নিযুক্তির ধরন বদলাতে সার্টিফিকেট কোর্স চালু Google-এর, ভারতে কতটা সফল হবে এই পরিকল্পনা?

নিযুক্তির ধরন বদলাতে সার্টিফিকেট কোর্স চালু Google-এর, ভারতে কতটা সফল হবে এই পরিকল্পনা?

(Picture: AP)

Google-এর তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে একাধিক সার্টিফিকেট কোর্স চালু করতে চলেছে এই সংস্থা।

  • Share this:

#নিউইয়র্ক: এবার আমেরিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য সার্টিফিকেট কোর্স চালু করেছে Google। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন NGO, ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এবং Per Scholas, NPower, Goodwill-এর মতো নানা ধরনের কমিউনিটি অরগাইনেজশনের মাধ্যমে আবেদনকারীদের প্রায় ১,০০,০০০ স্কলারশিপও দিচ্ছে এই সংস্থা। এ নিয়ে ১১ মার্চ Google-এর তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে একাধিক সার্টিফিকেট কোর্স চালু করতে চলেছে এই সংস্থা। এক্ষেত্রে নানা ধরনের অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট ও ডেটা অ্যানালিসিস কোর্স চালু করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাজারে কতটা সফল হবে এই উদ্যোগ? আসুন জেনে নেওয়া যাক!

বলা বাহুল্য, সার্টিফিকেট কোর্স চালু করার পাশাপাাশি প্রতিযোগী সংস্থাগুলির কথা মাথায় রেখে Infosys, Accenture, Intel, Snap Inc-সহ বিশ্বের প্রায় ১৩০টি শীর্ষ সংস্থায় চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এই সংস্থা। এ নিয়ে একটি ব্লগ পোস্টে বিস্তারিত জানান Google-এর CEO সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai)। এক্ষেত্রে ‘Grow with Google’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে এই টেক জায়ান্ট। যার অধীনে ডেটা অ্যানালিসিস, ইউজার এক্সপিরিয়েন্স ডিজাইন, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট-সহ একাধিক ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে Google কেরিয়ার সার্টিফিকেট। এর পাশাপাশি ২০১৮ সালে একটি IT সাপোর্ট সার্টিফিকেশনও লঞ্চ হয়। কত খরচ পড়বে এই ধরনের কোর্সে? সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকায় এই ধরনের কোর্সে অ্যাডমিশন নিতে মাসিক ৩৯ ডলার থেকে ১৪৯ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। যা কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী বাড়তে পারে।

কিন্তু দেশের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকরী হবে Google-এর এই সার্টিফিকেট কোর্স? কোনও টেকনিক্যাল চাকরির ক্ষেত্রে কি এই ধরনের সার্টিফিকেশন কোর্সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে? অনেকের কথায়, এই ধরনের সার্টিফিকেট কোর্স প্রফেশনাল ডিগ্রি কোর্সকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এমন কোনও লক্ষণ দেখছেন না। তাঁদের কথায় দুই জায়গার প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা ব্যবস্থা এক নয়। তাই এই ধরনের কোর্সের প্রভাব ততটা সক্রিয় বা সুদূরপ্রসারী হবে না।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পাশ্চাত্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই বিষয়ে এড-টেক ফার্ম Jigsaw Academy-এর কো ফাউন্ডার সরিতা দিগুমার্তি (Sarita Digumarti) জানান, ভারতের সমস্যা পাশ্চাত্যের দেশগুলির থেকে একদম আলাদা। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা বা কেরিয়ার অপশনও ভিন্ন। এখানে প্র্যাকটিকাল ক্লাসের থেকে থিওরির উপরে বেশি জোর দেওয়া হয়। তাই এখানকার পড়ুয়া ও পাশ্চাত্যের পড়ুয়ার সঙ্গে বৃত্তিগত শিক্ষায় বিস্তর ফারাক রয়েছে। আর এই প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে এই ধরনের প্রোগ্রামের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা হবে।

এই ধরনের প্রোগ্রাম গ্রাহকদের কাছে যথাযথ ভাবে পৌঁছাবে কি না, সেই বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, আঞ্চলিক ভাষায় অনলাইন ক্লাস হলে অন্য পরিস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু ইংরেজি ভাষায় অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণও একটি বড় বিষয়। এক্ষেত্রে ঠিকঠাক ইন্টারনেট সংযোগ একটি বড় বিষয়। দেশের বহু শহর, প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই।

আঞ্চলিক ভাষাতেও এই ধরনের কোর্স রয়েছে কি না, সেই বিষয়ে এখনও কিছুই জানা যায়নি। এ নিয়ে Moneycontrol-এর জিজ্ঞাসার কোনও উত্তরও দেয়নি Google। ইংরেজি ছাড়া বর্তমানে স্প্যানিশ ও পোর্তুগিজ ভাষাতে উপলব্ধ রয়েছে এই কোর্সগুলি। তবে এই পুরো প্রোগ্রাম আদৌ সফল হবে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, আজকাল প্রতি মুহূর্তে মানুষজনের পছন্দের পরিবর্তন হচ্ছে। বাজারে একাধিক অপশন রয়েছে। তাই সফল হতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। তবে এই মুহূর্তে যে সংস্থাগুলি বাজারে রয়েছে, তাদের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে Google। এক্ষেত্রে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হবে।

Published by:Debalina Datta
First published: