ভয়ানক বিপদ ! হুহু করে গলছে বরফ ! সমুদ্রতীরের এই শহর তলিয়ে যেতে চলেছে জলের তলায় !

গরম হাওয়া বইছে ঠাণ্ডার দেশে।

গরম হাওয়া বইছে ঠাণ্ডার দেশে।

  • Share this:

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সারা পৃথিবীর জলবায়ু পালটে যাচ্ছে একটু একটু করে। এই নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পরিবেশবিদরা। সব চেয়ে আশঙ্কার বিষয়টি ঘটেছে গ্রিনল্যান্ডে। ১২০০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এত দ্রুত বরফ গলছে সেখানে। এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর এবং স্রোতের আচমকা বেশ কিছুটা পরিবর্তন ঘটতে চলেছে খুব শিগগির।

নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হলোসিন যুগে এই হারে বরফ গলত। সর্বশেষ যে তুষারযুগ এসেছিল পৃথিবীতে, তার আগে ছিল হলোসিন যুগ। নতুন করে সেই যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বরফ গলছে গ্রিনল্যান্ডের। এই হার আরও বাড়বে বলেই অনুমান বিজ্ঞানীদের। হলোসিনের সময়ে সারা পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ৫.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এখন সারা বিশ্ব জুড়ে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়েছে, ফলে এই সময়ে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা হয়েছে আরও বেশি।

বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেসন ব্রাইনার তাই বলছেন যে এই হারে বরফ গলতে থাকলে একবিংশ শতক শেষ হওয়ার আগেই ২ সেন্টিমিটার থেকে ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে যাবে সমুদ্রস্তর। সাফ জানিয়েছেন ব্রাইনার- আমরা পৃথিবীটাকে এতটাই বদলে ফেলেছি যে এখন গ্রিনল্যান্ডে যে পরিমাণ বরফ গলতে শুরু করেছে বিগত ১২ হাজার বছরে এমনটা ঘটেনি!

গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটির ৮০ শতাংশ অঞ্চল, প্রায় ৬,৬০০০০ বর্গ মাইল এলাকা বরফের স্তরে ঢাকা। গবেষণায় উঠে আসা তথ্য বলছে ৭ থেকে ১০ হাজার বছর আগে সেই বরফের পাতের সঙ্কোচন হয়েছিল। বিগত ৪ হাজার বছর কিন্তু বরফের পাতের প্রসারণই ঘটেছে। তবে বর্তমান সঙ্কোচনের মান একই থাকলে আগামী এক হাজার বছরের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড থেকে উধাও হয়ে যাবে বরফ। পৃথিবীর গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ বাড়লে আরও দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে বরফ। বরফের পাতের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে পাতের সঙ্কোচনের হিসেবও করেছেন বিজ্ঞানীরা।

চলতি বছরের প্রথম দিকে অ্যান্টার্কটিকার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সে ছবি দেখে আঁতকে উঠেছিলেন সবাই। নিমেষের মধ্যে গলে যাচ্ছে অ্যান্টার্কটিকার চাঁই-চাঁই বরফ। ভেঙে পড়ছে হিমবাহ। যার ফলে বাড়তে পারে জলের স্তর।

নাসা থেকে পাঠানো সেই ছবি দেখে আঁতকে উঠেছিলেন পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা। পরিস্থিতির উন্নতি কিন্তু হয়নি। তা, মাত্র নয় দিনে যদি ২০ শতাংশ করে বরফ গলে যেতে পারে, তা হলে আগামী দিনে কী অপেক্ষা করছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কিন্তু উত্তর রয়ে গিয়েছে উদ্বেগের স্তরেই।

কেন না, এ এক অভূতপূর্ব ঘটনা! অ্যান্টার্কটিকায় আগে কোনও দিন এমনটা হয়নি। সেখানে আপাতত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যাচ্ছে গড়ে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরম হাওয়া বইছে ঠাণ্ডার দেশে। তাই বিজ্ঞানমহল মনে করছে- বরফ গলে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্রতীরবর্তী শহরাঞ্চল চলে যেতে পারে জলের তলায়।

Published by:Piya Banerjee
First published: