• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • খুব বেশি কফি খান? খুব সাবধান, দেখা দিতে পারে এই সমস্যাগুলি

খুব বেশি কফি খান? খুব সাবধান, দেখা দিতে পারে এই সমস্যাগুলি

পরীক্ষায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে দুপুরের দিকে যাঁরা এক্সারসাইজ করার আগে ক্যাফেইন গ্রহণ করেছেন সেটা তাঁদের ফ্যাট বার্নিং অনেক দ্রুত করে দিয়েছে।

পরীক্ষায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে দুপুরের দিকে যাঁরা এক্সারসাইজ করার আগে ক্যাফেইন গ্রহণ করেছেন সেটা তাঁদের ফ্যাট বার্নিং অনেক দ্রুত করে দিয়েছে।

এক-আধ কাপ খেলে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কফি পান করলে কী কী হতে পারে সেটা একবার জেনে নিন।

  • Share this:

#কলকাতা: কফির মধ্যে বেশ একটা সাহেবি ব্যাপার আছে! ব্ল্যাক কফি, মোকা, লাতে, কাপুচিনোর মতো শব্দের এমন জাদু যে উচ্চারণ করলেই নিজেকে কেমন জানি রাজাগজা মনে হয়। ঘুম থেকে উঠে চা খায় আম জনতা, কিন্তু সকালে উঠেই এক কাপ ব্ল্যাক কফি না খেলে অনেকেরই দিন শুরু হয় না, মন ভালো থাকে না, বুদ্ধি খোলে না এবং অন্যান্য নানা রকম কাণ্ড হয়! অবশ্য কফি যে একেবারে দুরছাই করার মতো জিনিস তা বলছি না। আপনি পানসে মুখে অফিস যাবেন, আপনাকে এনার্জি যোগায় কে? কফি। কারণ এতে ক্যাফিন আছে। তা ছাড়াও কিছু পুষ্টিগুণ আছে, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। সেই জন্যই তো বিশ্ব জুড়ে এত কদর এই পানীয়র। মুম্বইয়ের নামজাদা পরিচালক পর্যন্ত নিজের শোয়ে ডেকে ডেকে লোককে কফি খাওয়ান!

কিন্তু কী জানেন তো, চাণক্য পণ্ডিত বলে গেছেন অতি সর্বত্র গর্হিতম! অর্থাৎ যে কোনও জিনিস নিয়ে তুমি বাড়াবাড়ি করেছ তো বাছাধন তুমি মরেছ! কফির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। বেশি বেশি কফি, তাও আবার ভুল সময়ে পান করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি।

একটা উদাহরণ দিই। আপনি হাই তুলতে তুলতে সকালে উঠলেন। মানে আপনার রাত্রে ভাল ঘুম হয়নি। উঠেই আপনি ঝপাং করে এক কাপ ব্ল্যাক কফি কোঁতকোঁত করে গিলে নিলেন। ব্যস, ব্লাড সুগার চড়চড় করে বেড়ে গেল আর ডায়াবেটিস বা হার্টের অসুখ হওয়ার আশঙ্কাও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। তাই বলে কি কফি পান করবেন না?

আলবাত করবেন। কিন্তু সেটা ভরা পেটে ব্রেকফাস্টের পর । এক-আধ কাপ খেলে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কফি পান করলে কী কী হতে পারে সেটা একবার জেনে নিন।

১) কফি আছে তো চিন্তা কী! এই অভ্যেস ভারি খারাপ! একবার তৈরি হয়ে গেলে কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। আপনার মনে হচ্ছে আপনি এনার্জি পাচ্ছেন কফির জন্য। আদতে কিন্তু তা নয়। ক্যাফিন শুধু কয়েক মুহূর্তের জন্য কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন করে এই যা। মাঝে মধ্যে দু'-এক কাপ চা পান করেও দেখতে পারেন।

২) পেটের সমস্যা যদি দেখেন মাঝে মধ্যেই পেট গুড়গুড় আর খাবার হজম করতে বেগ পেতে হচ্ছে, চোখ বন্ধ করে কফিকে দায়ী করুন। কারণ কফির ল্যাক্সেটিভ প্রভাবেই এটা হচ্ছে। কী করতে হবে বুঝতেই পারছেন নিশ্চয়ই। নিজে কফি পান নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩) উত্তেজনা বা অস্থিরতা কফি পান করলেই যে আপনি সর্বদা এনার্জিতে টগবগ করে নাচবেন তা নয় কিন্তু। অনেক সময় কফি অ্যাড্রিনালিন হরমোন নিঃসৃত করে আপনাকে উত্তেজিত বা অস্থির করে তুলতে পারে। আপনার মাথা ঘোরা বা গা বমিবমি বা হাত-পা কাঁপা এই সব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে, এ বার থামার সময় এসেছে।

৪) ঘুমের সমস্যা অনেকেই রাত জেগে কাজ করার জন্য বা লেখাপড়া করার জন্য রাত্রে কফি পান করেন। বেশ, তাঁরা করুন। কিন্তু আপনি যদি ঘুমোতে যাওয়ার আগে কফি পান করেন, তা হলে কিন্তু ঘুম আসতে দেরি হবে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অনিদ্রা রোগও দেখা দিতে পারে। যদি একান্তই মনটা কফি কফি করে, তাহলে সেটা ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত তিন চার ঘণ্টা আগে পান করবেন।

৫) দ্রুত হৃদস্পন্দন ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা যে কোনও রকমের স্টিমুল্যান্ট আপনি বেশি মাত্রায় নিলে যা হবে কফির ক্ষেত্রেও তাই হয়! এটি আপনাকে এনার্জি দেবে, জাগিয়ে রাখবে কিন্তু তার পাশাপাশি রক্তচাপ আর হৃদস্পন্দনও বাড়িয়ে দেবে। অতিমাত্রায় কফি তাই অনেক সময় হাইপারটেনশন এবং কার্ডিও ভাস্কুলার সমস্যারও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কফি পান করলেও সেটা যেন সীমার মধ্যে থাকে।

Published by:Simli Raha
First published: