Home /News /life-style /
Durga Puja 2021: অচেনা ব্রহ্মপুত্র আর মেখলা চাদরের গল্প, পুজোয় ঘুরে আসুন সবুজঘেরা শুয়ালকুচি...

Durga Puja 2021: অচেনা ব্রহ্মপুত্র আর মেখলা চাদরের গল্প, পুজোয় ঘুরে আসুন সবুজঘেরা শুয়ালকুচি...

পুজোয় ঘুরে আসুন সবুজঘেরা শুয়ালকুচি

পুজোয় ঘুরে আসুন সবুজঘেরা শুয়ালকুচি

Durga Puja 2021: খানিক গিয়ে মোড় ঘুরতেই তাঁর দেখা মিলবে। একটু দূরত্ব রেখে পাশ ঘেঁষে নিজের খেয়ালে এগিয়ে চলেছেন ব্রক্ষ্মপুত্র (Brahmaputra River)। খুবই শান্ত, খুবই একা।

  • Share this:

#গুয়াহাটি: অসমের (Assam) গুয়াহাটি শহরে বেড়াতে গেলে আপনি নিশ্চই শহরের বুকেই কোথাও থাকতে পছন্দ করবেন। অথবা রেলওয়ে স্টেশন বা বিমানবন্দর লাগোয়া কোনও হোটেলে। সেখান থেকেই সারবেন কামাখ্যা মায়ের দর্শন। শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে খানিকটা দূরে দেশের একমাত্র নবগ্রহ মন্দিরটিও কিন্তু দেখার মতো। বিশেষ বিশেষ দিনে ভীড়ও হয় খুব। পরদিন হয়তো রওনা দেবেন কাজিরাঙ্গার পথে। আর ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra River)? সে তো আছেই। তার বিশাল, ব্যাপক চেহারা তো আর লুকিয়ে রাখার নয়। যাতায়াতের পথে উঁকি ঝুঁকি মারতেই থাকবে নজর কাড়তে।

আরও পড়ুন: চেনা আবহেই 'অচেনা' সাজ, করোনাকালে সেজে উঠছে লস এঞ্জেলেসের BASC-র প্রবাসী পুজো...

এই সাজানো ভ্রমণপথকেই যদি একটু এলোমেলো করে দিতে চান কিংবা যদি নদী নিয়ে আপনার মনের কোণে দুর্বলতা থেকে থাকে, অথবা আপনার শহুরে মন যদি শহরবিমুখ হতে চায়, ভালো কিছু পাওয়ার জন্য সময় আর পকেটের সঙ্গে একটু সমঝোতা করতে রাজি থাকে, তাহলে চলুন শুয়ালকুচি। পুজোয়  (Durga Puja 2021) এবার ঝট করে ঘুরে আসুন এই নিরিবিলি শুয়ালকুচি (Sualkuchi) থেকে।

গুয়াহাটি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে সবুজ মোড়া শুয়ালকুচি গ্রাম (Sualkuchi)। স্থানীয়রা বলেন হুয়ালকুসি। মূলত মুগা, এরি সিল্ক ও সাদা পাটের জন্য এই গ্রাম বিখ্যাত। ওখানেই তৈরি হয় অথেন্টিক অসম সিল্ক আর তাই দিয়ে বোনা হয় অপূর্ব কারুকাজের মেখলা-চাদর। এই মিশেলের যুগে মূল শহরে যার গুণগত মান ও দাম দুয়েরই ফারাক রয়েছে বিস্তর। পাশ ঘেঁষে যাওয়া রাস্তার নাম 'সিল্ক রুট'। ৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই অঞ্চল হস্তশিল্পের খনি। বলা হয় ম্যানচেস্টার অফ অসম (Assam)।

এ যেন এক অন্য নদী। ব্যাকরণ মেনে বলতে হয়, 'নদ' এ যেন এক অন্য নদী। ব্যাকরণ মেনে বলতে হয়, 'নদ'

সরাইঘাট ব্রিজ পেরিয়ে একটু এগোলেই সুদীর্ঘ, ছিমছাম রাস্তা এঁকেবেঁকে এগিয়ে চলেছে। আগাগোড়া পিচবাঁধানো মসৃন রুট বলে দেয় 'সিল্ক' নামটা নেহাতই কাকতালীয় নয়। দুপাশে ইতস্তত বাড়িঘর আর চোখে ধাঁধা লাগানো সর্ষের খেত। খানিক গিয়ে মোড় ঘুরতেই তাঁর দেখা মিলবে। একটু দূরত্ব রেখে পাশ ঘেঁষে নিজের খেয়ালে এগিয়ে চলেছেন ব্রক্ষ্মপুত্র (Brahmaputra River)। খুবই শান্ত, খুবই একা।

এ যেন এক অন্য নদী। ব্যাকরণ মেনে বলতে হয়, 'নদ'। শহরের বুক চিরে এগিয়ে যাওয়া সেই সদর্প ঘোষণা, সেই বিশালতা, সেই ব্যাপকতা আর নেই। এখানে তিনি স্পষ্টতই বৃদ্ধ হয়েছেন। আরও যেন গম্ভীর, আরও যেন উদাসীন। খানিকটা গেলেই জি পি এস জানিয়ে দেবে আপনি পৌঁছে গেছেন আপনার গন্তব্যে, 'সিল্ক রুট রেসর্ট এন্ড স্পা'। এছাড়াও রয়েছে, 'রিভার ডিংগাল'। থাকার মতো জায়গা বলতে ওই দু-একটিই। মোরাম বেছানো মেঠো রাস্তা আপনাকে পৌঁছে দেবে রিসর্টের দরজায় যেখানে হাসিমুখে পথ চেয়ে অপেক্ষা করছে কয়েকজোড়া চোখ। আতিথেয়তার উষ্ণতা বুঝিয়ে দেয় আপনি একশো শতাংশ ঠিক জায়গাই বেছেছেন।

মোরাম বেছানো মেঠো রাস্তা আপনাকে পৌঁছে দেবে রিসর্টের দরজায় মোরাম বেছানো মেঠো রাস্তা আপনাকে পৌঁছে দেবে রিসর্টের দরজায়

বা দিকে তাকালেই চোখে পড়বে শান্ত, সমাহিত, ধূসর ব্রহ্মপুত্র। বুকে শুধু প্রজাপতির মতো ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছে দু-চারটে মাছ ধরা নৌকো। আর ঠিক ওখানেই একটা বড়ো কালো পাথরে ধাক্কা খেয়ে নিজের পথ পাল্টে নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র। নদীর পার বরাবর বেশ অনেকটা জুড়েই রেসর্ট। চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো লন। ঝুমকো লতার কেয়ারী করা গেট। তারই পাশ দিয়ে নারকেল আর সুপারি গাছের সারি। রয়েছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ছোটোখাটো সুইমিং পুলও। আর আছে বন-ফায়ার ও ক্যাম্পিং করার সুবন্দোবস্ত।

পরিচর্যা যে হয় তা টের পাওয়া যায় ভোরবেলায়। আলো ফুটতে না ফুটতে সক্কাল সক্কাল কাজে লেগে পরে মৃণাল, আসিফুলরা। আর সবসময় আপনার দরকার-অদরকারে জিনির মতো এসে হাজির হন রতন দত্ত। সম্ভবত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য সুবিধে-অসুবিধের খেয়াল রাখার দায়িত্বে আছেন তিনি।

সকাল সকাল প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন তাঁতিদের গ্রাম দেখতে। শপিংয়ের ইচ্ছে থাকলে রথ দেখা আর কলা বেঁচা দুই-ই সেরে ফুল, পাখি, গাছ আর পরিপাটি পথঘাট দেখতে দেখতে রিসর্টে ফিরুন। জমিয়ে দুপুরের খাওয়া সেরে নিয়ে, রোদ গায়ে জড়িয়ে নদীর পার ধরে খানিক হেঁটে আসলেও মন্দ লাগবে না। সাবধান, নদীর পারের মাটি কিন্তু নরম!

পরদিন চাইলে কামাখ্যা দর্শনও সারতে পারেন ভোর ভোর বেরিয়ে। তারপরে বেরিয়ে পড়তে পারেন কাজিরাঙ্গার পথে। গাড়ির ব্যবস্থা নিয়ে ভাববেন না। রতনবাবু আছেন তো!

Published by:Sanjukta Sarkar
First published:

Tags: Durga Puja 2021, Durga Puja Travel, Guwahati, Travel

পরবর্তী খবর