Home /News /life-style /

Covid-19 Recovery: কোভিড জয় করার পরেও হারিয়ে যাচ্ছে ঘ্রাণের অনুভূতি? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

Covid-19 Recovery: কোভিড জয় করার পরেও হারিয়ে যাচ্ছে ঘ্রাণের অনুভূতি? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

Smell loss after covid recovery: কোভিড-এর মতো মারণ ভাইরাসকে তুড়ি মেরে হারিয়ে দিলেও ঘ্রাণশক্তি আচমকাই উধাও হয়ে যাচ্ছে বহু রোগীর ক্ষেত্রেই।

  • Share this:

#কলকাতা: চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে গোটা দেশ জুড়ে দাপট চালিয়েছিল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ (Covid-19 Recovery)। সেই সময় তৈরি হয়েছিল এক চরম পরিস্থিতি। আমরা দেখেছি, হাসপাতালে বেডের জন্য কান্নাকাটি করছে মানুষ, বেড না-পেয়ে রাস্তাতেই মৃত্যু হচ্ছে মানুষের আর অক্সিজেনের জন্য হাহাকার তো ছিলই! অর্থাৎ করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের দাপটে বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুও হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। তার পর থেকে কেটে গিয়েছে কয়েক মাস। পরিস্থিতি বেশ নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সংক্রমণও নিম্নমুখী। ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দেশের মানুষ। বিধিনিষেধের গেরোও শিথিল হচ্ছে।

এ দিকে আবার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে উদ্বেগে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু এটাই নয়, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর থেকে কোভিড ১৯ সংক্রমণের একটা উপসর্গ চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশেষজ্ঞদের (Covid-19 Recovery)। আসলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় যাঁরা করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাঁরা লক্ষ্য করেছেন যে, তাঁদের মধ্যে গন্ধের অনুভূতি আচমকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। সহজ ভাবে বলতে গেলে, কোভিড-এর মতো মারণ ভাইরাসকে তুড়ি মেরে হারিয়ে দিলেও ঘ্রাণশক্তি আচমকাই উধাও হয়ে যাচ্ছে বহু রোগীর ক্ষেত্রেই (smell loss after covid recovery)। আর এটা কোভিড সংক্রমণের অন্যতম উপসর্গ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে কোভিড সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও ফিরে আসছে না গন্ধের অনুভূতি।

গন্ধের অনুভূতিহীনতা কোভিড ১৯-এর অন্যতম পরিচায়ক:

আসলে কোভিড ১৯-এর উপসর্গ এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য উপসর্গ অনেকটা একই রকম হয়ে থাকে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হন এবং রোগ নির্ণয়েও বেশ সমস্যা হয়ে থাকে (smell loss after covid recovery)। তবে উপসর্গে ঘ্রাণ সংক্রান্ত পরিবর্তনই বুঝিয়ে দেবে, রোগী আদৌ সার্স-সিওভি-২ ভাইরাসে আক্রান্ত কি না। অর্থাৎ কারওর সাধারণ ফ্লু হয়েছে না কোভিড হয়েছে, সেটা বোঝা কঠিন। কিন্তু যদি রোগীর গন্ধের অনুভূতি হারিয়ে যায়, তবে নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে যে, তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন।

সেরে ওঠার পরেও গন্ধের অনুভূতিহীনতা:

দীর্ঘ দিন ধরে কোভিড থাকলে বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই এই রোগের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। দেখা দিতে পারে, গুরুতর সব উপসর্গ। এমনকী হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে রোগীকে (smell loss after covid recovery)। তবে এই সব উপসর্গ থেকে প্রমাণিত যে, এই সংক্রমণের প্রভাব পড়ে আমাদের স্মেল রিসেপ্টরগুলির উপর। যার কারণে পরিবর্তন আসে আমাদের সেনসরি অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির মধ্যে। যদিও গবেষকেরা জানাচ্ছেন যে, এই মেকানিজমটা পুরোপুরি বুঝতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সার্স-সিওভি-২ ভাইরাস এমন সমস্ত কোষকে আক্রমণ করে বসে, যেগুলি নাকের সমস্ত নিউরোনকে সহায়তা করে। যার ফলে হারিয়ে যায় গন্ধের অনুভূতি। কোভিড থেকে সেরে উঠতে শুরু করলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ধীরে ধীরে গন্ধের অনুভূতি ফিরে আসতে শুরু করে। বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এমনটাই দেখা যায়। তবে গবেষণায় এই উপসর্গেরই মারাত্মক দিকটা উঠে এসেছে। সেন্ট লুইয়ের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষকের হাতে কিছু তথ্য উঠে এসেছে। তাতে জানা গিয়েছে, আমেরিকার প্রায় ৭ লক্ষ থেকে ১৬ লক্ষ মানুষ নিজেদের গন্ধের অনুভূতিতে বদল লক্ষ্য করেছেন। যা প্রায় ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল।

আরও পড়ুন - হাই রিস্ক জোনে রয়েছেন প্রিয়জন? Coronavirus-এর পরিস্থিতিতে কী ভাবে যত্ন নেবেন তাঁদের?

গবেষণা:

জেএএমএ ওটোল্যারিঙ্গোলজি- হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি শীর্ষক জার্নালে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৭ মার্চ পর্যন্ত সময়ে আমেরিকায় কোভিড ১৯-এর কতগুলি কেস হয়েছিল, তার উপর ভিত্তি করে সেই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। আর এই রিপোর্ট বানাতে সাহায্য নেওয়া হয়েছে কোভিড ট্র্যাকিং প্রোজেক্টের। এই গবেষণার সঙ্গে আরও দু'টি গবেষণাপত্রের তুলনা করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে যে, ৫২.৭ শতাংশ মানুষ কোভিডের জেরে গন্ধের অনুভূতি হারিয়েছেন এবং ৯৫.৩ শতাংশ মানুষ সেরে ওঠার পরে গন্ধের অনুভূতি ফিরেও পেয়েছেন। পাশাপাশি, যাঁদের গন্ধের অনুভূতি হারিয়ে গিয়েছে, তাঁদের কত জনের আর সেই অনুভূতি ফিরে আসেনি, সেই দিকটাও গবেষকরা এই গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষয়টাই সব থেকে বেশি উদ্বেগের। তাই কোভিড-১৯ সংক্রমণের চিকিৎসার পাশাপাশি এই গন্ধের অনুভূতিহীনতার বিষয়টিও ভালো ভাবে বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। এই গবেষণার সহ-লেখক জে এফ. পিছিরিল্লো জানিয়েছেন, ঘ্রাণ সংক্রান্ত সমস্যার জন্য ডাক্তারের দ্বারস্থ হচ্ছেন রোগীরা। আর এমন রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই এই কারণেই এই বিষয়টা বারবার ভাবিয়ে তুলছে বিশেষজ্ঞদের। ফলে বিশদে গবেষণা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন - লেবুর জল না মেথির জল, ওজন কমাতে কোনটা সেরা? বিভ্রান্তিতে না ভুগে জেনে নিন এখনই

দীর্ঘমেয়াদে গন্ধের অনুভূতিহীনতা কেন উদ্বেগের কারণ?

গন্ধের অনুভূতিহীনতাকে কোভিড ১৯ সংক্রমণের মৃদু উপসর্গ হিসেবেই ধরা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এর সে রকম কোনও মারাত্মক পরিণতি নেই বললেই চলে। তবে অনেকেই বহু সমস্যা এড়িয়ে যান। ফলে গন্ধের অনুভূতিহীনতাকেও সে ভাবে গুরুত্ব দেন না বহু রোগী। কিন্তু এটা যথেষ্টই চিন্তার বিষয়। কারণ এখান থেকেই নানান রকম সমস্যা হতে পারে রোগীর। শুধু তা-ই নয়, রোগীর জীবনেও গন্ধের অনুভূতিহীনতা নানা ভাবে প্রভাব ফেলে। গবেষকদের বিশ্বাস, এই গন্ধের অনুভূতিহীনতা আপাত দৃষ্টিতে গুরুতর না-হলেও এটা যথেষ্টই উদ্বেগের বিষয়। কারণ রোগীর ক্ষতি করে এই উপসর্গ। কিন্তু গন্ধের অনুভূতিহীনতা কেন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? আসলে বহু গবেষণা এবং সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, গন্ধের অনুভূতিহীনতা খাওয়ার অভ্যেসের উপর প্রভাব ফেলে এবং যার জেরে রোগীর ওজন কমতে শুরু করে। আসলে গন্ধের অনুভূতি হারিয়ে যাওয়ার কারণে খাবার খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যেতে বাধ্য।

গন্ধের অনুভূতি কী ভাবে ফিরে আসতে পারে?

দুর্ভাগ্যবশত, এখনও পর্যন্ত ঘ্রাণজনিত এই সমস্যা বা ক্রনিক অলফ্যাক্টরি ডিজফাংশন (COD)-এর কোনও রকম চিকিৎসা নেই। আর এই সমস্যা সারিয়ে তুলতে এবং রোগীর ঘ্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট কোনও থেরাপি অথবা ওষুধও নেই। তবে স্মেল ট্রেনিং-কে এই ধরনের চিকিৎসায় দারুণ একটা টোটকা হিসেবে গণ্য করা হয়। কী এই স্মেল ট্রেনিং? এই ধরনের ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে চারটি সিরিজের তীব্র গন্ধ ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের থেরাপিতে বিশেষ করে চার রকমের এসেন্সিয়াল অয়েলই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে রোগীকে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড মতো সময় ধরে প্রতিটি ঘ্রাণ গ্রহণ করতে বলা হয়। নিয়মিত ভাবে এই স্মেল ট্রেনিং ঘ্রাণ শক্তি ফিরিয়ে আনতে বেশ কার্যকরী বলেই প্রমাণিত। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, আসলে বারবার এই চার ধরনের ঘ্রাণ গ্রহণ করতে থাকলে ধীরে ধীরে রোগীর ঘ্রাণশক্তি ফিরে আসবে এবং রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

Published by:Ananya Chakraborty
First published:

Tags: Coronavirus, COVID-19, Health Tips

পরবর্তী খবর