্ষন কেটে রাখার ফলেও তার মধ্যে যেমন স্পিন্যাচ, বিন, স্প্রাউট ইত্যাদিতে সালমনেলা বা লিস্টেরিয়া ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ এর সম্ভাবনা কিন্তু রয়েই যায়। • তাই নিজের স্যালডকে তৈরি করুন আদর্শ কার্ব, ফ্যাট ও প্রোটিন এর সমন্বয়ে। ভিনিগার বেসড স্যালাড বাছুন ক্রিম এর পরিবর্তে। ড্রেসিং এ চিজ ও সস এড়িয়ে চলুন। ফ্রায়েড আইটেম এর পরিবর্তে গ্রিল্ড চিকেন, পনির বা ডিম নিতে পারেন। ফ্যাট এর জন্য অ্যাভোক্যাডো বা অন্য ড্রাই ফ্রুট নিতেই পারেন। সাথে কার্বের জন্য থাকুক নানান স্বাদের বেরি, কুইনওয়া, পাস্তা। এইভাবে মডারেট করে ব্যালেন্স স্যালাড খেতে পারেন।
    Published by:Simli Dasgupta
    First published: