Home /News /life-style /

মিষ্টি ছাড়া দিওয়ালি এক্কেবারে অসম্পূর্ণ, কিন্তু কোন মিষ্টি কীভাবে কত ক্ষতি করছে জানেন? দেখুন...

মিষ্টি ছাড়া দিওয়ালি এক্কেবারে অসম্পূর্ণ, কিন্তু কোন মিষ্টি কীভাবে কত ক্ষতি করছে জানেন? দেখুন...

দিওয়ালি মানেই তো নতুন পোশাক, লোভনীয় উপহারের সঙ্গে থাকে থালা ভর্তি করে মিষ্টি। হালুয়া, গুলাব জামুন, লাড্ডু আর অবশ্যই দিওয়ালি স্পেশ্যাল বরফি।

  • Share this:

 #কলকাতা: নবরাত্রি আর দুর্গা পুজো শেষ বটে, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই এসে যাবে আলোর উৎসব দিওয়ালি বা দীপাবলি। এমনিতেই ভারতীয়দের কোনও উৎসবই খাওয়াদাওয়া ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না। আর দিওয়ালি মানেই তো নতুন পোশাক, লোভনীয় উপহারের সঙ্গে থাকে থালা ভর্তি করে মিষ্টি। হালুয়া, গুলাব জামুন, লাড্ডু আর অবশ্যই দিওয়ালি স্পেশ্যাল বরফি।

এই সময় অতি স্বাস্থ্যসচেতন লোকেরাও একটু হলেও বেসামাল হয়ে যান। লোভ বড় সাঙ্ঘাতিক বস্তু। তখন মনে হয়, একটু খাই, কাল থেকে না হয় জিমে গিয়ে পুষিয়ে নেব! ও দিকে পরিবার আর বন্ধু বান্ধবেরাও কম যান না। হাঁ করে হাওড়া বলার আগেই মুখে মিষ্টি ঠুসে দেওয়া হয়। এখন এমন ভালোবেসে দিলে কি আর না বলা যায়? একদম নয়, অতএব একটার পর একটা চলতেই থাকে!

ভাববেন না যে উৎসবের আগে আপনাকে ভয় দেখাচ্ছি, তবে জেনে রাখুন মাত্র একটা ৩০ গ্রামের বরফিতে ১২ থেকে ১৫ গ্রাম চিনি থাকে। আর আপনি যে শুধু সোনামুখ করে একখানাই খাবেন তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

এ দিকে চিনি দিয়েই গল্পটা যদি শেষ হয়ে যেত, তা হলে এত চিন্তার ছিল না। কিন্তু বিপদ আছে আরও! রুপোর রূপে ভুলবেন না!

থালা ভর্তি মিষ্টির মধ্যে কয়েকটাতে থাকে রুপোর তবক। আয়ুর্বেদ বলছে শরীরে রুপো প্রবেশ করা ভালো। কারণ এর অনেক গুণ আছে। তা, একবার ভেবে দেখুন তো, বাজারে রুপোর দাম কিন্তু কম নয়। তাই আপনার মিষ্টিতে কি সব সময় রূপো দেওয়া সম্ভব?

বেশিরভাগ সময়ই রুপোর বদলে দেওয়া হয় অ্যালুমিনিয়াম। নিকেল, সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর হেভি মেটালও থাকে। তা হলে কি মিষ্টি খাবেন না? আলবাত খাবেন। তবে তার আগে একবার রুপোলি তবক হাতে নিয়ে ঘষে দেখবেন সেটা খাঁটি রুপো কি না। খাঁটি হলে হাতে মিলিয়ে যাবে আর না হলে গুটিয়ে বলের মতো হয়ে যাবে।

একটু বেশি টাকা দিয়ে ভালো দোকান থেকে মিষ্টি কিনুন আর দেখে নিন রুপো যেন নিরামিষ হয়! আমিষ ধাতু? সেটা কি জিনিস?

যদি জানতে চাই এই রুপোর তবক কী ভাবে তৈরি হয়, আপনি বলবেন মেশিনে। আজ্ঞে না। মৃত পশুদের অন্ত্র সেলাই করে একটা বইয়ের মতো বানিয়ে নেওয়া হয়, আর তার মধ্যেই চাপ দিয়ে এই রুপোর পাতা তৈরি হয়। সত্যি বলতে কি, এই জাতীয় তবক শুধু স্বাস্থ্যের পক্ষে যে ক্ষতিকর তা নয়, নৈতিক দিক থেকেও এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই পদ্ধতি বন্ধ করা যায়নি।

তা হলে কি মিষ্টি খাবেন না? হ্যাঁ খাবেন। কিছু কিছু কোম্পানি এখন মেশিনে রুপোর তবক তৈরি করছে এবং এই প্রথার বিরুদ্ধে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ মিষ্টি কেনার আগে আপনাকে একটু হোম ওয়ার্ক করে নিতে হবে। সব দিক ভাল হলে তবেই তো দিওয়ালির আলো জ্বালা সার্থক, তাই না?

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Diwali 2020, Sweets

পরবর্তী খবর