শিশুর পরিচর্যা করুন এইভাবে

শিশুর পরিচর্যা করুন এইভাবে

Representational Image

শীতকালটা শিশুদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন ৷

  • Share this:

    #কলকাতা:  শহর থেকে শীত এখন ক্রমেই চলে যাওয়ার দিকে ৷ গত বেশ কয়েক দিন ধরে জাঁকিয়ে শীত পড়ার পর তাপমাত্রা এখন উর্ধ্বগামী ৷ তবে দেশের সব জায়গায় এখনই শীত চলে যায়নি ৷ দার্জিলিং, হিমাচলপ্রদেশ-সহ বেশ কিছু অঞ্চলে এখন তুষারপাতও হচ্ছে ৷ শীতকালটা শিশুদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন ৷ সদ্যজাত শিশুদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি ৷ বাচ্চার সঠিক মাত্রায় খাওয়া দাওয়া, জল খাওয়ানো এবং ত্বকের পরিচর্যার দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে মা-কে ৷ এই ‘সিক সিজন’-এ শিশুর সুন্দরভাবে পরিচর্যার জন্য বেশ কিছু টিপস দিয়েছেন কলকাতার সিকে বিড়লা হাসপাতাল (CMRI)-এর  পেডিয়াট্রিক বিভাগের কনসালটেন্ট ডা: রুচি গোলাশ ৷  সেগুলি কী দেখে নিন নীচে ৷

    স্নান ও ম্যাসাজ:

    ১. মা ও শিশুর কাছে স্নানের সময়টা অবশ্যই মজার ৷ তবে সাবান ব্যবহার করতে হবে বুঝে-শুনেই ৷ সপ্তাহে একবার বা দু’বার শিশুকে স্নান করানোর সময় সাবান ব্যবহার করতে হবে ৷ বাকি দিনগুলোতে জলের মধ্যে কয়েক ড্রপ নারকেল তেল ব্যবহার করে স্নান করাতে হবে ৷ খুব বেশি সময় ধরে স্নান না করানোই ভাল ৷ স্নানের পরেই তোয়ালে দিয়ে ভাল করে গা মুছিয়ে দিন শিশুর ৷ ২. স্নানের পরে হালকা সুতির বেশ কয়েকটি জামা পরান শিশুকে ৷ সিন্থেটিক জামা শিশুদের ত্বকের জন্য একেবারেই ভাল নয় ৷ এতে ত্বকে অ্যালার্জিও হতে পারে ৷ ৩. স্নানের পর শিশুকে অতিরিক্ত তোয়ালে বা অন্য কিছু দিয়ে মোড়াবেন না ৷ শিশুদের BMR এমনিতেই বেশি হয় ৷ যা তাদের শরীরকে গরম রাখে ৷ ৪.  তেল মালিশও শিশুদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারি ৷

    5-essential-newborn-baby-care-tips-1-size-3

    শীতকালীন রোগ থেকে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখুন

    ১. সদ্যজাত বা একটু বেশি বয়সী শিশুদের খুব তাড়াতাড়ি জ্বর হয় ৷ ঠাণ্ডা লাগা বা বুকে কফ জমে যাওয়ারও একটা আশঙ্কা থাকে ৷ বাইরের ঠাণ্ডা ও দূষিত পরিবেশ থেকে এইসময়টা একটু দূরেই রাখুন শিশুদের ৷ শীত চলে যাওয়ার পর বসন্তকালটাও শরীরের যত্ন বিশেষভাবে নিতে হবে ৷ কারণ এই সময়টা হল রোগের সময় ৷ ২. কোনও পোষ্যের থেকে দূরে রাখুন শিশুকে ৷ কারণ পোষ্যদের থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৷ ৩. প্রতিদিন পরিষ্কার ব্ল্যাঙ্কেট, বেড শিট এবং বালিশ ব্যবহার করুন ৪. শিশুর স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই বাড়ির মধ্যে ধূমপান করবেন না ৷

    খাবার এবং পুষ্টি

    ১. দিনে অন্তত ৬-৮ বার শিশুর প্রস্রাব অত্যন্ত প্রয়োজন ৷ এর চেয়ে কম মাত্রায় প্রস্রাব হলে বুঝতে শিশুর দেহে জল কম পরিমাণে যাচ্ছে ৷ তাই পরিমাণমতো শিশুকে জল খাওয়ান ৷ ২. খুব বেশি খাবার খাওয়াবেন না শিশুকে ৷ অল্প অল্প করে প্রতি দু’-তিন ঘণ্টা অন্তর খাবার দিন শিশুকে ৷ ৩. প্রতিদিন ভালমতো ফ্রেশ জুস খাওয়ান শিশুকে ৷ অরেঞ্জ জুস, স্যুপ, ম্যাশড ফল অত্যন্ত উপকারি শিশুদের জন্য ৷ ৪. ছ’মাসের বেশি বয়সের শিশুদের গলা ভাত, দুধে মেশানো ভাত, অল্প ডাল, খিচুড়ি খাওয়াতেই পারেন ৷ ৫. সলিড খাবারের পাশাপাশি দিনে অন্তত ৬-৭ বার ফোটানো জল খাওয়ান শিশুকে ৷

    সদ্যজাতদের ক্ষেত্রে সামান্য কাশি বা হাঁচিও কিন্তু সন্দেহজনক। তাই কাশি, শব্দ করে শ্বাস টানা, দুধ টেনে খেতে না পারা, শ্বাস নিতে কষ্ট বা পাঁজর নিশ্বাসের সঙ্গে বেঁকে যেতে থাকলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। যদি ঘরের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি হয়, তবে সুতিকাপড় পরিয়ে কাঁথা দিয়ে মুড়ে রাখুন। তাপমাত্রা এর নীচে হলে সোয়েটার ব্যবহার করতে পারেন। শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান। বুকের দুধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। ফলে শিশু সহজে ঠাণ্ডা, কাশি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয় না। যেসব শিশু কোনও কারণে বুকের দুধ খায় না বা পায় না, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। শিশুর ডায়পার বদলও নিয়ম করে করা উচিৎ ৷ প্রতি ৪-৫ ঘণ্টা অন্তর ডায়পার বদল করতে হবে ৷ পাশাপাশি দিনে সবসময় যেন শিশু ডায়পার পরে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে ৷

    First published:

    লেটেস্ট খবর