পিরিয়ডসে আর নিজের দায়িত্ব নিজের নয়, ব্রিটেনে মহিলা সেনাদের এবার স্যানিটারি সামগ্রী দেবে সেনাই

পিরিয়ডসে আর নিজের দায়িত্ব নিজের নয়, ব্রিটেনে মহিলা সেনাদের এবার স্যানিটারি সামগ্রী দেবে সেনাই

Photo- Representative

নারী সৈনিকদের এবার থেকে ঋতুচক্রকালীন সরঞ্জাম দেবে ব্রিটেন৷

  • Share this:

#লন্ডন: এর আগে যে বন্দোবস্ত প্রচলিত ছিল, তাকে সঙ্গত কারণেই 'হাস্যকর' বলে তকমা দিয়েছেন ইউনাইটেড কিংডমের আর্মড ফোর্সের মিনিস্টার জেমস হিপি (James Heappey)। যদি দেশের আইন এটা বলে যে মিলিটারি অপারেশনের সময়ে নারী সৈনিকদের তাঁদের ঋতুচক্রকালীন সরঞ্জামের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে এবং সেই মতো প্রস্তুত হয়ে ফিল্ডে যেতে হবে, তাহলে এর থেকে ন্যক্কারজনক আর কিছু হতে পারে না। তাই হিপি স্পষ্ট বলছেন যে এই ব্যবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। যেখানে প্রতি মাসেই নারীদের এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে তাঁদের স্বাস্থ্য এবং তার সুরক্ষার বিষয়টি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা অযৌক্তিক!

Women in British army | Image credit: Twitter Women in British army | Image credit: Twitter

আর্মড ফোর্সের মিনিস্টারের বক্তব্য একেবারে সঠিক, সে নিয়ে কোনও সন্দেহ প্রকাশ করা চলে না। কিন্তু সমস্যার সমাধানে কোন পথ বেছে নিল ইউনাইটেড কিংডম? জানা গিয়েছে যে এবার থেকে নারী সৈনিকদের ঋতুচক্রকালীন সরঞ্জাম বিনামূল্যে বিলি করবে দেশ। হিপির কথায়, যে পরিস্থিতিতে কোনও কিছুই ঠিক থাকে না, সেখানে অন্তত এই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দিকটা ঠিক রাখার চেষ্টা করবে সরকার। যদিও এই উদ্যোগকে তিনি নিজেই প্রয়োজনের পক্ষে পর্যাপ্ত বলে তকমা দিচ্ছেন না। কেন না তিনি জানিয়েছেন যে সমস্যার সমাধানে আপাতত মিলিটারিতে একটি করে প্রভিশন বক্স রাখা থাকবে। সেখানে থাকবে প্রয়োজনীয় ঋতুচক্রকালীন সরঞ্জাম এবং অন্তর্বাস। যাতে দরকার মতো তা তুলে নিতে পারেন দেশের নারী সৈনিকেরা।

হিপি জানিয়েছেন যে এই উদ্যোগকে খুব একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যায় না। কেন না, এখানেও চাহিদা এবং জোগানের বিষয়টি আছে। সেই সমস্যা কী ভাবে সমাধান করা যায়, মিলিটারিতে কোনও ভাবে নারী সৈনিকদের জন্য ঋতুচক্রকালীন সরঞ্জাম বানানো যায় কি না, সে সব নিয়ে আপাতত সরকারি স্তরে পর্যালোচনা চলছে বলে বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইউনাইটেড কিংডমের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১১ শতাংশ নারী। অথচ এত দিন পর্যন্ত তাঁদের স্বাস্থ্যের প্রতি কেন দৃষ্টি দেওয়া হয়নি, সেটা ভেবে বিস্মিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন এই প্রাক্তন ব্রিটিশ আর্মি অফিসার। নিজের সৈনিক-জীবনের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেছেন যে সেই সময়ে তাঁর বা পুরুষদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যা কিছু প্রয়োজন ছিল, তার জোগান আসতে বিলম্ব হত না। অথচ নারীদের ক্ষেত্রে কেন এত সময় লেগে গেল, সেই প্রশ্ন ক্রমশ বিব্রত করে তুলছে তাঁকে বলে জানিয়েছেন হিপি।

Published by:Debalina Datta
First published:
0