উঠোনে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশাল কুমির! রাতে ঘুম থেকে উঠে চোখ কপালে, তারপর?

রাতে জলবিয়োগে উঠোনে যেতেই চোখে পড়ল ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশাল কুমির, তার পর?

নদীর ধারে গ্রাম হওয়ায় মানুষের ঘরে মাঝে মাঝেই হানা দেয় কুমির, এবার যেমনটা ঘটেছে রামদীন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে!

  • Share this:

#লখনউ: প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর ডমরুধর সিরিজের কুম্ভীর বিভ্রাট গল্পের শেষে জানিয়েছিলেন যে কুমির মেরে ফেলার পর দেখা গেল তার পেটের ভিতরে বসে আছে এক সাঁওতাল রমণী, কুমির কয়েক দিন আগে যাকে গিলে খেয়েছিল সেই মহিলার সব গয়না সে গায়ে পরেছে, তার পর কুমিরের পেটের ভিতরে নিজের ঝুড়ি উপুড় করে ডাঁই করে সাজিয়ে বেগুন বেচছে! এমন হলে যেমন চোখ কপালে ওঠে, বাস্তবেও কিন্তু মানুষের কুম্ভীর নিয়ে বিভ্রাটের আশ্চর্য কাহিনি বড় কম নয়! যার এক ঝলক এবার দেখা গেল উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরির অন্তর্গত মুন্না পুরওয়া গ্রামের বাসিন্দা রামদীনের বাড়িতে!

জানা গিয়েছে যে রামদীন রাত ১টা নাগাদ জলবিয়োগের জন্য ঘুম থেকে উঠেছিলেন! ঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনে নামতে যেতেই তাঁর মনে হয় যে অন্ধকারে কী একটা বিশাল আয়তনের যেন একটু-একটু নড়াচড়া করছে! ভয়ে তিনি আর উঠোনে নামার সাহস করেননি, ঘরের ভিতর ঢুকে টর্চ নিয়ে আসেন। তার পর আলো ফেলতেই দেখা যায় যে উঠোনে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রমাণ আয়তনের এক কুমির! রামদীনের ডাকে এর পর একে একে বাড়ির অন্য লোকেরাও ঘুম থেকে উঠে পড়েন, একে একে সবাই এসে জড়ো হন দাওয়ায়। তাঁরা প্রাথমিক ভাবে শোরগোল করে কুমিরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে কাজ হয় না বলেই জানা গিয়েছে!

এর পর আর রামদীনের পরিবারের সদস্যেরা বাড়িতে থাকার ঝুঁকি নেননি, কোনও মতে বেড়া ডিঙিয়ে তাঁরা প্রতিবেশীর বাড়ি চলে যান। অন্য দিকে, খবর পেয়ে দলে দলে রামদীনের বাড়িতে এসে জড়ো হন গ্রামবাসীরা, তাঁরা বন দফতরকে খবর পাঠিয়ে কুমিরটিকে ঘিরে বসে থাকেন। অবশেষে ভোর ৫টা নাগাদ বন দফতরের কর্মীরা এসে প্রায় ঘণ্টাখানেকের টানাপোড়েনের পরে কুমিরটিকে বন্দি করতে সক্ষম হন। জানা গিয়েছে যে তাকে নিকটবর্তী শারদা নদীতে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়েছে! বন দফতর এবং গ্রামবাসী উভয় তরফেই জানা গিয়েছে যে নদীর ধারে গ্রাম হওয়ায় মানুষের ঘরে মাঝে মাঝেই হানা দেয় কুমির, এবার যেমনটা ঘটেছে রামদীন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে!

Published by:Pooja Basu
First published: