ক্রমবর্ধমান চিকিৎসার খরচ, ক্রিটিকাল ইলনেস কভারেজের জন্য গুরুত্ব দিতে হবে এই বিষয়গুলিতে!

ক্রমবর্ধমান চিকিৎসার খরচ, ক্রিটিকাল ইলনেস কভারেজের জন্য গুরুত্ব দিতে হবে এই বিষয়গুলিতে!

সুস্থ জীবনশৈলীর পাশাপাশি একটি ঠিকঠাক বিমা তথা ক্রিটিকাল ইলনেস কভারেজও (Critical Illness Cover) অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সুস্থ জীবনশৈলীর পাশাপাশি একটি ঠিকঠাক বিমা তথা ক্রিটিকাল ইলনেস কভারেজও (Critical Illness Cover) অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দূষণ, অবসাদ, অপুষ্টি হোক বা অনিয়মিত জীবনযাপন, যত দিন যাচ্ছে একের পর মারাত্মক অসুখের শিকার হচ্ছেন মানুষজন। এই ধরনের রোগ থেকে সুস্থ হতে খরচও পড়ে পাহাড়প্রমাণ। আর সে কথা মাথায় রেখে সুস্থ জীবনশৈলীর পাশাপাশি একটি ঠিকঠাক বিমা তথা ক্রিটিকাল ইলনেস কভারেজও (Critical Illness Cover) অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে এই কভারেজ বেছে নেওয়ার আগে একাধিক বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে!

চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ

দিন দিন বাড়ছে চিকিৎসার খরচ। প্রতিটি সার্জারিতেই প্রতি বছর হু-হু করে খরচ বাড়ছে। এক্ষেত্রে কোনও গুরুতর অসুখে পকেট থেকে মোটা টাকা খসার সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া কোনও বড় অসুখ থেকে সেরে উঠলে পুরোদমে কাজ শুরু করতেও সময় লাগে। অর্থাৎ নিয়মিত মাসিক আয়ের পরিমাণও কমবে। তার উপরে পারিবারিক খরচের বাড়তি চাপ। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই একটি ঠিকঠাক ক্রিটিকাল ইলনেস ইনসিওরেন্স কভার (Critical Illness Insurance Cover) কিনতে হবে।

কভারেজের হিসেব

কতটা কভারেজ নিতে হবে, তা মূল্যায়ণের জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপরে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের আয় ও পারিবারিক খরচের দিকে দেখতে হবে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। ধার যাক, কোনও এক দিল্লির বাসিন্দা একটি ক্রিটিকাল ইলনেস কভার কিনতে চান। বর্তমানে সদ্য কেনা বাড়িতে বউ ও দুই ছেলে নিয়ে থাকেন তিনি। ব্যক্তির পরিবারের মাসিক খরচ ৩০,০০০ টাকা। সঙ্গে রয়েছে একটি হোম লোন। এর EMI ২৫,০০০ টাকা।

এক্ষেত্রে প্রথমেই আগামী ২-৩ বছরের জন্য পারিবারিক খরচের পরিমাণ হিসেব করে নিতে হবে। যদি মাসিক মোট খরচ ৫৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে তিন বছরে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এক্ষেত্রে কোনও গুরুতর অসুখ হলে তার চিকিৎসার খরচ হিসেবে গড়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি ধরতে হবে। অর্থাৎ মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াল (২০+২০) ৪০ লক্ষ টাকায়। বর্তমানে এই টাকাটি যথেষ্ট। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির জন্য আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে তা আবার পর্যাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এক্ষেত্রে এই মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টিকেই মাথায় রাখতে হবে। অন্তত ১.৫ গুণ বাড়াতে হবে মোট খরচের পরিমাণ। এর জেরে খরচের পরিমাণ হবে ৬০ লক্ষ টাকা। এবার একটি ঠিকঠাক কভারেজের প্ল্যান কিনতে হবে। তবেই সামলানো যাবে পুরো বিষয়টি।

ঠিকঠাক সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে

ঠিকঠাক কম্বো বেছে নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থাৎ কোনও ক্রিটিকাল ইলনেস কভারের পাশাপাশি হেল্থ ইনসিওরেন্স পলিসি, টার্ম ইনসিওরেন্স প্ল্যানটিও দেখে নিতে হবে। কারণ এই তিনটি বিষয়েরই আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র হাসপাতালের খরচ বহন করে হেল্থ ইনসিওরেন্স প্ল্যান। ধরা যাক, কোনও ব্যক্তির ১০ লক্ষ টাকার হেল্থ ইনসিওরেন্স আছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা বিল হল। এক্ষেত্রে বিমা শুধুমাত্র হাসপাতালের খরচ অর্থাৎ মোট টাকার মাত্র ২.৫ লক্ষ টাকা দেবে। অন্য দিকে, কোনও টার্ম প্ল্যানে পলিসি হোল্ডারের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরীকে যাবতীয় টাকা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আবার কোনও ম্যাচিওরিটি বেনিফিটেরও প্রশ্ন নেই। তাই ক্রিটিকাল ইলনেস কভারের পাশাপাশি হেল্থ ইনসিওরেন্স পলিসি, টার্ম ইনসিওরেন্স প্ল্যানটিও দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি!

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর