করোনাকালে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে কতটা বেড়েছে কাজের সময়? বলে দিচ্ছে সমীক্ষা

করোনাকালে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে কতটা বেড়েছে কাজের সময়? বলে দিচ্ছে সমীক্ষা
ওয়ার্ক ফ্রম হোমে বাড়ছে কাজের সময়

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ওয়ার্কিং ফ্রম হোমের ক্ষেত্রে কম-বেশি প্রত্যেকেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা বেশি সময় দিচ্ছেন অফিসকে। নর্ড ভিপিএন টিমস নামে ওই সংস্থার সমীক্ষায় অন্তত এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

  • Share this:

    #লন্ডন: করোনার কালবেলায় বাড়ি বসেই প্রায় এক বছরের মতো সময় কাজ করছেন বেশিরভাগ মানুষ। ১০/১০ ঘরের কোণই কখনও হয়ে উঠছে অফিসের ব্যস্ততম কর্নার, আবার সেই ঘরেই খানিক বাদে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত ঘুমের বাসর। আপনি কি মনে করেন যে, ওয়ার্ক ফ্রম হোমে আপনি বাড়িতে সময় দিতে পারছেন? নাকি মনে হচ্ছে অফিসকেই অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে আপনার? সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের একটি ভিপিএন (VPN) অর্থা‍ৎ ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক প্রদানকারী সংস্থার সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ রিপোর্ট।

    সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ওয়ার্কিং ফ্রম হোমের ক্ষেত্রে কম-বেশি প্রত্যেকেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা বেশি সময় দিচ্ছেন অফিসকে। নর্ড ভিপিএন টিমস নামে ওই সংস্থার সমীক্ষায় অন্তত এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ইউনাইটেন কিংডম, অস্ট্রিয়া, কানাডা ও আমেরিকায় সমীক্ষা চালিয়েছেন তাঁরা। তাতেই এই রিপোর্ট উঠে এসেছে তাঁদের হাতে। ভারতের অবস্থাও হুবহু এক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রায় ১০ হাজার কোম্পানির কর্মীদের ভিপিএন পরিষেবা প্রদান করে এই নর্ড ভিপিএন সংস্থাটি। তাঁদের সমীক্ষাতেই ধরা পড়েছে অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করছেন কর্মীরা। অফিসের বেরনো, কলিগদের সঙ্গে কথা, বন্ধুতা, আড্ডা কমে যাওয়ায় বাড়ছে মানসিক রোগের সমস্যাও। কর্মব্যস্ত মানুষ অনেক বেশি অবসাদেও ভুগছেন।

    লকডাউন শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রথম এই ওয়ার্ক ফ্রম হোম নিয়ে একটা 'থ্রিল' ছিল। বাইরে যাওয়া নেই, বাসে-ট্রামে-ট্রেনে গুঁতোগুতি নেই। আরাম সে সোফায় ঠেসান দিয়ে কম্পিউটার অন করলেই 'জিনের' মতো নিমেষে আপনি পৌঁছে যাচ্ছেন অফিসের কিউবিকলে। প্রয়োজন মতো ঘড়ি ধরে অনলাইন মিটিং-মিছিল হচ্ছে। ভালোই কাটছে দিনগুলো। টুক করে বেরিয়ে দোকানটা-বাজারটাও হয়ে যাচ্ছে। গৃহস্থালির কাজে আরও অ্যাক্টিভ পার্টিসিপেশন দিতে পারায় গিন্নিও খুশি, সংসারেও অপার শান্তি। আবার গিন্নিদের ক্ষেত্রে বাড়ির অন্যরা খুশি থাকায়, স্বামীর মেজাজও ঠান্ডা।


    যদিও সমীক্ষা বলছে, এই ওয়ার্ক ফ্রম হোম আসলে 'কাঁটার মুকুট' হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের কাছেই। অনলাইনে কাজ করতে হওয়ায় দৈনিক 'অফিসটাইম' একটু-একটু করে বেড়েই চলেছে বিশ্ববাসীর। বেশিরভাগ দেশে 'অফিস আওয়ার্স' বেড়ে গিয়েছে দৈনিক সবচেয়ে কম ৩২ মিনিট। অঙ্কের বিচারে যার জেরে সপ্তাহে এক দিন 'ডে-অফ' ধরলে, ২৬ দিনের মাসে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বা পাক্কা দু'দিন অজান্তেই বেশি কাজ করছেন ভারতবাসী। 'মি-টাইম' কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেতনটাও কিন্তু আগের জায়গাতেই রয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে কাজ এবং কর্মী দুয়েরই ধরন বদলাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পমহলের একাংশ। তাঁদের অনুমান, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমবে। তার বদলে অনেকেই কিছু দিন এই সংস্থায়, কিছু দিন আর এক সংস্থায় কাজ করবেন। কিংবা বাড়িতে বসে একই সঙ্গে একাধিক সংস্থার জন্য 'ফ্রিলান্সার'-এর মতো কাজ করবেন।

    Published by:Raima Chakraborty
    First published: