ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে পারে গ্রিন টি-র যৌগ উপাদান, বলছে গবেষণা

ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে পারে গ্রিন টি-র যৌগ উপাদান, বলছে গবেষণা
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে গ্রিন টি পান করলে শরীরে নিজে থেকেই ক্যানসার-বিরোধী প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রোটিন DNAবা জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা সারিয়ে দেয় এবং ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে গ্রিন টি পান করলে শরীরে নিজে থেকেই ক্যানসার-বিরোধী প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রোটিন DNAবা জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা সারিয়ে দেয় এবং ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে।

  • Share this:

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, যে কোনও ঋতুতে গরম চায়ে চুমুক দিতে দারুণ লাগে। যাঁরা এই অভ্যেসের বশবর্তী, তাঁদের জন্য রয়েছে ভালো খবর। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে গ্রিন টি পান করলে শরীরে নিজে থেকেই ক্যানসার-বিরোধী প্রোটিন তৈরি হয়। এই প্রোটিন DNAবা জিন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা সারিয়ে দেয় এবং ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে।

নেচার কমিউনিকেশন নামে এক পত্রিকায় এই ক্যানসার-বিরোধী প্রোটিন p53 এবং গ্রিন টি-তে উপস্থিত যৌগ উপাদান এপিগ্যালোক্যাটেসিন গ্যালেট (Epigallocatechin Gallate) বা EGCG-র মধ্যে কী রকম সম্পর্ক, সেটা তুলে ধরা হয়েছে। চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীমহল অনুমান করছেন যে ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এই গবেষণা আশাব্যঞ্জক হতে পারে। নিউ ইয়র্কের রেন্সেলায়ের পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ইন ট্রয়-এর তরফ থেকে সহ-গবেষক চুনয়ু ওয়াং বলেছেন যে এই প্রোটিন আর গ্রিন টিয়ের উপাদান দু'টোই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৫০% ক্যানসার রোগীর শরীরে মিউটেট করা প্রোটিন পাওয়া গিয়েছে। আবার গ্রিন টি-তে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান আছে যা শরীরের পক্ষে ভালো এবং গোটা বিশ্বের মানুষ এই পানীয় পছন্দ করেন।

এত দিন যেটা জানা ছিল না, নতুন গবেষণার পক্ষে সেটা জানা সম্ভব হয়েছে। এই প্রোটিন আর গ্রিন টিয়ের উপাদানের মধ্যে সরাসরি একটি সম্পর্ক আছে। এই সম্পর্কের সঠিক বিশ্লেষণ হলে সেটা ক্যানসার-বিরোধী ওষুধ তৈরিতে পথ দেখাবে বলে মনে করছেন ওয়াং। তাঁরা বোঝার চেষ্টা করছেন যে কী ভাবে এই EGCG p53-র বৃদ্ধি ঘটায়। এই বিষয়টি স্পষ্ট হলেই EGCG দিয়ে ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করা যাবে।


মানুষের শরীরে এই p53-র ভূমিকা অপরিসীম বলে মনে করছেন গবেষকরা। শরীরে এই প্রোটিন থাকলে ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি থেমে যায়। DNA যদি কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটা ঠিক করাও এই প্রোটিনের একটি কাজ।এই প্রোটিনের শেষের দিকের একটি অংশ অত্যন্ত নমনীয়, যার দরুণ এটি নানা কাজ করতে সক্ষম। কিন্তু এই প্রোটিন সৃষ্টি হয়ে অতি দ্রুত ক্ষয়েও যায়, সেক্ষেত্রে কাজে আসে গ্রিন টি। কারণ গ্রিন টি-তে প্রচুর পরিমাণে EGCG থাকে। যা মূলত এই p53-র ক্ষয় রোধ করে।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: