ওয়ার্ক ফ্রম হোম আর বেশিদিন নয় ! বদলাতে চলেছে ওয়ার্ক কালচারের ভবিষ্যৎ !

ওয়ার্ক ফ্রম হোম আর বেশিদিন নয় ! বদলাতে চলেছে ওয়ার্ক কালচারের ভবিষ্যৎ !
৫৩ শতাংশ মানুষের দাবি, প্যানডেমিকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের কেরিয়ার। তবে মহিলাদের জন্য আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি।

৫৩ শতাংশ মানুষের দাবি, প্যানডেমিকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের কেরিয়ার। তবে মহিলাদের জন্য আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি।

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: নিউ নর্ম্যাল সেই অর্থে আর নতুন নয় আমাদের কাছে। ভ্যাকসিনের ভরসায় ধীরে ধীরে এই জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন মানুষজন। অনেকাংশে এখনও ওয়ার্ক ফ্রম হোম চললেও, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বদল এসেছে। দীর্ঘ ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে অনেকেই কাজে যোগ দিয়েছেন। ফিরেছেন অফিসে। ফিরেছেন তাঁদের চেনা ডেস্কে। তাহলে কি ফের অফিস জীবন শুরু হতে চলেছে? ওয়ার্ক ফ্রম হোমের দিন শেষ? কী বলছেন বিশেজ্ঞরা? আসুন জেনে নেওয়া যাক!

এ নিয়ে মার্কেট রিসার্চ কোম্পানি YouGov-এর সঙ্গে News18-এর এক যৌথ সমীক্ষায় একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। অনেকেই ফের অফিসে ফেরার ইচ্ছে জাহির করেছেন। অফিসে বসে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারির মধ্যে সমীক্ষাটি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সমীক্ষায় ১০০০ জনের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতি দশ জনের মধ্যে সাতজনই অফিসে ফেরার কথা জানিয়েছেন।

তবে, এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। আর সব চেয়ে বড় কারণটি হল ওয়ার্ক ফ্রম হোমের একঘেয়েমি আর ব্যক্তিগত জীবনে এই ওয়ার্ক কালচারের ভয়ঙ্কর প্রভাব। গত বছর অগাস্ট মাসে এক সাক্ষাৎকারে শিকাগোর লয়োলা ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের (Psychiatry and Behavorial Neurosciences বিভাগ) চেয়ারম্যান মুরলি রাও (Murali Rao) জানান, ওয়ার্ক ফ্রম হোমের জেরে মানুষজনের পার্সোনাল বাউন্ডারি শেষ হয়ে গিয়েছে। কাজও ব্যক্তিগত জীবন গুলিয়ে গিয়েছে। আগে রেডি হয়ে অফিস যাওয়া-আসার পথে মানুষ আলাদাভাবে চিন্তা করার সুযোগ পেত। অফিস ও বাড়িকে আলাদা করার চেষ্টা করত। এখন বাড়িতেই অফিস। একই পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর আলাদা কাজের সময়। এর পর রান্না-বান্না, ছেলে-মেয়েদের সামলানো আরও নানা কাজ। কাজেই সব কিছু গুলিয়ে যাচ্ছে। আর সময়ের অভাব থেকেই রাগ, ক্ষোভ, উদ্বেগ, মানসিক অবসাদ জন্ম নিচ্ছে। অধিকাংশই একটি সমস্যার সম্মুখীন।


মাঝে মাইক্রোসফটের (Microsoft) তরফে একটি ওয়ার্ক ট্রেন্ড রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছিল, ক্রমবর্ধমান এই অবসাদের কারণ হল পেশাগত কাজ ও ব্যক্তিগত সময় গুলিয়ে ফেলা। কোথাও যেন এই দু'টি বিষয় একে অন্যকে প্রভাবিত করছে। আর এর জেরে দৈনন্দিন জীবনে ভালো থাকাটা ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অফিস চলাকালীন অন্যান্য বিষয়গুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে । ফলে বাড়ছে কাজের সময়। এক্ষেত্রে নানা বিষয়ে অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনও কাজের সময়ে প্রভাব ফেলছে। ভারতের প্রায় ২৩ শতাংশ কর্মীদের কথায়, ওয়ার্ক ফ্রম হোমে কাজের থেকে বেশির ভাগ সময় নানা কনফারেন্স ও মিটিংয়েই কাটছে। আর দিনের শেষে কাজ সম্পূর্ণ করতে গিয়ে কাজের সময় বাড়ছে। এর পর পরিবারকে সময় দিতে সমস্যা হচ্ছে। আদতে বাড়ছে অবসাদ। অযথা ঝামেলায় জড়াতে হচ্ছে।

ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সমস্যাগুলির তালিকায় অন্যান্য বিষয়ের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা, দীর্ঘ কথোপকথন ছাড়াও আরও একটি বড় সমস্যার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কাজের সময় বাড়ছে। হার্ভার্ড বিজনেস স্টাডির গবেষণাতেও বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বজুড়ে ১৬টি শহরের ৩ মিলিয়ন লোকের উপরে গবেষণা চালানো হয়েছিল। সেই সূত্রে জানা যায়, দৈনিক গড় কাজের সময় ৮.২ শতাংশ অর্থাৎ ৪৮.৫ মিনিট বেড়ে গিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে আর এক সমীক্ষায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে ৫৩ শতাংশ মানুষের দাবি, প্যানডেমিকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁদের কেরিয়ার। তবে মহিলাদের জন্য আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি। গত বছরেরই এক সমীক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি দু'জন ভারতীয় মহিলার মধ্যে একজন (প্রায় ৪৭ শতাংশ) অবসাদ বা উদ্বেগে ভুগছেন। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা একটু কম।

তবে এর মাঝেই নতুন বছর শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়েছে। সংক্রমণও নিম্নমুখী। অনেকে আবার সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ক ফ্রম হোম জারি রাখার পক্ষে সওয়াল করেছন। এ নিয়ে মিশ্র মতামত স্পষ্ট বিশেষজ্ঞ মহলেও। অনেকেই এই ওয়ার্ক সিস্টেমকে সমর্থন করেছেন। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক অনলাইন প্যানেলে বিল গেটস (Bill Gates) জানিয়েছিলেন, আমার মনে হয় এপর্যন্ত ঠিকঠাক ভাবেই কাজ করেছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম কালচার। প্যানডেমিক পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পরও বেশ কিছু সংস্থা এই সিস্টেম চালিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে করোনা ভয় কাটিয়ে সব কিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। তাহলে কী হবে? আগামী দিন এই প্রশ্নের উত্তর দেবে। বোঝা যাবে কোন পথে এগোচ্ছে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ভবিষ্যৎ!

Published by:Piya Banerjee
First published:

লেটেস্ট খবর